শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

২২০ রানও নিরাপদ নয়, আইপিএলে রান চেজ যেন ‘ডালভাত’!

২২০ রানও নিরাপদ নয়, আইপিএলে রান চেজ যেন ‘ডালভাত’!

সংগৃহীত

শিরোনামের দুই অংশে ভিন্ন দুটি প্রতিক্রিয়া হতে পারে ক্রিকেটভক্তদের। কারণ ইতোমধ্যেই তারা জানেন আইপিএলের চলতি আসরে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ লক্ষ্য তাড়ায় জয়ের বিশ্বরেকর্ড হয়েছে। এটি কেবল এক ম্যাচের আলাপ। ন্যূনতম ২২০ রানের লক্ষ্য ছিল, এমন ৭টি ম্যাচে জয়ের রেকর্ড হয়েছে এবার। অথচ আইপিএলের বিগত ১৮ আসর মিলে স্রেফ ৫ বার ২২০ বা এরবেশি রান তাড়ায় সফলতা দেখা গেছে।

এর আগে ২৯ এপ্রিল আইপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ ১০ ম্যাচে দুইশ’র বেশি লক্ষ্য তাড়ায় জয়ের রেকর্ড হয়েছিল। সর্বোচ্চ ৯ ম্যাচে দুইশ’র বেশি রানতাড়ায় সফলতার রেকর্ড ছিল ২০২৫ আসরে। ৩৩ ম্যাচ বাকি থাকতেই এবার সেই রেকর্ড ভেঙে গেছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছে যেন অনেকটাই ডালভাতে পরিণত হচ্ছে আইপিএলের রান-চেজ। এর আগে চলমান ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটির ৩৯ ম্যাচ শেষে ক্রিকবাজ একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে। ২০২০ থেকে ২০২২ আসরগুলোয় ৩৯.৭ শতাংশ ম্যাচের ফল আসত শেষ ওভারে। যা বর্তমানে ৭ শতাংশ কমে গেছে।

অর্থাৎ, এখন ২০তম ওভারের আগেই লক্ষ্য তাড়া করা দলগুলো ম্যাচের ফল প্রায় নিশ্চিত করে ফেলছে। শতাংশের হিসাবে যা ৩২.৫। এ ছাড়া ১৮০ থেকে ২২০ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়ায় সফলতার হার ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। ২০২২ আসর পর্যন্ত ২০০ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়ায় যেখানে জয় ছিল ১৪.৩০ শতাংশ ম্যাচে, সেখানে পরবর্তী চার আসরে তা বেড়ে ৩৬.৭০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে ২২০ রানের বেশি লক্ষ্য ১২.৫০ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ২১.২৮ শতাংশে।

সর্বশেষ গতকাল (শুক্রবার) রাজস্থান রয়্যালসের দেওয়া ২২৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৫ বল এবং ৭ উইকেট হাতে রেখে জিতেছে দিল্লি ক্যাপিটালস। আগে ব্যাট করতে নামা রাজস্থানের উড়ন্ত ফর্মে থাকা দুই ওপেনার ভিন্ন চিত্র দেখলেন এদিন। যশস্বী জয়সওয়াল ৬ এবং বৈভব সূর্যবংশী মাত্র ৪ রান করে প্রথম দুই ওভারেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। তবে বিপর্যয় সামলেছেন সম্প্রতি ড্রেসিংরুমে ধূমপানের (ভ্যাপিং) দায়ে বড় শাস্তি পাওয়া রাজস্থান অধিনায়ক রিয়ান পরাগ। আগের ৯ ম্যাচ মিলে মাত্র ১১৭ রান করা ডানহাতি এই ব্যাটার খেললেন ৯০ রানের ইনিংস। ৫০ বলে ৮ চার ও ৫ ছক্কায় ইনিংসটি সাজিয়েছেন পরাগ

তবে রাজস্থানকে বড় পুঁজি এনে দেওয়ায় অন্যতম ভূমিকা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটার দোনোভান পেরেইরার। ১৪ বলে ২ চার ও ৬ ছক্কায় তিনি ৪৭ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন। এ ছাড়া ৩০ বলে ৪২ রান করেন ধ্রুব জুরেল। বিপরীতে দিল্লির হয়ে চলতি আসরে চোট কাটিয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা মিচেল স্টার্ক সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেছেন। 

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দিল্লির ব্যাটিংয়ে নামা প্রত্যেকেই ছিলেন দারুণ ছন্দময়। তাদের দুই ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ও লোকেশ রাহুল মিলে ৯.৩ ওভারেই ১১০ রান তোলেন। ৩৩ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৬২ রান করে নিশাঙ্কা আউট হলে ভাঙে সেই জুটি। রাহুল যখন আউট হয়ে ফিরছেন ততক্ষণে দিল্লির জয় প্রায় নিশ্চিত! যদিও ২৮ বলে ৪৯ রানের সেই সমীকরণ মেলাতে গিয়ে যেকোনো কিছুই হতে পারত। কিন্তু ত্রিস্তান স্টাবস ও আশুতোষ শর্মারা নিরাপদেই দিল্লিকে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছেন।

রাহুল ৪০ বলে ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ৭৫, নিতিশ রানা ১৭ বলে ৩৩, আশুতোষ ১৫ বলে ২৫ এবং স্টাবস ১১ বলে ১৮ করলেই ৫ বল ও ৭ উইকেট বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত হয় দিল্লির। আইপিএলে এটি তাদের সর্বোচ্চ লক্ষ্য তাড়ায় জয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০২৫ আসরে লখনৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে দিল্লি সর্বোচ্চ ২১০ রানতাড়ায় জিতেছিল। যা এখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

০২ মে ২০২৬ || ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১২৯জন