শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বৈশ্বিক পুলিশিং ও বাংলাদেশের বাস্তবতা

বৈশ্বিক পুলিশিং ও বাংলাদেশের বাস্তবতা

সংগৃহীত

লাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আজ এক জটিল দ্বৈত বাস্তবতার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে, একদিকে নিরাপত্তার অপরিহার্য প্রতীক, অন্যদিকে অনেক সময় ভয়, দূরত্ব ও অবিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি। ফলে প্রশ্নটি কেবল ‘পুলিশ কতটা শক্তিশালী?’ নয়; বরং আরও গভীর, একটি সমাজ হিসেবে আমরা আসলে কী ধরনের পুলিশ চাই?

যে পুলিশ কেবল অপরাধ দমনের পাশাপাশি, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক, আস্থা ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নিরাপত্তা গড়ে তুলবে। এই দর্শনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পুলিশিং। প্রকৃত প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের আসলে কী ধরনের পুলিশ দরকার? কারণ পুলিশ শুধু ইউনিফর্ম, অস্ত্র কিংবা গ্রেপ্তারের বিষয় নয়।

প্রতিটি সমাজ তার রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সামাজিক কল্পনার ভিত্তিতে নিজের পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। কোথাও পুলিশকে নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র হিসেবে গড়া হয়, কোথাও সহযোগিতার প্রতিষ্ঠান হিসেবে। কোথাও তারা ভয়ের মাধ্যমে শাসন করে, আবার কোথাও জনআস্থা ও বৈধতার ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করে।

বাংলাদেশের পুলিশ ব্যবস্থা অনেকাংশেই ঔপনিবেশিক শাসনের উত্তরাধিকার বহন করছে। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ শাসকরা উপমহাদেশে যে পুলিশ কাঠামো গড়ে তোলে, তার মূল উদ্দেশ্য জনগণের সেবা নয়; বরং শাসনক্ষমতা রক্ষা করা। নজরদারি, নিয়ন্ত্রণ ও আনুগত্য ছিল সেই ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। স্বাধীনতার বহু বছর পরও সেই মানসিকতার ছাপ পুরোপুরি মুছে যায়নি। এখনো অনেক সাধারণ মানুষ থানায় প্রবেশ করেন আস্থা নিয়ে নয়, বরং শঙ্কা নিয়ে। জনগণ ও পুলিশের মধ্যে মানসিক দূরত্ব এখনো দৃশ্যমান।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ পুলিশও বিশাল চাপের মধ্যে কাজ করে— দ্রুত নগরায়ণ, রাজনৈতিক মেরুকরণ, ডিজিটাল অপরাধ, সীমিত জনবল, অপর্যাপ্ত প্রযুক্তি ও ক্রমবর্ধমান সামাজিক উত্তেজনা পুলিশিংকে অত্যন্ত কঠিন পেশায় পরিণত করেছে। ফলে শুধু সমালোচনা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। আমাদের নতুন করে পুলিশিংয়ের দর্শন নিয়ে ভাবতে হবে।

আধুনিক গণতান্ত্রিক পুলিশিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারণা আসে ব্রিটেন থেকে, স্যার রবার্ট পিলের মাধ্যমে। তাকে আধুনিক পুলিশিংয়ের জনক বলা হয়। পিল একটি যুগান্তকারী ধারণা দিয়েছিলেন, পুলিশ সমাজের ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে না; বরং সমাজ থেকেই উঠে আসবে। তার বিখ্যাত উক্তি ছিল, ‘পুলিশই জনগণ এবং জনগণই পুলিশ।’

এই ধারণা পুলিশিংয়ের অর্থই বদলে দেয়। পিল মনে করতেন, পুলিশের সাফল্য বলপ্রয়োগের দৃশ্যমানতায় নয়; বরং বিশৃঙ্খলার অনুপস্থিতিতে। একজন আদর্শ পুলিশ কর্মকর্তা কেবল আইন প্রয়োগকারী নন, তিনি সামাজিক শান্তির রক্ষক। তার মতে, জনগণের সহযোগিতা জোরজবরদস্তির চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।

আজকের বাংলাদেশে এই শিক্ষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে সমাজে মানুষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা হারায়, সেই সমাজে শান্তিপূর্ণ শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। গোয়েন্দা তথ্য দুর্বল হয়ে পড়ে, জনসম্পৃক্ততা কমে যায়, এমনকি সঠিক পুলিশি উদ্যোগও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে।

মজার বিষয় হলো, সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক কাঠামোর দেশ চীনও ‘ম্যাস লাইন পুলিশিং’-এর মাধ্যমে এক ধরনের সমাজতাত্ত্বিক উপলব্ধিতে পৌঁছেছিল। মাওবাদী চিন্তা থেকে উদ্ভূত এই ধারণায় বলা হয়েছিল, পুলিশকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং জনগণের ভেতরেই থাকতে হবে। ‘জনগণের পুলিশ’ ধারণাটি ছিল এর কেন্দ্রবিন্দু। অন্তত তাত্ত্বিকভাবে পুলিশকে জনগণের কাছাকাছি থেকে বৈধতা অর্জনের কথা বলা হয়েছিল।

চীনা পুলিশিং চিন্তাবিদরা বারবার বলেছেন, অপরাধ প্রতিরোধ শুরু হয় সামাজিক সম্পর্ক থেকে। তাদের মতে, দমন-পীড়নের চেয়ে অনেক সময় বোঝানো ও সম্পর্ক গড়ে তোলা বেশি কার্যকর। পুলিশকে শুধু টহল দিলেই চলবে না; তাদের সমাজকে বুঝতে হবে। স্থানীয় বাস্তবতা, মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও জনআস্থা এগুলো কার্যকর পুলিশিংয়ের ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়েছিল।

এই দর্শনকে ব্যাখ্যা করতে একটি বিখ্যাত উপমা ব্যবহার করা হতো, ‘মাছ ও পুকুরের গল্প’। জনগণ হলো পানি, আর পুলিশ হলো মাছ। পুকুরের পানি নষ্ট হয়ে গেলে মাছ বাঁচতে পারে না। একইভাবে, জনগণের আস্থা হারিয়ে গেলে কোনো পুলিশ বাহিনীই কার্যকর থাকতে পারে না। অস্ত্র, প্রযুক্তি কিংবা বলপ্রয়োগ কোনো কিছুই জনআস্থার সম্পূর্ণ সংকট পূরণ করতে পারে না। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এই উপমার তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর।

ভারতও ‘পুলিশের বন্ধু’ উদ্যোগের মাধ্যমে এক ধরনের জনসম্পৃক্ত পুলিশিংয়ের চেষ্টা করেছিল, বিশেষ করে তামিলনাড়ুতে। ধারণাটি ছিল খুবই সরল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সাধারণ মানুষকে কেবল দর্শক নয়, অংশীদার হতে হবে। শিক্ষার্থী, দোকানদার, শিক্ষক ও স্থানীয় নাগরিকেরা তথ্য আদান-প্রদান, স্থানীয় বিরোধ নিরসন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করতেন।

এই ধারণা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিকে সামনে আনে, জনগণই পুলিশের ‘চোখ ও কান’। পুলিশ সব জায়গায় সব সময় উপস্থিত থাকতে পারে না। তাই যে সমাজে মানুষ স্বেচ্ছায় পুলিশের সঙ্গে কাজ করে, সেই সমাজ ভয়নির্ভর ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ হয়।

তবে ভারতের অভিজ্ঞতা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাও দেখিয়েছে। কমিউনিটি পুলিশিং শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে টিকতে পারে না। মানুষ তখনই অংশ নেয়, যখন তারা প্রতিষ্ঠানকে ন্যায়সঙ্গত, সম্মানজনক ও রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ মনে করে। আস্থা ভেঙে গেলে জনসম্পৃক্ততাও ভেঙে পড়ে।

বেলজিয়াম এই সমস্যার সমাধানে ‘জনঘনিষ্ঠ পুলিশিং’ ধারণা সামনে আনে। এখানে পুলিশকে কেবল দূরবর্তী রাষ্ট্রীয় শক্তি হিসেবে নয়, বরং এলাকার পরিচিত ও সহজপ্রাপ্য সমস্যা-সমাধানকারী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। জোর দেওয়া হয়েছিল শুধু অপরাধ ঘটার পর প্রতিক্রিয়া নয়; বরং সংকটের আগেই সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর।

বাংলাদেশের কমিউনিটি পুলিশিংয়ের অন্যতম দুর্বলতা এখানেই। অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকে। প্রকৃত জনসম্পৃক্ত পুলিশিংয়ের জন্য নিয়মিত স্থানীয় সম্পৃক্ততা প্রয়োজন, শুধু মাঝে মাঝে সভা বা প্রচারণা নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা আবার আমাদের ভিন্ন ধরনের সতর্কবার্তা দেয়। দেশটির আধুনিক পুলিশিং আংশিকভাবে ‘স্লেভ পেট্রোল’ ব্যবস্থা থেকে বিকশিত হয়েছিল, যেখানে দাসপ্রথা টিকিয়ে রাখতে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর ওপর নজরদারি চালানো হতো। পরে ‘জিম ক্রো’ আইনের মাধ্যমে বর্ণভিত্তিক বৈষম্যমূলক পুলিশিং আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। এই ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পুলিশ কখনো কখনো ন্যায়বিচারের পরিবর্তে বৈষম্যকেও রক্ষা করতে পারে।

পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশিং ‘ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার রাজনৈতিক অর্থনীতি’ ধারণার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে অর্থাৎ আইন প্রয়োগ অনেক সময় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতিফলন হয়ে দাঁড়ায়। দরিদ্র জনগোষ্ঠী প্রায়ই বেশি নজরদারি ও কঠোর পুলিশিংয়ের মুখোমুখি হয়। ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ এবং ৯/১১-পরবর্তী নিরাপত্তানীতির পর যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি সামরিকীকরণ আরও বেড়ে যায়। সাঁজোয়া যান, ভারী অস্ত্র, কৌশলগত ইউনিট ও নজরদারি প্রযুক্তি পুলিশকে অনেক ক্ষেত্রে জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান থেকে আধা-সামরিক বাহিনীতে রূপান্তরিত করে।

বাংলাদেশের জন্য এখানেও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। অতিরিক্ত সামরিকীকরণ হয়তো সাময়িক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা গণতান্ত্রিক বৈধতা ও জনআস্থা দুর্বল করে।

একই সঙ্গে আমেরিকান পুলিশিংয়ে ‘উদ্দেশ্য নিয়ে হাঁটা’ নামে একটি ধারণাও জনপ্রিয় হয়েছিল। এর অর্থ, পুলিশের দৃশ্যমান ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি অপরাধ প্রতিরোধে মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে মানবিক সম্পর্ক ছাড়া দৃশ্যমান উপস্থিতি অনেক সময় নিরাপত্তার পরিবর্তে ভীতির পরিবেশও তৈরি করতে পারে।

অস্ট্রেলিয়া আবার ‘স্থানীয় অগ্রাধিকারমূলক পুলিশিং’ ধারণার মাধ্যমে দেখিয়েছে, সব অঞ্চলের জন্য একই ধরনের পুলিশিং কার্যকর নয়। স্থানীয় জনগণ নিজেরাই তাদের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে, এই চিন্তা থেকে এলাকাভিত্তিক কৌশল তৈরি করা হয়েছিল। বাংলাদেশেও এই ধারণা গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকার বাস্তবতা যেমন আলাদা, তেমনি সীমান্ত এলাকা, শিল্পাঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চল বা গ্রামের চাহিদাও আলাদা। তাই স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে পুলিশিং কৌশল গড়ে তুলতে হবে।

লাতিন আমেরিকার দেশগুলোও দীর্ঘদিনের সহিংসতা ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর কমিউনিটি-ভিত্তিক পুলিশিং নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। ব্রাজিলের সাও পাওলো ও ভিলা নুয়েভার মতো এলাকায় পুলিশ স্থানীয় জনগণের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি জিপিএস, জিআইএস, জিইউআই ও সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা ব্যবহার করে অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করতে শুরু করে। বাংলাদেশের দ্রুত নগরায়ণের বাস্তবতায় এই প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আধুনিক অপরাধ মোকাবিলায় শুধু প্রচলিত টহল ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক ও প্রযুক্তিসম্পন্ন পুলিশিং।

‘ভাঙা জানালা তত্ত্ব’ আবার দেখিয়েছে, অবহেলিত পরিবেশ, ভাঙা স্থাপনা, বিশৃঙ্খলা, অপরিচ্ছন্নতা বা নিয়ন্ত্রণহীন জনপরিসর— ধীরে ধীরে বড় অপরাধের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। যদিও পরবর্তীতে এই তত্ত্বের সমালোচনা হয়েছে, তবুও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আছে যে, সামাজিক অব্যবস্থাপনা ও অপরাধ অনেক সময় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশের জন্য এর অর্থ হলো, পুলিশিংকে শুধু গ্রেপ্তার বা টহলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। নগর ব্যবস্থাপনা, রাস্তার আলো, স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তি, ট্রাফিক শৃঙ্খলা ও সামাজিক সংগঠনও নিরাপত্তার অংশ।

সবশেষে আসে ‘রোটেন আপেল’ তত্ত্বের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি, পুলিশ কর্তৃক অপরাধ, কেবল কয়েকজন বিচ্যুত কর্মকর্তার সমস্যা হিসেবে বিবেচিত। পাশাপাশি, আধুনিক অপরাধবিজ্ঞান দেখায়, সমস্যা শুধু ব্যক্তি নয়; বরং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল জবাবদিহিতার মধ্যেও লুকিয়ে থাকে। তাই বাংলাদেশের প্রয়োজন শুধু কিছু কর্মকর্তাকে শাস্তি দেওয়া নয়; বরং প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, পেশাগত স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সেবাভিত্তিক পুলিশ সংস্কৃতি।

বাংলাদেশের দুর্বল পুলিশ যেমন থাকতে নেই, আবার পুরোপুরি সামরিকধর্মী পুলিশও দরকার নেই। আমাদের দরকার এমন একটি পুলিশ ব্যবস্থা, যা শৃঙ্খলা ও মানবিকতা, কর্তৃত্ব ও জবাবদিহিতা, শক্তি ও জনআস্থার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে সক্ষম। ভবিষ্যতের বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তাকে শুধু আইন প্রয়োগকারী হিসেবে নয়, বরং মধ্যস্থতাকারী, যোগাযোগকারী, বিশ্লেষক, কমিউনিটি অংশীদার এবং গণতান্ত্রিক বৈধতার রক্ষক হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে।

ব্রিটেন, চীন, ভারত, বেলজিয়াম, অস্ট্রেলিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জটিল অভিজ্ঞতা আমাদের একটি সাধারণ শিক্ষা দেয়, পুলিশিং সবচেয়ে কার্যকর হয় তখনই, যখন জনগণ পুলিশকে দূরবর্তী শাসক নয়, বরং বৈধ অংশীদার হিসেবে দেখে। ‘মাছ ও পুকুরের’ উপমাটি এখানেই সবচেয়ে অর্থবহ। পুকুরের পানি নষ্ট হয়ে গেলে মাছ বাঁচে না। একইভাবে, জনগণ ও পুলিশের মধ্যকার আস্থা ভেঙে পড়লে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা কোনোটিই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।

বাংলাদেশের তাই এমন একটি পুলিশ বাহিনী প্রয়োজন, যাকে মানুষ শুধু ভয় করবে না বা মান্য করবে না বরং সত্যিকার অর্থে বিশ্বাস করবে।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

১৫ মে ২০২৬ || ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১২৯জন