রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

শেষ অর্থবছরে বেড়েছে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের দাম

শেষ অর্থবছরে বেড়েছে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের দাম

টানা কয়েকবছর দাম কমার পর শেষ অর্থবছরে বেড়েছে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের দাম। এমনই দাম বেড়েছে যে লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়েছে। বিদেশি ক্রেতাদের বাংলাদেশি পোশাকের ওপর চলমান চাহিদা ও যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে দেশীয় পোশাকের দাম বেড়েছে বলে মনে করছেন পোশাক বিশ্লেষকরা। তারা আরো জানিয়েছেন, ডলারের বিপরীতে টাকার মান অবশ্যই কমাতে হবে। সেই সাথে ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা আরো বাড়াতে হবে উদ্যোক্তাদের।

বিজিএমইএর এক পরিসংখ্যান মতে, গেল অর্থবছরে ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল দেশের তৈরি পোশাক খাতে। এতে খাতটির রপ্তানি আয় তিন হাজার ৪১৩ কোটি ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে দাম পড়তির চক্র থেকে বেরিয়ে এসেছে এই খাত। রপ্তানির পরিমাণ ও আয়ের হিসাবে প্রতি ইউনিট পোশাকের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৪২ শতাংশ।

অন্যদিকে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) মার্কিন বাজারে এ খাতের আয় প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ, যা দেশটিতে পোশাক রপ্তানিকারকদের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে ইউরোপের বাজারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ শতাংশের কাছাকাছি, কানাডায় ২৪ শতাংশের বেশি, অপ্রচলিত বাজারে প্রায় ২৪ শতাংশ। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ। তৈরি পোশাক রপ্তানির এমন অর্জনে এ খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর বিশ্লেষণ, উচ্চমূল্যের পোশাক তৈরিতে সক্ষমতা বেড়েছে উদ্যোক্তাদের। সেই সঙ্গে চলমান চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজারসক্ষমতা বাড়াতে সময় এসেছে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমানোর। অন্যান্য প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় টাকা কিছুটা অধিমূল্যায়িত রয়েছে। এটা কমাতে হবে। চলমান কারখানা সংস্কারের সুফল ঘরে তুলতে উদ্যোক্তাদের বাজার চাহিদা বিশ্লেষণে আরও মনোযোগ দেয়ার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।

বাংলাদেশে ক্রমশই গ্রিন ফ্যাক্টরির সংখ্যা বাড়ছে এবং একই সঙ্গে বাড়ছে কমপ্লায়েন্স কারখানা। বাংলাদেশের পোশাক কারখানা সংস্কারের কথা বিশ্বের সবারই জানা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের দামের তুলনায় ইউরোপের বাজারে দাম কম। এর জন্য কূটনীতির জোর দিতে হবে বলে অভিমত এ খাতের ব্যবসায়ীদের।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ জানান, ‘গত কয়েক বছর টেকনোলোজি ইমপ্রুভ হয়েছে। বিল্ডিং সেফটিতে কাজ হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি পণ্যের ডিমান্ডও বেড়েছে। দ্রুত পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার সক্ষমতা বাড়েছে। লিড টাইম কমে এসেছে। শ্রমিকদের দক্ষতার উন্নয়ন হয়েছে। এটা প্রবৃদ্ধি বাড়ার একটা কারণ।’

এ ছাড়া চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ কিছুটা প্রভাব ফেলেছে বলেও মনে করেন এ অর্থনীতিবিদ। এ ছাড়া চীন সম্প্রতি পোশাকশিল্প থেকে অন্য শিল্পে ঝুঁকছে এটাও আরেকটা কারণ। অর্থনীতিবিদের মতে, প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বন্দরে সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়াতে হবে। পণ্য ওঠানো নামানোয় ক্রেনের সুযোগ বাড়াতে হবে। আর সব মিলিয়ে খেয়াল রাখতে হবে বিশ্বে পোশাকশিল্পের ইমেজ যেন নষ্ট না হয়।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ