রোববার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১

চম্পা কলা চাষে আনোয়ারের ৯ লাখ টাকা আয়ের সম্ভাবনা!

চম্পা কলা চাষে আনোয়ারের ৯ লাখ টাকা আয়ের সম্ভাবনা!

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় চম্পা কলার চাষ করে কৃষক আনোয়ার হোসেন আনার সফলতা পেয়েছেন। কম খরচে বেশি ফলন ও বিক্রি করে লাভবান হওয়া যায় বলে তিনি এর চাষে ঝুঁকেছেন। আগে অন্যান্য ফসল চাষ করলেও এই প্রথম চম্পা কলা চাষ করে তিনি সফলতা অর্জন করেছেন। পাইকাররা তার জমি থেকেই কলার ছড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তার সফলতা দেখে এখন অনেকেই কলা চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

জানা যায়, কৃষক আনোয়ার হোসেন আনার কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের বাদে শোলাকিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শে পতিত জমিতে চম্পা কলার চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। বর্তমানে তার বাগানে ১৬০০ কলা গাছ রয়েছে। পাইকাররা বাগান থেকেই প্রতি ছড়ি ৭০০-৮০০ টাকা দরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এই বাগান থেকে তিনি বছরে ৯ লাখ টাকার আয়ের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছেন।

কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা নাছিরুজ্জামান সুমনের পরামর্শে পতিত জমিতে চম্পা কলার চাষ চাষ শুরু করি। এর চাষে খরচ কম ও উৎপাদিত কলা বাজারে ভাল দামে বিক্রি করে লাভবান হওয়া যায়। তাই আমার ফিশারিজের সাথে আমি দেড় একর পতিত জমিতে ১৬০০ গাছ লাগিয়েছি। কীটনাশক মুক্তভাবে কলার চাষ করছি। বাগানের কলার ভাল ফলন এসছে। কলাগুলো আকারে বেশ বড়।

তিনি আরো বলেন, কলা চাষে এখন পর্যন্ত আমার প্রায় ৩ লাখ টাকার খরচ হয়েছে। বাজারে গিয়ে বিক্রি করতে হয় না। পাইকাররা জমি থেকেই কলার ছড়ি সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন। তারা প্রতি ছড়ি ৭০০-৮০০ টাকা দরে কিনে নিচ্ছেন। এতে চাষের প্রথম বছরই আমার প্রায় ১২ লাখ টাকার কলা বিক্রি হবে। যেখানে আমার বছরে প্রায় ৯ লাখ টাকার মতো আয় হবে।

আনোয়ার আরো বলেন, আমার ফিশারিজে কলাপাতার প্রয়োজন হয়। বাগান থেকে প্রতিদিন যে পাতা কাটা তা ফিশারিজে মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার হয়। পাতা কেটেও আমার লাভ হচ্ছে। আর কিছুদিন পর থেকে কলা গাছের চারাও বিক্রি করবো। আশা করছি সেখান থেকেও লাভ আসবে।

কলা ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবত কলার ব্যবসা করছি। আনোয়ার হোসেনের বাগানের কলার ছড়ি ও কলা গুলো বেশ বড়। বাগান থেকে প্রতি ছড়ি ৭০০-৮০০ টাকা দরে কিনে নিচ্ছি। আমরা তা বাজারে ১০০০ তা তার বেশি টাকা দরে বিক্রি করবো।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাছিরুজ্জামান সুমন বলেন, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ১৬০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের কলা চাষ হয়েছে। অল্প পুঁজিতে ও কম সময়ে কলা চাষ বেশ লাভজনক। আর চারা লাগানোর প্রায় ১১ মাসের মধ্যেই কলার ছড়ি গাছ থেকে কাটা যায়। আনোয়ার হোসেন আমাদের থেকে পরামর্শ নিয়ে বাগান শুরু করেন। এই উপজেলায় এর থেকে বড় বাগান আর নেই। এলাকায় বেশ সাড়া পড়ে যাওয়ায় অন্যান্য কৃষকরা কলা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। আমরা অন্যান্য সকল চাষিদেরও পরামর্শ ও সহযোগিতা করবো।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

সর্বশেষ: