শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১

লবণাক্ত বিলে প্রথম শর্ষে চাষে কৃষকের মুখে হাসি

লবণাক্ত বিলে প্রথম শর্ষে চাষে কৃষকের মুখে হাসি

অনাবাদি বিলের মাঝখানে প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে শর্ষে চাষ করা হয়েছে। সবুজে পরিপূর্ণ গাছের শর্ষেয় পাক ধরতে শুরু করেছে। বিলের পাশের চলাচলের রাস্তার ধারেও তিন বিঘা জমিতে বাতাসে দোল খাচ্ছে শর্ষেগাছ।

খুলনার কয়রা উপজেলার বাগালী ইউনিয়নে অবস্থিত এ বিলের নাম ‘উলার বিল’। বিলটিতে অনাবাদি পতিত জমির পরিমাণ ৯০০ বিঘার বেশি। লবণাক্ত ওই বিলসহ আশপাশের সব বিলে মাত্র একটি ফসলই হতো—আমন ধান। সেটিও বর্ষা মৌসুমে। জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু আমন আবাদ। অক্টোবরে ধান ঘরে ওঠে। এরপর পুরো বছরই পতিত পড়ে থাকত বিলের জমি।

এবারই প্রথম উলার বিলে শর্ষে চাষ করেছেন স্থানীয় কৃষক মোশাররফ হোসেন ও মজিবর রহমান। এভাবে কয়রা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১৪ জন কৃষক প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে বারি-১৮ জাতের উচ্চ লবণসহনীয় শর্ষে চাষ করেছেন। কৃষকদের বীজ থেকে শুরু করে সার্বিক সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন কৃষি গবেষণা বিভাগের কয়রা আঞ্চলিক কার্যালয়।

উলার বিলে গিয়ে দেখা যায়, বিলজুড়ে পড়ে আছে কেটে নেওয়া আমন ধানের গোড়া। মাটিও শুষ্ক। বিলের এক প্রান্তে জাল দিয়ে ঘিরে রাখা কৃষক মোশাররফ হোসেনের শর্ষেখেত। এরই মধ্যে পাক ধরেছে শর্ষেয়।

বিলে নিজের পাঁচ বিঘা জমি রয়েছে জানিয়ে কৃষক মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিলটিতে আমরা আমন ধানের বাইরে কখনো কোনো ফসলের চাষ হতে দেখিনি। লবণাক্ততা ও পানির সমস্যার কারণে আমিও কখনো অন্য ফসলের চাষ করতে চেষ্টা করিনি। এবার প্রথমবারের মতো সরেজমিন কৃষি গবেষণা বিভাগের পরামর্শে বারি-১৮ জাতের শর্ষে চাষ করেছি। তারা আমাকে বিনা মূল্যে বীজ ও প্রশিক্ষণ দিয়েছে। প্রথম দিকে অনিশ্চয়তা থাকলেও দুই মাস পর ফলন ভালো দেখে খুশি হয়েছি।’

বিলে রাস্তার পাশেই মজিবর রহমান নামের আরেক কৃষকের তিন বিঘা জমি আছে। এবার সেই জমিতেও বারি-১৮ জাতের শর্ষে চাষ করা হয়েছে। মজিবর রহমান বলেন, ‘আমার খেতে শর্ষের ফলন ভালো হয়েছে। এলাকার অন্য কৃষকেরাও তাঁদের জমিতেও শর্ষের চাষ করবেন বলে জানাচ্ছেন। অনেকেই আমার কাছে শর্ষের বীজ চেয়েছেন।’

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের খুলনা কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. হারুনর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ এলাকায় কৃষকেরা আমন ধান কাটার পরে জমি ফেলে রাখেন। তাঁদের দ্বিতীয় ফসল হিসেবে শর্ষে চাষে উদ্বুদ্ধ করতে বারি-১৮ জাতের শর্ষের বীজ বিনা মূল্যে দিয়েছিলাম। পাশাপাশি কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করেছিলাম। আমরা শর্ষে চাষে মাঠ দিবসও করেছি। এর মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণের মধ্য দিয়ে আগামী মৌসুমে শর্ষে চাষ বৃদ্ধিই মূল লক্ষ্য।’

বারি-১৮ জাতের শর্ষে উদ্ভাবন করেছেন বিআরআরআইয়ের গাজীপুরের প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক আবদুল লতিফ আকন। জাতটি সম্পর্কে তিনি বলেন, বারি-১৮ জাতের শর্ষে অন্য শর্ষের মতো হলেও এটি অপেক্ষাকৃত অধিক লবণসহিষ্ণু। এটি ক্যানোলা জাতের শর্ষে। এ জাতের বীজের তেলে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক ইরুসিক অ্যাসিডের পরিমাণ অনেক কম। প্রতিটি গাছে শর্ষের বীজ হয় তিন হাজারের বেশি।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

সর্বশেষ: