সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১

দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘোষণা আসতে পারে আজ

দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘোষণা আসতে পারে আজ

সংগৃহীত

পাবনার রূপপুরে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পর এবার দেশে আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আজ মঙ্গলবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে রূপপুরেই দেশের দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠকে অংশ নিতে রাশিয়া থেকে অ্যালেক্সি লিখাচেভ গতকাল সোমবার ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। বাংলাদেশ এবং রাশিয়ার একাধিক সূত্র দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশেষ বিমানে রাশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর রসাটমের মহাপরিচালক প্রথমেই যান পাবনার রূপপুরে। সেখানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর ঢাকায় ফিরেও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজের অগ্রগতি নিয়ে নির্দিষ্ট সময় পরপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে অবহিত করতে হয়। রুটিন কাজের অংশ হিসেবে রসাটমের মহাপরিচালক বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আজ সকাল ১০টায় তার বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজের অগ্রগতি, সঞ্চালন লাইন, প্রকল্প ব্যয়ের অর্থ প্রদানসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যাতে যথাসময়ে উৎপাদনে আসতে পারে, তা নিয়ে করণীয় বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে দুই দেশের মধ্যে। একাধিক এজেন্ডার মধ্যে রূপপুরে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টিও স্থান পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার বৈঠক শেষে অ্যালেক্সি লিখাচেভ আজই রাশিয়ার উদ্দেশে বিশেষ বিমানে ঢাকা ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে।

পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ করছে রসাটম। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নামে পরিচিতি এ কেন্দ্রটির ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট চলতি বছরে এবং একই ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৬ সালের মধ্যে উৎপাদনে আসবে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন।

বর্তমানে শীতকালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে ১০ হাজার মেগাওয়াট। এবার গ্রীষ্মে তা বেড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট হতে পারে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সক্ষমতা ২৪০০ মেগাওয়াট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববাজারে তেল, গ্যাস ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি ডলার সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানির অভাবে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও গ্রীষ্মে চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় না। তাছাড়া এর উৎপাদন খরচও প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আবার এসব জ্বালানি পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। এসব বিবেচনায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশের সুরক্ষা দেবে। তাছাড়া এর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও কয়লা ও তেলের চেয়ে অনেক কম।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এজন্য চীন আগ্রহও দেখিয়েছিল। কেন্দ্রটি নির্মাণে সম্ভাব্য স্থান নির্বাচনে একটি প্রকল্প নেওয়া হয় যার মেয়াদ শেষ হয় ২০২১ সালের জুনে। প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ১৫টি স্থানের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে পাঁচটি স্থান নির্বাচন করা হয়। যার মধ্যে ছিল বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়ী (পূর্ব), বরগুনা সদর উপজেলার কুমিরমারা ও পদ্মা মৌজা, তালতলী উপজেলার নিশানবাড়ী (পশ্চিম), পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোনতাজ ও রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবি। পরবর্তীকালে আরও কিছু পরীক্ষা, নিরীক্ষা ও সমীক্ষা করা হয় ওইসব স্থানে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই স্থানগুলো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিভিন্ন মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

গত ১১ মার্চ সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) শাপলা হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছি। আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চেষ্টা করেছিলাম দক্ষিণে। কিন্তু সেখানের মাটি এত নরম, প্রত্যেকটি দ্বীপে অনুসন্ধান চালিয়ে আমরা দেখেছি। আসলে সেখানে করা বোধহয় সম্ভব নয়। তবে এখন যেখানে আমরা বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছি সেটার কাজ সম্পূর্ণ সমাপ্ত হওয়ার পর দ্বিতীয়টাও আমরা এই পাবনাতে, এ রূপপুরেই করতে পারব। প্রথমটির কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয়টির কাজ যাতে শুরু করা যায়, সেই ব্যাপারে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে বলেছি।’

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে আগে সারা বিশ্বে নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা থাকলেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে দিন দিন এটি নিরাপদ হয়ে উঠছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৩+ প্রজন্মের রুশ ভিভিইআর রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করা হচ্ছে, যেগুলো সব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে সক্ষম। তাছাড়া চুক্তি অনুযায়ী কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে যে ক্ষতিকর জ্বালানি (স্পেন্ট ফুয়েল) বা পারমাণবিক বর্জ্য তৈরি হবে, তা রাশিয়া কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের দেশে ফেরত নেবে।

পরমাণু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরেনিয়ামের শক্তি অন্যান্য জ্বালানির তুলনায় অনেকগুণ বেশি। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম হলো কয়লা ও জ্বালানি তেলের চেয়ে সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব। দ্বিতীয় আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হলে সেটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী প্রথম তিন বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে জ্বালানি ব্যবহার হবে তা রাশিয়া বিনামূল্যে সরবরাহ করবে। একবার জ্বালানি ভরার পর প্রথম তিন বছরের জন্য বছরে একবার করে (এক-তৃতীয়াংশ) এবং পরবর্তী সময়ে দেড় বছর পরপর জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে। ফলে জ্বালানির কারণে দেশের অন্যান্য কেন্দ্র যেভাবে বন্ধ থাকে, এখানে ওই ধরনের কোনো সংকট তৈরি হবে না।’

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, জাপানসহ বিশ্বের ৩২টি দেশ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করছে। সেই তালিকায় ইতিমধ্যে নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ। গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাশিয়া থেকে প্রথমবারের মতো দেশে আসে পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম। পরদিন কড়া নিরাপত্তায় সেই জ্বালানি পাঠানো হয় রূপপুরে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে সঞ্চালন লাইন পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের কেন্দ্রে জ্বালানি ভরার কোনো সুযোগ নেই। কারণ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অনুমোদন মিলবে না। সেজন্য পিছিয়ে থাকা সঞ্চালন লাইনের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। সঞ্চালন লাইন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি দেখতে আগামী ৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং সঞ্চালন লাইন নির্মাণকাজ সমন্বয় করতে দুই মন্ত্রণালয়ের (বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়) মধ্যে একটা চুক্তি হয়েছে। তারা যে সময়সীমা ঠিক করে দিয়েছে, সেভাবেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ চলছে। কারণ একবার জ্বালানি ভরার পর এর রিঅ্যাকশন শুরু হলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য লাইনের অপেক্ষায় বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

জ্বালানি ভরার পর কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে তিন মাস লাগবে। নিয়ম অনুযায়ী ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়াতে হবে। এভাবে পূর্ণ ক্ষমতায় যেতে আরও সাত মাস সময় লাগবে। সবমিলে জ্বালানি ভরার পর পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ১০ মাস সময় লাগবে।

সূত্র: দেশ রূপান্তর

সর্বশেষ:

শিরোনাম:

পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে স্কুলজীবনের মজার স্মৃতিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা
কাজিপুরে ভার্মি কম্পোস্ট সার বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু
১৪ কিলোমিটার আলপনা বিশ্বরেকর্ডের আশায়
আলো ছড়াচ্ছে কুষ্টিয়ার বয়স্ক বিদ্যালয়
মেয়েদের স্কুলের বেতন না দিয়ে ধোনিদের খেলা দেখলেন তিনি
‘ডিজিটাল ডিটক্স’ কী? কীভাবে করবেন?
তাপপ্রবাহ বাড়বে, পহেলা বৈশাখে তাপমাত্রা উঠতে পারে ৪০ ডিগ্রিতে
নেইমারের বাবার দেনা পরিশোধ করলেন আলভেজ
দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর
ঈদের দিন ৩ হাসপাতাল পরিদর্শন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
আয়ারল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন
জুমার দিনে যেসব কাজ ভুলেও করতে নেই