সংগৃহীত
আপনি হয়তো অনেককে বলতে শুনেছেন, “চিনি খাওয়া কমিয়ে দিন, এতে আপনার ক্ষত দ্রুত সেরে উঠবে”। কিন্তু এর মধ্যে কি কোনো সত্যতা আছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মধ্যে বেশ খানিকটা সত্যতা রয়েছে। ক্ষত নিরাময়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর মতো একমাত্র কারণ চিনি নয়, কিন্তু যেহেতু রক্তে শর্করার মাত্রা ক্রমাগত বেড়ে গেলে তা ক্ষত নিরাময়কে বিলম্বিত করতে পারে, তাই এটি একটি কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ ক্ষত নিরাময়কে ধীর করে দিতে পারে, বিশেষ করে যদি তা বেশি পরিমাণে খাওয়া হয় বা রক্তে শর্করার মাত্রা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না হয়।
ক্ষত নিরাময় কীভাবে কাজ করে?
ক্ষত নিরাময় কোনো সহজ প্রক্রিয়া নয়। এটি বেশ কয়েকটি বিষয়ের সম্মিলিত ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে। সেগুলো হলো কার্যকরী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, ভালো রক্ত সরবরাহ এবং টিস্যু পুনর্গঠনের জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি। যখন এই বিষয়গুলোর কোনো একটিতে ব্যাঘাত ঘটে, তখন নিরাময় প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ এমন একটি বিষয় যা এই ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
শরীরের নিরাময় ক্ষমতার ওপর চিনির প্রভাব
অতিরিক্ত চিনি খেলে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের মাত্রা বাড়তে পারে। এই প্রদাহ যখন দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন তা সক্রিয়ভাবে টিস্যু মেরামতের কাজে বাধা দেয়। এটি এমন একটি চক্র তৈরি করে যা থেকে শরীরের পক্ষে নিজে থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন।
যখন রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকে, যেমনটা ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তখন এটি ধীরে ধীরে রক্তনালীগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এটি শরীরের যে অংশগুলো মেরামত করা হচ্ছে সেখানে পর্যাপ্ত অক্সিজেন এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি বহন করার জন্য রক্তনালীগুলোর ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে ক্ষত নিরাময় প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। কিন্তু এটাই সব নয়। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শ্বেত রক্তকণিকাও দুর্বল হয়ে পড়ে, যে কোষগুলোর ওপর শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নির্ভর করে। এর ফলস্বরূপ ক্ষত শুকাতে বেশি সময় লাগে, সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং জটিলতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
বার্নস অ্যান্ড ট্রমা (Burns & Trauma) জার্নালে প্রকাশিত একটি ২০২৫ সালের পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, ক্ষত নিরাময়ের প্রতিটি পর্যায়ে গ্লুকোজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীর রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলোকে শক্তি জোগাতে, নতুন টিস্যু তৈরি করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক মেরামত করতে গ্লুকোজ ব্যবহার করে। কিন্তু যখন গ্লুকোজ বিপাকে সমস্যা হয়, যেমনটা ডায়াবেটিসে হয়ে থাকে, তখন এটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস সৃষ্টি করে। এটি নিরাময় প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং সংক্রমণ বা অঙ্গহানির মতো গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
এখানেই প্রেক্ষাপটটি গুরুত্বপূর্ণ। ফল, শাক-সবজি এবং দুগ্ধজাত পণ্যে থাকা চিনি আর ক্যান্ডি ও সফট ড্রিংকসে থাকা চিনি এক নয়। প্রাকৃতিক চিনির উৎসগুলো সর্বোত্তম স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করতে ব্যবহৃত হয়।
ক্ষত দ্রুত নিরাময়ে আপনার যা খাওয়া উচিত
যদি আপনার কোনো দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত, আঘাত বা কোনো অস্ত্রোপচার হয়ে থাকে, তবে সঠিক টিস্যু মেরামতের জন্য প্রোটিন, গোটা শস্যের ভিটামিন ও খনিজ নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখতে হবে। এছাড়া শস্যদানা, ফল ও শাক-সবজি খেতে হবে। প্রচুর তরল পান করতে হবে। সুষম খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে রক্তে শর্করার স্বাস্থ্যকর মাত্রা বজায় রাখতে হবে।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট



.webp)







.webp)


