• মঙ্গলবার   ২৮ মার্চ ২০২৩ ||

  • চৈত্র ১৩ ১৪২৯

  • || ০৬ রমজান ১৪৪৪

কথা ছিল একসঙ্গে নার্স হবেন, হলেন লাশ

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০১৯  

 

সানজিদা-ইভা। এভাবেই মানায় নামদুটি। একসঙ্গে চলে-ফেরে। একসঙ্গে পড়ে-লেখে। স্বপ্নও দেখতো একইসঙ্গে। একই পথে। যাকে বলে মানিকজোড়। সহপাঠীরা সবাই জানতো সেই গল্প। কেউ কেউ হয়তো ঈর্ষাও করতো। কিন্তু এমন করুণ পরিণতি কি কেউ ভুলেও চেয়েছিল? নিশ্চয় না। তবুও ঘটে গেল। ট্রেনের বগিতে আটকে গেল তাদের একসঙ্গে নার্স হওয়ার স্বপ্ন। সব চাওয়া ছাপিয়ে একসঙ্গে মৃত্যুটাই হয়ে উঠলো চরম সত্য।  

নার্সিংয়ের উচ্চতর একটি প্রশিক্ষণ নিতে রোববার রাত ১০টায় আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন দুইজন।  বসেছিলেন পাশাপাশি সিটে। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বরমচালে যখন ট্রেন পৌঁছে তখন রাত প্রায় পৌনে ১২টা।  বরমচাল রেলওয়ে স্টেশন পাড়ি দিয়ে প্রায় ২০০ গজ সামনে যেতেই ইসলামাবাদ গ্রামের বড়ছড়া রেলওয়ে ব্রিজে ওঠার আগেই ব্রিজ ভেঙে বিকট শব্দে ট্রেনটির পেছনের তিনটি বগি ছিটকে পড়ে যায় খালে। আরো তিনটি বগি দুমড়েমুচড়ে রেলসড়কের পাশেই পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনের পেছনের বগিতে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ আর ধোঁয়ার কুণ্ডলী। চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয় ছয়টি বগি। এই ছয়টি বগি পড়ে যাওয়ার পর সামনের ১১টি বগিই ওই দুর্ঘটনার স্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার যাওয়ার পর থেমে যায়। সেই সঙ্গে থেমে যায় ফাহমিদা ও সানজিদার স্বপ্ন।

তাদের মৃত্যুর সংবাদে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সিলেট নার্সিং কলেজ ও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন শিক্ষকসহ তাদের সহপাঠীরা।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুরের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আব্দুল বারীর মেয়ে ইভা ও সানজিদা আক্তার বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট থানার আতজুরি ভানদর খোলা গ্রামের মো. আকরাম মোল্লার মেয়ে। তারা দুইজন সিলেট নার্সিং কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নিহত ফাহমিদার ভাই আব্দুল হামিদ বলেন, রাতে ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বোনের খোঁজে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে বোনকে না পেয়ে কুলাউড়া হাসপাতালে এসে নিহতদের মধ্য থেকে বোনকে শনাক্ত করি। বিশ্বাস করতে পারছি না, আমার বোনটি আর দুনিয়াতে নেই।

এদিকে, বাগেরহাটের সানজিদা আক্তারের লাশ গ্রহণ করতে নার্স নেতারা যখন কুলাউড়া হাসপাতালে যান তখন হাসপাতালেই এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে বিকেল ৩টায় অ্যাম্বুলেন্স যোগে সানজিদার লাশ ওসমানীতে নিয়ে আসা হয়। তখন তাদের সহপাঠীর লাশের সামনে কান্নার রোল পড়ে যায়। ওসমানী হাসপাতালেই তার লাশকে গোসল দেয়া হয়।

নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল আলী সাদেক জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় সানজিদার প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিলেট নার্সিং কলেজে তার প্রথম জানাজা হয়।  এরপর তার লাশ ওসমানী হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। পরিবারের সদস্যরা আসার পর মঙ্গলবার সকালে তার লাশ হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ