রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

তামাক ছেড়ে কোটি টাকার গোলাপ চাষ

তামাক ছেড়ে কোটি টাকার গোলাপ চাষ

বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে গোলাপ। বছরে কয়েক কোটি টাকার গোলাপ চাষ হয় সেখানে। অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ একর জমি জুড়ে চাষ হয় গোলাপের। তামাকচাষ থেকে সরে এসে এই গোলাপ চাষ শুরু করেন এলাকার সহস্রাধিক গোলাপচাষি।

৮০ দশকে এলাকার আবুল কালাম তামাক চাষ ছেড়ে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেছিলেন এই গোলাপ চাষ। তিনি এখন আর বেঁচে নেই। তার ছেলেরা এখন এই গোলাপ চাষ করে স্বাবলম্বী। দেখাদেখিতে এলাকার লোকজন তামাক চাষ ছেড়ে শুরু করেন গোলাপচাষ। এতে অর্থনৈতিকভাবে সফলও হয়েছেন সবাই। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির গোলাপ বাণিজ্যিকভাবে বিক্রয় হয়। এই গোলাপ বাগানের ফুল এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঢাকা চট্টগ্রামসহ দেশের স্থানে চলে যাচ্ছে। সারা বছর গোলাপ ফুটে তাদের এই গোলাপ নগরে।

প্রকৃতির পরতে পরতে ফুটেছে ফুল। শীতের  আগেই গোলাপ বাগানের চলছে ব্যাপক পরিচর্যা। মাতিয়ে মাতিয়ে তুলছে সবাইকে। কর্মব্যস্ত এখন গোলাপ চাষিরা। সামনে নির্বাচন, বিজয় দিবস এ ছাড়া অপেক্ষা করছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস (ভ্যালেন্টাইনস ডে)। প্রতিদিনই সবাই সবাইকে ভালোবাসলেও অপেক্ষমান ভালোবাসা দিবসে অনুরাগী মানুষ তার প্রিয়জনকে আলাদা করেই ভালোবাসতে পছন্দ করেন গোলালের সৌরভ। কক্সবাজারের চকরিয়ার গোলাপ নগর খ্যাত বরইতলী ও হারবাং এলাকার ফুল চাষিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। রইতলী ও হারবাং ইউপির ফুল চাষিরা জানান, গোলাপ নগরখ্যাত বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নে প্রায় সহস্রাধিক শতাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিক বাণিজ্যিকভাবে সৃজিত রকমারি ফুলের বাগানে পালাক্রমে কাজ করছেন। ফুল বাগান পরিচর্যার ধুম পড়েছে এখানে। ফুল বাগান গুলোর মধ্যে গোলাপ ও গ্লাডিওলাস ফুল গাছ সবচেয়ে বেশি।

চকরিয়ার বরইতলী থেকে পাইকারি দরে কিনে কক্সবাজার শহরে ফুল বিক্রি করা মো. ইউসুফ জানান, প্রতিদিন গড়ে কয়েক হাজার পিস ফুল কেনা হয় চকরিয়ার বরইতলী থেকে। বিশেষ দিবসে তা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। নবীন উদ্যোক্তা ফুলচাষি আনসারুল করিম জানান, পড়ালেখার পাশাপাশি আয়ের আশায় তার বাবা মায়ের সঙ্গে ফুলচাষে নামে। প্রায় এক একর জমিতে গোলাপ ও গ্লাডিওলাসসহ নানা ফুলের চাষ করেন তিনি। যার কারণে এলাকার দশজন বেকার নারী-পুরুষ এ ফুল বাগানে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি ফুল চাষ থেকেও ভালো একটি আয় আসছে। আব্দুল্লাহ নামের এক চাষি জানান, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকায় গোলাপ প্রতি দাম মানভেদে পাইকারি সাত থেকে দশ টাকা ও রকমারি রঙয়ের গ্লাডিওলাস ফুল ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে চাষি, পরিচর্যা এবং ফুল তোলায় নিয়োজিত কয়েকশ নারী-পুরুষ তৃপ্তি নিয়ে কাজ করছেন।

বরইতলী ফুল বাগান মালিক সমিতির এক নেতা বলেন, ফুল চাষে সুদিন ফিরে এসেছে। দেশে শান্তি বিরাজ করায় পুরোদমে ফুলচাষে নেমেছেন চাষিরা। তাই আশা করছি, সব চাষি চলতি অর্থ বছরে  গোলাপ ও গ্লাডিওলাসসহ রকমারি ফুল বিক্রি করবে কোটি টাকার। সবকটি বাগানের সিংহভাগ ফুল চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাইকারদের সরবরাহ করা হয়। চকরিয়া উপজেলা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজিব দে জানান, গত বছর বরইতলী ও হারবাং ইউপির ১৫০ একর জমিতে ফুলের চাষ হয়েছিলো। কিন্তু এ বছর প্লাস্টিক ফুলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া সত্বে ও একটু কমেনি  জমিতে ফুলের চাষ। তবে এ বছর ফুলের চাষ অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি তাই উৎপাদন ও ব্যাপক বেড়েছে। যার পেছনে অন্যতম কারণ, প্রযুক্তিগত উন্নতি ও কৃষকদের প্রশিক্ষণ। শুষ্ক মৌসুম চলমান থাকা পর্যন্ত ফুল উৎপাদন ভালোই হবে আশা করা যায়। ভালোবাসা দিবসসহ সবকটি দিবসে ফুল বিক্রিও ভালো হবে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ