শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১

কদর বেড়েছে গোবর ঘুঁটের

কদর বেড়েছে গোবর ঘুঁটের

সংগৃহীত

পাটকাঠির ওপর গোবরের প্রলেপ দিয়ে বাড়ির উঠানে কিংবা রাস্তার পাশে স্তরে স্তরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে গোবরের ঘুঁটে। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে গ্রামীণ গৃহবধূদের রান্না-বান্নার কাজে ব্যবহৃত জ্বালানী সাশ্রয়ী গোবরের ঘুঁটের কদর বেড়েছে বহুগুণ। মূলতঃ আদিকাল থেকেই এখানকার স্থানীয়দের কাছে এটি গোবরের গৈটা, মুইঠ্যা বা গোবরের আঁটি হিসেবে বেশি সুপরিচিত।

সূত্রমতে, এক সময় গ্রামীণ দরিদ্র গৃহবধূরা বন-জঙ্গলের লতা-পাতা কুড়িয়ে তা রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতেন। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় নানা কারণে বাড়ির পাশের বন-জঙ্গল উজাড় হওয়ার কারণে তীব্র জ্বালানী সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে ধনী ও অপেক্ষাকৃত বড় গৃহস্থ পরিবারের গৃহবধূরা কাঠের লাকড়ি বা সিলিন্ডার গ্যাস দিয়ে রান্না-বান্নার কাজ সম্পন্ন করতে পারলেও চরম বিপাকে পড়েছেন গরিব ও নিম্ন আয়ের গৃহবধূরা। অনেকেই গ্যাস বা গাছের কাঠ-খড়ি ক্রয় করতে না পেরে গৃহপালিত গরুর গোবর দিয়ে লাকড়ি তৈরি করে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করছেন। হাতে তৈরি করা ওইসব গোবরের লাকড়ি বা ঘুঁটে দিয়েই চলে তাদের সারা বছরের রান্নার কাজ।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে দেখা যায়, গ্রামীণ দরিদ্র গৃহবধূরা গরুর গোবর দিয়ে লাকড়ি তৈরি করছেন। কেউ কেউ বাড়ির উঠানে কিংবা রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় বসে ঘোমটা টেনে পরম যত্নে তৈরি করছেন এসব গোবরের ঘুঁটে। এসব গোবরের ঘুঁটে তৈরির প্রধান উপকরণ হচ্ছে গবাদিপশুর গোবর, বালতি ভর্তি পানি, পাটখড়ি ও ধানের তুষ বা কুড়া।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গৃহবধূ জানান, তারা প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে গোয়াল ঘর থেকে গোবর বের করেন। পরে গোবরের সঙ্গে মিশ্রিত করেন পরিমাণ মতো ধানের তুষ বা কুড়া এবং পানি। এরপর ২-৩ ফুট লম্বা পাটকাঠিতে গোবর আটকিয়ে তৈরি করেন লাকড়ি বা গোবরের ঘুঁটে।

তারা আরো জানান, গোবরের তৈরি এসব কাঁচা লাকড়িগুলো শুকানোর জন্য বাড়ির উঠানে আড় বেঁধে রোদে দাঁড় করিয়ে রাখেন। এভাবে কয়েকদিন রাখার পরই শুকিয়ে যায় লাকড়িগুলো। অতঃপর গোবরের তৈরি ওই শুকনো লাকড়িগুলো তারা সারা বছরের জন্যই মজুদ করে রাখেন ঘরের কোণে।

উপজেলার নারায়ন ডহর গ্রামের গৃহবধূ শর্মীলা শীল ও জরিনা আক্তার জানান, তারা সারা বছরই গোবর দিয়ে লাকড়ি তৈরি করে থাকেন। কেননা গোবরের তৈরি লাকড়িগুলো অনেক ভালো জ্বলে এবং মাটির চুলাতেও রান্না করতে অনেক ভালো লাগে। তাই গোবরের লাকড়ি বা ঘুঁটেই তাদের একমাত্র ভরসা। এতে বাড়তি খরচও অনেক কম হয়। ফলে এখন উপজেলার সর্বত্রই গোবরের ঘুঁটের চাহিদা ও কদর দিন দিন বেড়েই চলেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এসএম শাহজাহান কবির জানান, গোবর দিয়ে তৈরি ঘুঁটে বা লাকড়ি এক প্রকার জ্বালানি। যা তৈরি করা খুবই সহজ ও সাশ্রয়ী। তাই গ্রামীণ দরিদ্র নারীরা বিকল্প জ্বালানি হিসেবে গোবরের ঘুঁটে ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে ওঠেছেন। তাছাড়া অব্যাহত জ্বালানি সংকট ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে এখন মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহবধূরাও গোবরের তৈরি ঘুঁটের দিকেই ঝুঁকছেন।

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

সর্বশেষ:

শিরোনাম:

পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে স্কুলজীবনের মজার স্মৃতিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা
কাজিপুরে ভার্মি কম্পোস্ট সার বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু
১৪ কিলোমিটার আলপনা বিশ্বরেকর্ডের আশায়
আলো ছড়াচ্ছে কুষ্টিয়ার বয়স্ক বিদ্যালয়
মেয়েদের স্কুলের বেতন না দিয়ে ধোনিদের খেলা দেখলেন তিনি
‘ডিজিটাল ডিটক্স’ কী? কীভাবে করবেন?
তাপপ্রবাহ বাড়বে, পহেলা বৈশাখে তাপমাত্রা উঠতে পারে ৪০ ডিগ্রিতে
নেইমারের বাবার দেনা পরিশোধ করলেন আলভেজ
দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর
ঈদের দিন ৩ হাসপাতাল পরিদর্শন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
আয়ারল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন
জুমার দিনে যেসব কাজ ভুলেও করতে নেই