• বুধবার   ১০ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৬ ১৪২৯

  • || ১৩ মুহররম ১৪৪৪

মানুষের জীবন বাঁচানোর ফজিলত

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৭ জুন ২০২২  

যেকোনো দুর্যোগ-দুর্ঘটনায় সাধ্যমতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশের মানুষ। এটি সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। মানবসেবা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। তাই কখনো কোনোভাবে কারো উপকারে আসার সুযোগ হলে সে সুযোগ লুফে নেওয়া উচিত।

বিশেষ করে কোনো মুসলিম বিপদে পড়লে তার সাহায্যে এগিয়ে আসা প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব। যারা অপর মুসলিমের বিপদে এগিয়ে আসে, মহান আল্লাহও তাদের প্রয়োজন পূরণে তাদের সাহায্য করেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এক মুসলিম অন্য মুসলিমের ভাই, না সে তার প্রতি জুলুম করবে, না তাকে অন্যের হাওলা করবে। যে কেউ তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করবে আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করবেন। (বুখারি, হাদিস : ৬৯৫১)

এ জন্য বিশ্বনবী (সা.) তাঁর উম্মতদের সাধ্যমতো মানুষের উপকার করার তাগিদ দিয়েছেন। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, মহানবী (সা.) বলেন, তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার ভাইয়ের কোনো উপকার করতে সমর্থ হলে সে যেন তার উপকার করে। (মুসলিম, হাদিস : ৫৬২৪)

আর সে উপকার যদি হয় কারো জীবন বাঁচিয়ে, তাহলে তো তা মহান আল্লাহর রহমত পাওয়ার আরো বড় মাধ্যম। মহান আল্লাহ কারো জীবন রক্ষাকে গোটা মানবতা রক্ষার সমতুল্য বলে আখ্যা দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এ কারণেই আমি বনি ইসরাঈলের প্রতি এই নির্দেশ দিয়েছি যে, যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করে অন্য প্রাণের বিনিময় ব্যতীত, কিংবা তার দ্বারা ভূপৃষ্ঠে কোনো ফিতনা-ফ্যাসাদ বিস্তার ব্যতীত, তাহলে সে যেন সমস্ত মানুষকে হত্যা করে ফেলল; আর যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে রক্ষা করল, তাহলে সে যেন সমস্ত মানুষকে রক্ষা করল; আর তাদের (বনি ইসরাঈলের) কাছে আমার বহু রাসুলও স্পষ্ট প্রমাণসমূহ নিয়ে আগমন করেছিল, এর পরও তন্মধ্য হতে অনেকেই ভূপৃষ্ঠে সীমা লঙ্ঘনকারী হয়ে গেছে। ’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৩২)

সুবহানাল্লাহ, বিভিন্ন দুর্যোগ-দুর্ঘটনায় যাঁরা মানুষের জীবন বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন, মহান আল্লাহ তাঁদেরও গোটা মানবতা রক্ষার সমতুল্য সওয়াব দেবেন ইনশাআল্লাহ, আর যাঁরা মানুষের জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবনই দিয়ে আসেন, তাঁরাও মহান আল্লাহর কাছে যেন শাহাদাতের মর্যাদা পান সে দোয়া করা আমাদের কর্তব্য। কারণ মুসলিম জাতি এক দেহের মতো, এক পরিবারের মতো। হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি তার পরিবারের লোকদের রক্ষা করতে গিয়ে মারা যায়, সে শহীদ। সাঈদ ইবনে জায়দ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজ মাল রক্ষার্থে যুদ্ধ করে মারা যায় সে শহীদ। আর যে ব্যক্তি তার পরিবারের লোকদের রক্ষা করতে গিয়ে মারা যায়, সেও শহীদ, আর যে ব্যক্তি তার দ্বিন রক্ষা করার জন্য নিহত হয়, সেও শহীদ। এবং যে নিজ প্রাণ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়, সেও শহীদ। (নাসায়ি, হাদিস : ৪০৯৫)

সীতাকুণ্ডের দুর্ঘটনাসহ বাংলাদেশের যেকোনো দুর্ঘটনায় যাঁরা মানুষের জীবন বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন, মহান আল্লাহ তাঁদের সবাইকে শহীদের মর্যাদা দান করুন। আমিন।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ