সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার কম্বলপল্লীতে ভোর থেকে বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীদের ভিড় দেখা যায়। এখানে শীতের কাপড় ৮ থেকে ৬৫ টাকা এবং কম্বল ৭৫ টাকা থেকে ৬ হাজার ৪৫০ টাকায় বিক্রি হয়। স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা এই শিল্পের সঙ্গে প্রায় ৪৫ গ্রামের ৩০–৩৫ হাজার মানুষের জীবিকা জড়িত।
১৯৯৮ সালে শিমুলদাইড় এলাকায় ছোট পরিসরে কম্বল ব্যবসার সূচনা হয়। ২০২২ সাল পর্যন্ত কার্যক্রম ছিল অফলাইনে, যেখানে কেবল নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভর করতে হতো। ২০২৩ সাল থেকে অনলাইনে বিক্রি শুরু হলে বাজারের পরিধি রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বাইরে বিস্তৃত হয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
শিমুলদাইড়, বরশিভাঙ্গা, সাতকয়া, শ্যামপুর, ছালাভরা, কুনকুনিয়া, গাড়াবেড়, চকপাড়া, পাইকরতলী, ঢেকুরিয়া, বরইতলা ও মুসলিমপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের কারিগররা প্রতিদিন হাজারো কম্বল তৈরি করছেন। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকার গার্মেন্টস থেকে সংগৃহীত ঝুট কাপড় দিয়েই জোড়া কম্বল উৎপাদন করা হয়। ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী প্রতি কেজি রোল কাপড় ২৩০–৩২০ টাকায় কেনা হয়, এবং এক কেজি কাপড়ে তৈরি হয় প্রায় ৩–৫টি কম্বল। খুচরা বাজারে শীতের পোশাক ১২০–৮০০ টাকা এবং জোড়া কম্বল ১৫০–৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। এসব কম্বল শীতপ্রবণ ৪০টি জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
এলাকাজুড়ে উৎপাদন, কাটা, সেলাই ও মুড়িকাজে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শ্রমিক নিয়োজিত। জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়টিতে এই শিল্পে সর্বাধিক কর্মব্যস্ততা দেখা যায়। অনেক পরিবার এই আয়েই তাদের জীবিকা নির্বাহ করে।
ব্যবসায়ীদের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কম্বলপল্লীর পরিসর বেড়েছে এবং উৎপাদনও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে কম খরচে শ্রম পাওয়ায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম। বাজার ও লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পুঁজির প্রবাহ সহজ করতে এখানে একটি ব্যাংক শাখা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করেন।
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে কম্বলপল্লীতে ব্যাংকিং সেবা চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। স্বল্প সুদে ঋণসহ প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলে এই শিল্প আরও বিকশিত হবে বলে আঞ্চলিক ব্যবসায়ীরা আশা করছেন।













