রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০

সব নাগরিকের জন্য ‘স্বাস্থ্য কার্ড’ হচ্ছে

সব নাগরিকের জন্য ‘স্বাস্থ্য কার্ড’ হচ্ছে

সংগৃহীত

রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত সব তথ্য ডিজিটাল ডেটাবেইজে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য করা হচ্ছে ‘স্বাস্থ্য কার্ড’। প্রত্যেক রোগীর জন্য থাকবে ডিজিটাল কার্ড। হাসপাতালে গেলে সেই কার্ড সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। এক কার্ডেই রোগীর বিস্তারিত সব তথ্য পাবেন চিকিৎসকরা। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, স্বাস্থ্য কার্ডের জন্য একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করা হবে। সেই ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে নিবন্ধন করলেই স্বাস্থ্য কার্ড পাওয়া যাবে। যারা অনলাইনে নিজে নিবন্ধন করতে পারবেন না, তারা অনুমোদিত সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল থেকে নিবন্ধন করতে পারবেন।

এজন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য জন্ম নিবন্ধনের অনুলিপি নিয়ে হাসপাতালে যেতে হবে। হাসপাতালে স্বাস্থ্য কার্ড তৈরি করে দেওয়ার জন্য নির্ধারিত কাউন্টার থাকবে। সেখান থেকে এই কার্ড বিনামূল্যে করে দেওয়া হবে।

কার্ড চালু হলে রোগীকে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়াটা সহজ হবে। শুরুর দিকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর এবং মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেওয়া হবে এই স্বাস্থ্য কার্ড।

এরপর দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কার্ড দেওয়া হবে। সরকারি হাসপাতালের পর এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হবে অনুমোদিত বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল ইনফরমেশন সার্ভিসেস (এমআইএস) বাস্তবায়ন করছে এই প্রকল্প।

এমআইএসের পরিচালক অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, একজন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম নিবন্ধন কার্ডের সঙ্গে মিল রেখে স্বাস্থ্য কার্ড করা হবে। প্রতিটি স্বাস্থ্য কার্ডের ওপর ভিত্তি করে ওই ব্যক্তির হেলথ প্রোফাইল তৈরি হবে, যাতে ওই ব্যক্তির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাইছি সবার যেন একটা ইউনিক হেলথ আইডি হয়। একজন রোগী যখন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে যাবে, তখন এই কার্ড দেখে চিকিৎসকরা তাকে চিকিৎসা দিতে পারবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাগজপত্র, পুরনো প্রেসক্রিপশন বহন করতে হবে না। সব তথ্যই সেখানে সংরক্ষিত থাকবে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের জন্য নির্বাচন কমিশন এবং জন্ম নিবন্ধনের জন্য রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চুক্তি হয়েছে বলে জানান শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, এটুইআইয়ের মাধ্যমে তারা আমাদের এসব তথ্য দিচ্ছেন। অফিসিয়াল কাজকর্ম মোটামুটি শেষ পর্যায়ে। আমরা দেখতে চাচ্ছি, আমাদের সিস্টেমগুলো সব কাজ করছে কি না, সেটা দেখার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে এটা করা হয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনের পর আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের পাইলটিং করব।

অধ্যাপক শাহাদাত আরও বলেন, সরকারি-বেসরকারি সব রোগ নির্ণয় কেন্দ্র এবং গবেষণাগারের সঙ্গে স্বাস্থ্য কার্ডধারীর তথ্য সমন্বয় করা হবে। সেখানে নমুনা পরীক্ষার পর রোগ নির্ণয় সংক্রান্ত তথ্যগুলো সংরক্ষিত থাকবে। এতে যে কোনো সময় রোগীর এসব তথ্য দেখা যাবে। কোনো ফাইল মেনটেইন করতে হবে না, ইমেজিংও সংরক্ষিত থাকবে। কোনো রোগী হাসপাতালে গিয়ে এই কার্ড দেখালেই প্রাথমিকভাবে এই রোগীর রোগ সংক্রান্ত তথ্য পেয়ে যাবে।

এই প্রকল্পকে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার একটি উদ্যোগ হিসেবে মনে করেন স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কার্ড করতে পারলে তা হবে খুবই ভালো কাজ। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার এই স্বপ্নটা ভালো। পাইলট প্রকল্প হিসেবে করলে ভিন্ন বিষয়।

তিনি আরও বলেন, সারা দেশে করতে হলে এর জন্য বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করতে হবে। এজন্য অতিরিক্ত লোক লাগবে, যারা তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ, চিকিৎসা সেবায় জড়িতদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যে রেফারেল করবে সেজন্য বড় হাসপাতালগুলো প্রস্তুত কি না সেই বিষয়গুলোও মাথায় রাখতে হবে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

শিরোনাম:

সিরাজগঞ্জে ৬৮ মে.ও. সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকাজ শেষের পথে
রহমতগঞ্জে সংবর্ধনা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে হেনরী এমপি
তাড়াশে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার চারা রোপণের শুভ উদ্বোধনে আজিজ এমপি
রায়গঞ্জে এনডিপি’র ‘মিনি ম্যারাথন’ অনুষ্ঠিত
সিরাজগঞ্জে মৌসুমি আগাম সাড়াদান প্রকল্প এর ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত
সিরাজগঞ্জ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে হেনরী এমপি
সিরাজগঞ্জে সেবা মুক্ত স্কাউট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতার জন্মদিন পালিত
শবে বরাতের মাহাত্ম্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কাজে আত্মনিয়োগের আহ্বান
স্থানীয় সরকার বিভাগে বাজেট বরাদ্দ ৬ গুণ বেড়েছে: প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস আজ
দুপুরের মধ্যেই আসছে ঝড়, আবহাওয়ার নতুন বার্তা
পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির বাণী