সংগৃহীত
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গাছ কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতের নির্দেশে ১৪৪-১৪৫ ধারা জারি করা হয়েছে। উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের সদরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (৫ মে) আদালতের বেঞ্চ সহকারী এ ধারা জারি করেন, যা বর্তমানে বহাল রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছাদেক আলী (৫৬) অভিযোগ করেছেন, তার দীর্ঘদিনের ভোগদখলে থাকা জমি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশে স্থানীয় খাইরুল ইসলাম খুশি (৪০) বহিরাগত লোকজন নিয়ে গিয়ে গাছ কেটে ফেলেছেন। এ ঘটনায় তিনি গাইবান্ধা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী ছাদেক আলী সদরপাড়া গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে। অপরদিকে অভিযুক্ত খাইরুল ইসলাম খুশি একই গ্রামের মৃত খয়বর হোসেনের ছেলে।
মামলার এজাহারে ছাদেক আলী উল্লেখ করেন, সদরপাড়া মৌজার ৮৩২ দাগের ৩৮ শতক জমির দক্ষিণ পাশে সাড়ে ৩৫ শতক জমি তিনি প্রায় ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমিতে তিনি আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করেন এবং নিয়মিত পরিচর্যা করে আসছিলেন।
তার অভিযোগ, গত ২ মে সকালে খাইরুল ইসলাম খুশি দলবল নিয়ে এসে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালায় এবং সেখানে থাকা বেশ কয়েকটি গাছ কেটে ফেলে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সাময়িকভাবে শান্ত করে।
ভুক্তভোগী ছাদেক আলী বলেন, খাইরুল ইসলাম খুশি গংরা ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে আমার লাগানো বহু গাছ কেটে ফেলেছে। এতে আমার প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আদালতে মামলা করার পর থেকে তারা আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
অন্যদিকে অভিযুক্ত খাইরুল ইসলাম খুশি দাবি করেন, জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। তিনি বলেন, ওই জমির প্রকৃত মালিক আমি। তাই সেখানে গাছ কেটে ঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।
এ বিষয়ে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই ইয়াকুব আলী জানান, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। একইসঙ্গে বাদীর দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেছেন।

.webp)












