শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১

অগণতান্ত্রিক দল কীভাবে গণতন্ত্র দেবে, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

অগণতান্ত্রিক দল কীভাবে গণতন্ত্র দেবে, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

অবৈধ প্রক্রিয়ায় যে দলের সৃষ্টি, সেটি কীভাবে গণতন্ত্র দেবে, সে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এমন প্রশ্ন তোলন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যাদের জন্ম অবৈধভাবে, অগণতান্ত্রিকভাবে, তারা কীভাবে গণতন্ত্র দেবে? তারা নাকি আবার গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে! সামরিক একনায়কের হাতে অবৈধভাবে জন্ম নেয়া কোনো দল কখনও গণতন্ত্র দিতে পারে না।’

বিএনপির দমন-পীড়নের অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তার দল বা সরকার কারও ওপর অত্যাচার করেনি, কিন্তু বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছেন। সেনাবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা অফিসার, সৈনিক থেকে শুরু করে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নির্বিচারে ফাঁসি দিয়েছেন, গুলি করেছেন, হত্যা করেছেন। পরিবারগুলো তাদের লাশও পায়নি।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নালিশ করে তাদের ওপরে নাকি খুব অত্যাচার হচ্ছে। অথচ এ দেশে যা অন্যায়, অনাচার, অত্যাচার করেছে, তা সবই করেছে বিএনপি-জামায়াত জোট। বিএনপির শুরুই হয়েছে অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল করার মাধ্যমে। প্রথমে লেবাস পরে ক্ষমতায় যাওয়া, রাজনীতিকে গালি দিয়ে ক্ষমতা দখল করে, আবার সেই লেবাস খুলে নিজেরাই রাজনীতিবিদ হয়ে যাওয়া আর ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে দল গঠন করেছিলেন জিয়া। এখন অবৈধ দখলকারীদের হাতে তৈরি করা যে সংগঠন, তারা নাকি গণতন্ত্র চায়! যাদের জন্মই গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে হয়নি, যাদের জন্ম মিলিটারি ডিক্টেটরের মধ্য দিয়ে, তারা আবার গণতন্ত্র চায়।

‘তারা বলে, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র দেয়নি, তারা গণতন্ত্র দেবে। গণতন্ত্রের জন্য নাকি তারা লড়াই করে। ওদের জিজ্ঞেস করতে হয়, তাদের জন্মটা কোথায়? অবৈধ দখলদারি, এটা তো আমাদের কথা না। আমাদের উচ্চ আদালত বলে দিয়েছে যে, জিয়া-এরশাদ সম্পূর্ণ অবৈধ। তারপর তারাও নাকি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামও করে!’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী। ইনডেমনিটি দিয়ে তার বিচারের পথ রুদ্ধ করা হয়েছিল। আমি তো বিচার চাইতে পারিনি। দেশের মানুষ বিচার পায়নি। তারা আবার গণতন্ত্রের কথা বলে! আমি জানি, অনেক আন্তর্জাতিক শক্তি আছে, এই ধারাবাহিক গণতন্ত্র তাদের পছন্দ হয় না। আর আমাদের কিছু আঁতেল আছে। তাদের তো (গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা) পছন্দই না। তারা মনে করে, একটা অস্বাভাবিক সরকার ক্ষমতায় থাকলে তাদের কদর বাড়ে।

‘কারণ যারা অবৈধভাবে যারা ক্ষমতায় আসে, তাদের কিছু লোক হাতের লাঠি লাগে বা খুঁটি লাগে। সেই লাঠি হতে পারছে না বলেই তাদের মনে খুব দুঃখ।’

সমালোচনাকারী ওই ব্যক্তিদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, ‘তারা সবসময় দেশে এবং বিদেশে বদনাম তো করবেই, আবার দেশের মধ্যেও আজেবাজে লিখে যাচ্ছে যে, কিছুই নাকি হয়নি, কিন্তু বাংলাদেশের একেবারে তৃণমূল মানুষের কাছে যান, তাদের মধ্যে যে আস্থা ও বিশ্বাস আছে, সেটাই আমাদের ধরে রেখে এগিয়ে যেতে হবে।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘বাংলাদেশে স্বাধীনতা ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না। যে অবৈধ শক্তি পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যা করে ক্ষমতায় এসেছিল, তাদের কোনো প্রেতাত্মা যেন আবার দেশের মানুষের স্বাধীনতা নস্যাৎ করতে না পারে, সে জন্য নেতা-কর্মী ও দেশের জনগণকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থেকে দেশের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে।’

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ২১ বছর এবং ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আট বছর; মোট ২৯ বছর বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘কালো অধ্যায়’ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ২০০৮ এর পর, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে সরকারে আসার কারণে ধারাবাহিক গণতন্ত্র রয়েছে, ধারাবাহিক উন্নতি হয়েছে। সারা বিশ্ব বলতে বাধ্য হয়, বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। কালো মেঘ কেটে দেশের মানুষের জন্য আমরা একটা নতুন সূর্যের আলো নিয়ে এসেছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আলোর পথে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ, সেই পথেই এগিয়ে যাবে।

‘বাংলাদেশের মানুষের যে আস্থা-বিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়েই যেন তারা এগিয়ে চলে। কারও মিথ্যা কথায় যেন কেউ বিভ্রান্ত না হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যার যা কিছু আছে তা নিয়ে এ দেশের মানুষ লড়াই করতে নেমে গিয়েছিল। বাংলাদেশের যুদ্ধটা একটি জনযুদ্ধ ছিল। যে যেভাবে পেরেছে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিল।

‘গেরিলা যোদ্ধারা যখন দেশে ঢুকেছে, এ দেশের মা-বোনেরা রান্না করে খাবার দেওয়া, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অবস্থানের তথ্য দেওয়া, সেই কাজগুলো করেছে। একটা জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা এ দেশে বিজয় অর্জন করতে পেরেছি।’

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

সর্বশেষ: