• বুধবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৭ ১৪২৮

  • || ১৫ সফর ১৪৪৩

হাজারো পাপের জন্ম দেয় প্রতারণা

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৭ জুলাই ২০২১  

একে অন্যকে ঠকানো, ধোঁকা দেওয়া কিংবা প্রতারণা যে মানেই বলুন না কেন। বিশ্বে এটি এখন মহামারিতে রূপ নিয়েছে। নিষিদ্ধ ও আদর্শ -বিচ্যুত কাজই হচ্ছে ইসলামের আলোকে ধোঁকা বা প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত। কৌশলে অন্যকে ঠকানোর নামই প্রতারণা।

সরলতার আড়ালে আত্মসাৎ, অন্যায়ভাবে হাতিয়ে নেয়া এবং কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করা প্রতারণার ভয়ংকর ফাঁদ। মিথ্যা ও দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া এবং অঙ্গীকার ভঙ্গ করা ইত্যাদি প্রতারণার বিভিন্ন রূপ ও অন্যতম কৌশল। হাজার হাজার পাপ, অন্যায়, অপরাধ ও বহুমুখী ফাঁদের উৎস এ প্রতারণা। 

প্রতিদিন প্রতারকদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। তাদের ফাঁদে পড়ে হামেশাই সর্বস্বান্ত হচ্ছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। বর্তমানে এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে প্রতারকরা পেতে রাখেনি ফাঁদ। দেশি-বিদেশি, ডিজিটাল, অ্যানালগ বহুরূপী প্রতারণায় মানুষের জীবন বিপর্যস্ত। ডিজিটাল দুনিয়ার বড় অংশজুড়েই প্রতারণার ফাঁদ। ফেসবুক, ইউটিউবসহ নানামুখী অনলাইন ব্যবহার করে যা খুশি তা হচ্ছে। নারী, শিশু এবং সম্মানিত লোকজনও নানাভাবে হয়রানির শিকার। 

জীবনযাত্রার সব ক্ষেত্রেই মানুষ প্রতারণার অক্টোপাসে বন্দী। পদে পদে ওত পেতে থাকছে নানামুখী বিপদ। কোরআন ও হাদিসে প্রতারণাকে হারাম বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ভয়াবহতা বোঝানোর জন্য প্রতারণাকে মোনাফেকের স্বভাব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মহান প্রভু আল কোরআনে ঘোষণা করেন, ‘আর মানুষের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে তারা আল্লাহ ও ইমানদারদের ধোঁকা দেয়। মূলত তারা নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকে ধোঁকা দেয় না, অথচ তারা তা অনুভব করতে পারে না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত ৯)

মহানবী (সা.) সবাইকে প্রতারণা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। প্রিয় নবী (সা.) এ অভ্যাসে জড়িত ব্যক্তিকে তার দলভুক্ত নয় মর্মে হাদিসে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, ‘যে আমাদের ধোঁকা দেয় সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (মুসলিম) 

ধোঁকা-প্রতারণা প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইসলামের দৃষ্টিতে তা কবিরাহ গুনাহ বা মহাপাপ কর্ম। কোরআন-হাদিসে ইহ ও পরকালে প্রতারণার কঠিন শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে। এক হাদিসে বর্ণিত, ‘মহানবী (সা.) জনৈক খাদ্যশস্য বিক্রেতার পাশ হয়ে যাচ্ছিলেন। এ অবস্থায় তিনি ওই বিক্রেতার খাদ্যস্তুপে হাত ঢুকিয়ে ভিতরের অংশে ভেজা অনুভব করেন। এ বিষয়ে বিক্রেতাকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলে প্রাকৃতিক কারণে এমন হয়েছে। মহানবী (সা.) তাকে বললেন, তুমি তা স্তুপের ওপর কেন রাখনি, যাতে মানুষ বুঝতে পারে? যে আমাদের ধোঁকা দেয় সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ 

সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘যে ব্যক্তি অন্যের স্ত্রীকে অথবা কারও অধীনকে প্রতারিত করবে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ আবু দাউদ। সাহাবি বুরায়দা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেন, ‘যাকে আমরা কোনো কাজে বেতনভুক নিয়োগ দিলাম এরপর সে এ কাজের জন্য অতিরিক্ত যা গ্রহণ করবে সবই দুর্নীতি ও প্রতারণা।’ আবু দাউদ।

ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতারণা নিষিদ্ধ, শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এমনকি পশুপাখি ও জীবজন্তুর সঙ্গেও প্রতারণা বৈধ নয়। কথিত আছে, ইমাম বুখারি (রহ.) জনৈক ব্যক্তির কাছ থেকে হাদিস গ্রহণের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তাকে তার বাহনের সঙ্গে ধোঁকার আশ্রয় নিতে দেখে ওই ব্যক্তির হাদিস তিনি গ্রহণ করেননি। মূল কথা হলো লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে ফাঁকি দেওয়া, অবৈধভাবে ও প্রহসনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা, অধিকার লঙ্ঘন করা, অন্যায় আচার-আচরণে লিপ্ত হওয়া, কর্তব্যে অবহেলা করা ইত্যাদি প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত। 

অতএব আমাদের চলমান সমাজকে শান্তিময় করার জন্য, একটি সৌভ্রাতৃত্বপূর্ণ উন্নত পরিবেশ গড়ার জন্য অবশ্যই ধোঁকা-প্রতারণা পরিহার করতে হবে। বর্জন করতে হবে সব ধরনের ভেজাল প্রক্রিয়া। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের এই পাপ থেকে দূরে থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন। 

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ