রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

গুলশা মাছের একক চাষ পদ্ধতি

গুলশা মাছের একক চাষ পদ্ধতি

গুলশা মাছের একক চাষ পদ্ধতি নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেকেরই কোন ধারণা নেই। গুলশা আমাদের দেশে বেশ জনপ্রিয় একটি মাছ। এই মাছ খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। আগের দিনে আমাদের দেশের প্রাকৃতিক উৎসগুলোতে প্রচুর পরিমান গুলশা মাছ পাওয়া যেত। তবে কালের বিবর্তনে এই মাছটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য চাষের কোন বিকল্প নেই। চলুন তাহলে আজ জানবো গুলশা মাছের একক চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে-

গুলশা মাছের একক চাষ পদ্ধতিঃ


নিচে গুলশা মাছের একক চাষ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল-

পুকুর প্রস্তুতিঃ


গুলশা মাছের চাষ করার জন্য ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পরিমান জায়গা সবচেয়ে ভালো হয়। আর পুকুরের গভীরতা ১.০ থেকে ১.৫ মিটার করতে হবে। এভাবে গুলশা মাছের জন্য পুকুর প্রস্তুত করলে সবচেয়ে ভালো হয়।

এরপর গুলশা মাছ চাষের পুকুরের পাড় ভালোভাবে মেরামত করতে হবে। পুকুরের কোন পাড় যাতে ভাঙা না থাকে সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়াও পুকুরের পাড়ে কিংবা পুকুরে কোন প্রকার জলজ আগাছা থাকলে তা পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।

এরপর শতাংশ প্রতি ১ কেজি হারে চুন প্রয়োগ করতে হবে। আর চুন প্রয়গের ২ থেকে ৩ দিন পর প্রত্যেক শতকে ৬ কেজি হারে গোবর সার প্রয়োগ করতে হবে।

আর গোবর সার প্রয়োগ করার ৪ থেকে ৫ দিন পর প্রতি শতাংশে ১০০গ্রাম ট এস পি ও ৫০ গ্রাম ইউরিয়া পানিতে গুলোনর পর তা ছিটিয়ে দিতে হবে।

পোনা মজুদকরণঃ


গুলশা মাছ চাষের পুকুরে সার প্রয়োগ করার ৩-৪ দিন পর ৩ থেকে ৪ গ্রাম ওজনের পোনা শতাংশে ২৫০ টি হারে মজুদ করা যেতে পারে।

তবে পুকুরে গুলশার পোনা ছাড়ার আগে পানির তাপমাত্রা ও অন্য সব গুণাগুণ যাতে সহনশীল হয় সে জন্য পোনাকে খাপ খাইয়ে নিতে  পুকুরে ছেড়ে দিতে হবে।

খাদ্য ও সার প্রয়োগঃ


গুলশা মাছের পোনা মজুদ করার পরের দিন থেকে মাছের দেহ ওজনের শতকরা ২ থেকে ৬ ভাগ হারে সম্পুরক খাদ্য হিসেবে-

সয়াবিন পাউডার (২০%), আটা (৪%), চালের কূঁড়া (২০%), ফিশমিল (৩০%), ভিটামিন ও খনিজ লবন (১%) সরিষার খইল (১৫%), মিট ও বোন মিল ( ১০%) মিশ্রিত করে খাওয়াতে হবে।

  • কয়েকদিন পর পর জাল টেনে মাছের দৈহিক বৃদ্ধি পর‌্যবেক্ষণ করে খাদ্যের পরিমাণ বাড়াতে হবে।
  • রোদের  দিনে জৈব সার হিসেবে পুকুরে গোবর ছিটিয়ে দিতে হবে।
  • আর যদি সম্ভব  হয় তাহলে সপ্তাহে একবার পুকুরে হররা টেনে দিতে হবে।
  • কোন কারণে পুকুরে পানি কমে গেলে বাহির থেকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে।

উৎপাদনঃ


 উপরোক্ত পদ্ধতি অনুসারে গুলশা মাছের চাষ করলে ৬ মাসে গুলসা মাছ সাধারণত ৫০ থেকে ৬০ গ্রাম ওজনের হয়। আর এই মাছ আহরনের সময় পুকুরের সব পানি শুকিয়ে তারপর মাছ ধরতে হবে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ