শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

পর্যটন শিল্পের বিকাশে কুয়াকাটায় বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ

পর্যটন শিল্পের বিকাশে কুয়াকাটায় বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ

সংগৃহীত

এবার দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় পর্যটক টানতে চায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এজন্য দেশের দক্ষিণ প্রান্ত পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও বরগুনার আমতলী উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে ৬ কিলোমিটারের একটি বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত গঠিত উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেছে।

কমিটি বিস্তারিত সমীক্ষার পর বিমানবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়ার সুপারিশ করেছে, তাদের এক মতামতের প্রতিবেদনে। সুপারিশে বলা হয়, পায়রা সমুদ্র বন্দরের কার্যকারিতা, কুয়াকাটায় আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্পের বিকাশ, পায়রাবন্দরকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় অন্যান্য শিল্প কারখানা স্থাপনসহ অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধনের বিষয়টি যাচাই করে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য চিহ্নিত করা যেতে পারে।

কমিটির সুপারিশের আলোকেপরবর্তী সময়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত ও পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা। পর্যটন শিল্পের বিকাশে কুয়াকাটাকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু ১৯৯৮ সালে। ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সমুদ্রসৈকতে সূর্যের উদয়-অস্ত দেখা যায়, যা বিশ্বের আর কোথাও এমন সুযোগ নেই।

এর পাশেই রয়েছে দেশের তৃতীয় সামদ্রিক বন্দর পায়রাবন্দর, ১৩০০ মেগাওয়াটের তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন এবং কুয়াকাটায় আছে সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন। সাগরকন্যা খ্যাত কুয়াকাটায় সমুদ্র্রের গর্জন, উথাল-পাথাল ঢেউ, সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, দীর্ঘতম সৈকত আকৃষ্ট করছে দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসুদের। এরই মধ্যে গোটা বিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেছে কুয়াকাটা।

পর্যটকদের কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, খাবার হোটেল। ইতোমধ্যে প্রশাসনিক থানা, পৌরসভা গড়ে তোলা হয়েছে। যোগাযোগব্যস্থার উন্নয়ন ঘটেছে। বেড়েছে সুযোগ-সুবিধা। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের তীরে পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় রয়েছে বিশাল শ্যামলিমার সুন্দরবন; জেলা দুটি অপরূপ প্রকৃতির সাজে সাজানো। পর্যটন শিল্পের রয়েছে অপার সম্ভাবনা।

এ অপরূপ উপভোগ করতে প্রচুর পর্যটক ভ্রমণে আসেন। কিন্তু আকাশ পথের সুযোগ না থাকায় বিদেশের পর্যটকরা সরাসরি আসার সুযোগ পাচ্ছেন না। বিমানবন্দর হলে খুব সহজেই বিদেশিরা এখানে আসবেন। সময় বাঁচাতে কিংবা প্রথম বিমান ভ্রমণের স্বাদ পেতে আসা পর্যটকদের সংখ্যাও বাড়বে। ফলে কক্সবাজারের মতো এই অঞ্চলেরও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে।

এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতেই অন্যান্য পদক্ষেপের সঙ্গে বিমানবন্দর স্থাপন অন্যতম অনুসঙ্গ। এক সময়ের অবহেলিত এ অঞ্চলে বিমানবন্দর হলে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা বাড়বে এবং অর্থনীতির প্রসার ঘটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সুযোগ হবে কর্মসংস্থানেরও।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘পায়রাবন্দর নগরী ও কুয়াকাটা উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ পর্যটনভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প এলাকায় বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রাথমিকভাবে বিমানবন্দরের জন্য স্থানের প্রস্তাব করা হয়েছে- পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও বরগুনার আমতলী উপজেলার চাকামাইয়া, গামুরীবুনিয়া, তারিকাটা, উত্তর টিয়াখালী ও নীলগঞ্জ এ পাঁচটি মৌজা; যা কুয়াকাটার একেবারেই কাছাকাছি।

ভৌগলিক অবস্থানের কারণে জেলা দুটি সর্ব দক্ষিণে এবং বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষা। বিমানবন্দরের স্থান নির্ধারণ করতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) জহিরুল ইসলামকে প্রধান করে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন শেষে গত ২৩ মার্চ কমিটি একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিমানবন্দর নির্মাণে প্রায় ৬ কিলোমিটার অর্থাৎ প্রায় তিন হাজার একর জমির প্রয়োজন হবে; যার অধিকাংশই অধিগ্রহণ করতে হবে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিমানবন্দরের জন্য সম্ভাব্য দুটি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।

স্থানগুলো পাশাপাশি দুটি উপজেলা-পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও বরগুনার আমতলী উপজেলার ৫টি মৌজা। প্রস্তাবিত জমির বেশির ভাগই ফসলি জমি। আছে কিছু খাস জমিও। এছাড়া বসতবাড়ির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। সুউচ্চ তেমন কোনো অবকাঠামো নেই, যা বিমান উড়ার অন্তরায় হবে। এছাড়া নির্বাচনী সীমানা নির্ধারণেও সমস্যা হবে না বলে প্রতিবেদনে মতামত দেয়া হয়। প্রস্তাবিত এলাকার বাতাসের গতিবেগ সম্পর্কে ধারণা পেতে বিগত ৩০ বছরের আবহাওয়ার তথ্য নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: ভোরের কাগজ