সংগৃহীত
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে যখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন এবং নিরাপত্তা কাঠামোর পরিশুদ্ধি চলছে, তখন একটি বিপজ্জনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে—জাতীয় নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে তথ্যপ্রমাণ আড়াল করে সস্তা আবেগ ও গুজব উস্কে দেওয়ার চেষ্টা। সম্প্রতি বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সুরির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জামাত ও কিছু সুবিধাবাদী রাজনৈতিক বট বাহিনী যে ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করছে, তা শুধু বিভ্রান্তিকরই নয়, সুস্থ তদন্তের পরিপন্থী।
প্রথমেই একটি বিষয় দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে স্পষ্ট করা প্রয়োজন—তাহসিফ সুরির এই অস্বাভাবিক ও রহস্যজনক মৃত্যু যেকোনো সচেতন নাগরিকের কাছে অগ্রহণযোগ্য এবং গভীর বেদনার। একটি সভ্য রাষ্ট্রে যেকোনো নাগরিকের এমন মৃত্যুর নিরপেক্ষ ময়নাতদন্ত ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া আইনগত দাবি। কিন্তু তদন্তের কোনো প্রাথমিক রিপোর্ট আসার আগেই এক শ্রেণির মানুষ তাকে "জুলাই বিপ্লবের অজানা হিরো" হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে হিড়িক তুলেছে, তার পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক অভিসন্ধি।
আদতে ৫ আগস্ট কী ঘটেছিল?
তদন্তের তথ্য বলছে, শেখ হাসিনা যখন কুর্মিটোলা থেকে পালিয়ে যাচ্ছিলেন, সেই দৃশ্য কোনো সাধারণ মোবাইল ব্যবহারকারী বীরত্ব দেখিয়ে তোলেননি। বিমান বাহিনীর নিজস্ব সংরক্ষিত জোন কুর্মিটোলা এয়ারবেইসের অফিসার্স মেসের জানালা থেকে এই ভিডিওটি গোপনে ধারণ করেছিলেন প্রশাসন শাখার ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফী। আর সেই ভিডিওটি ফেসবুকে রিলিজ করেছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সুরি।
এয়ার ইন্টেলিজেন্সের দীর্ঘ অনুসন্ধানে প্রকাশ পায়, এই ভিডিওটি কোনো দেশপ্রেমের জায়গা থেকে ছাড়া হয়নি; বরং শেখ হাসিনার মূল পলায়ন পথ (সি-১৩০-জে বিমানযোগে সাতক্ষীরা হয়ে দিল্লি) থেকে দেশবাসীর নজর ঘুরিয়ে দিতে একটি বিভ্রান্তিকর ডাইভারশন তৈরির কৌশল ছিল এটি।
কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে আসা ‘র’ নেটওয়ার্ক:
এই ভিডিওর উৎস খুঁজতে গিয়েই এয়ার ইন্টেলিজেন্স ও ডিজিএফআই উদঘাটন করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ভেতরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর সুদূরপ্রসারী গোপন নেটওয়ার্ক। আটক করা হয় স্কোয়াড্রন লিডার আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফকে, যার ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বিশেষ বিদেশি অস্ত্র ও কোটি টাকার তহবিল। পরবর্তীতে সামরিক আদালতে (কোর্ট মার্শাল) দোষী সাব্যস্ত হয়ে আলতাফ এখন কাশিমপুর কারাগারে ১০ বছরের সাজা ভোগ করছেন। আর সংশ্লিষ্টতা, গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে রিফাত ও তাহসিফ দুজনকেই চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
আবেগ দিয়ে অপরাধ বা বিতর্ক আড়াল করা যায় না:
তাহসিফ সুরির অতীত চাকরিজীবন, উচ্ছৃঙ্খলতা ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে তার বাহিনীর ক্যারিয়ার শেষ হয়েছিল। এখন তার দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুকে পুঁজি করে একটি গোষ্ঠী তাকে "বিপ্লবের প্রতীক" বানানোর নোংরা খেলায় নেমেছে। এতে করে আসল সত্য যেমন ঢাকা পড়ে যায়, তেমনি জুলাইয়ের রাজপথে বুক পেতে দেওয়া প্রকৃত বীর শহীদদের অবদানকে খাটো করা হয়।
ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের আগে কোনো মৃত্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো চরম দায়িত্বহীনতা। গুজব ছড়িয়ে সাময়িক লাইক-কমেন্ট পাওয়া যায়, কিন্তু সত্যের ইতিহাস পরিবর্তন করা যায় না। দেশপ্রেমিক জনতার দায়িত্ব হলো আবেগের বন্যায় গা না ভাসিয়ে রাষ্ট্রীয় তদন্তের প্রতি আস্থা রাখা এবং ষড়যন্ত্রকারীদের অপপ্রচার রুখে দেওয়া।
#TahsifSouri #BangladeshAirForce #July #Bangladesh #AwamiLeague








