সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২

জামালগঞ্জে হাওরে লাউ চাষে সফল কৃষাণী মর্জিনা

জামালগঞ্জে হাওরে লাউ চাষে সফল কৃষাণী মর্জিনা

সংগৃহীত

বাড়ি চারপাশে দেড় বিঘা জমিতে লাউ চাষ করে সফল হয়েছে কৃষাণী মর্জিনা বেগম। তিনি জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামের সাইদুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি এক বিঘা জমিতে মরিচ, এক বিঘা জমিতে দেড়শ, দুই বিঘা জমিতে বাদাম, দুই বিঘা জমিতে ধান চাষ সহ দেড় বিঘা জমিতে লাউ চাষ করেছেন। 

লাউ চাষে তার খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। বাজারে লাউয়ের পর্যাপ্ত চাহিদা থাকায় তিনি দুই মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। আরো ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার লাউ বিক্রির আশা করছেন। 

মর্জিনা বেগমের কম খরচ ও অল্প সময়ে এমন লাভের হিসাব দেখে বিলকিস বেগম ও রুজিনা আক্তার সহ আরো অনেক কৃষাণী লাউ সহ সবজি চাষ করেছেন। একজন সফল সবজি চাষী হিসেবে মর্জিনা এলাকায় সবার নজরে পড়েছেন। এবার প্রায় ৩ মাসের মধ্যে লাউ চাষে অভাবনীয় লাভ পেয়ে খুশি মর্জিনা। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাওরে নতুন বাড়ির দুই পাশে লাউ মাচায় ঝুলছে লম্বা ও সবুজ রঙের লাউ। দেখলে যে কোন মানুষের চোখ জুড়িয়ে যায়। মর্জিনা বেগম বলেন, প্রতিটি লাউ ২৫ থেকে ৩০ টাকায় পাইকারি দরে বিক্রি করেছেন। লাউ ক্ষেতে জৈব সারে সাথে সামান্য রাসায়নিক সার ব্যবহার করেছেন। তাছাড়া তেমন কোন কীটনাশক ঔষধ ব্যবহার করা হয়নি। 

তিনি আরো জানান, বিষ মুক্ত সবজি ক্ষেতে যেমন সুন্দর, তেমনি বাজারে রয়েছে চাহিদা। মর্জিনা বেগমের স্বামী সাইদুল ইসলাম বলেন, জমির হালচাষ, বীজ বপন ও জৈব সারের কাজ আমি করে থাকি। বাকি চাষে সংসার সামলানোর পাশাপাশি লাউ সহ অন্যান্য ফসল চাষবাদ করে থাকে মর্জিনা। এবার বাজারে লাউয়ের দাম ভাল থাকায় গতবছরের চেয়ে লাভবান হয়েছি। 

তিনি আরো জানান, সবজি উৎপাদনে আমাদের জন্য সরকারি কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। তারা যদি সরকারিভাবে সার, বীজ সহ অন্যান্য সহযোগিতা করতো তাহলে আমাদের মতো চাষিদের সবজি উৎপাদন সহ অধিক পরিমাণে লাভবান হতে পারতাম। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা জানান, এই মৌসুমে লাউ সহ বিভিন্ন সবজি বীজ ৫০ জন কৃষাণীকে দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে ২০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন বাড়ির আঙ্গিনায় মহিলারা লাউ চাষ করে পরিবারের চাহিদা পূরণ করে বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। 

তিনি আরো বলেন, এখন প্রায় সারা বছরেই সবজি চাষ হয়ে থাকে। বর্তমানে কৃষক-কৃষাণীরা জৈব পদ্ধতিতে বিষ মুক্ত সবজি উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে। সেই সাথে লাউয়ের আবাদে অনেক কৃষক-কৃষাণীর বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে বাজারে লাউয়ের চাহিদা বেশি থাকায় কৃষকেরা ন্যায্য দামে লাউ বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। বিভিন্ন প্রণোদনা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে বিভিন্ন সবজি আবাদ বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সূত্র: মানবকন্ঠ

সর্বশেষ:

শিরোনাম:

গাইবান্ধায় আ.লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ, আহত ৩
দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন শুরু আজ, উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা
সেতুর রেলিং ভেঙে নদীতে ট্রাক, দুজনের মরদেহ উদ্ধার
বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণকারীদের প্রতি পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান
তারেক রহমানের সম্পদ বলতে ব্যাংক জমা, শেয়ার ও এফডিআর
১৪ বছর পর যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা
দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা, রাতে বাড়বে শীত
বগুড়ায় ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর হত্যা, মরদেহ উদ্ধার
দুই সম্পাদক-এনসিপির ৬ নেতাসহ ২০ জনকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে
হাদি হত্যার বিচার ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে : আইন উপদেষ্টা