সংগৃহীত
ময়দা এমন একটি উপাদান যা আমরা বেশিরভাগ সময়ে কোনো দ্বিধা ছাড়াই খেয়ে থাকি। রুটি, বিস্কুট, নুডলস, পেস্ট্রি এবং অসংখ্য স্ন্যাকসের মাধ্যমে এটি নিঃশব্দে আমাদের দৈনন্দিন খাবারের অংশ হয়ে যায়। যদিও এর স্বাদ মজাদার এবং পরিচিত, কিন্তু পরিশোধিত ময়দা হজমে সমস্যা করে এবং পুষ্টির দিক থেকে হতাশাজনক বলেও পরিচিতি পেয়েছে। একারণেই অনেকে অল্প সময়ের জন্য, বিশেষ করে মাত্র দুই সপ্তাহের জন্য এটি খাওয়া বন্ধ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। এর উদ্দেশ্য তাৎক্ষণিক পরিবর্তন নয়, বরং শক্তি, ক্ষুধা এবং সার্বিক স্বস্তিতে ছোট ছোট পরিবর্তন লক্ষ্য করা। ১৪ দিনের জন্য ময়দা খাওয়া বন্ধ করলে আসলে কী হয়? চলুন জেনে নেওয়া যাক-
১. হজমশক্তি হালকা হয়
পরিশোধিত ময়দায় ফাইবারের অভাব থাকে, যা সুষ্ঠু হজমের জন্য অপরিহার্য। ময়দা খাওয়া ছেড়ে দিলে এর পরিবর্তে গোটা শস্য, ফল এবং শাক-সবজি খাওয়া হয়, যেগুলোতে প্রাকৃতিকভাবেই ফাইবার থাকে। এটি অনেকের পেট ফাঁপা, ভারী ভাব এবং ধীর হজম প্রক্রিয়া কমায়। কেউ কেউ খাবারের পর অ্যাসিডিটি বা অস্বস্তির সমস্যা কম লক্ষ্য করেন। তবে পরিবর্তনগুলো তাৎক্ষণিক না হয়ে ধীরে ধীরে হতে পারে।
২. হঠাৎ শক্তি কমে যাওয়ার সমস্যা কম হয়
ময়দা-ভিত্তিক খাবার দ্রুত হজম হয় এবং এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে বা কমে যেতে পারে। আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট উচ্চ গ্লাইসেমিক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত, যার পরে প্রায়শই শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়। এই খাবারগুলো বাদ দিলে খাবারে সাধারণত আরও বেশি হোল গ্রেইন, প্রোটিন এবং ফাইবার থাকে, যা খাবারকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ এবং তৃপ্তিদায়ক করে তোলে।
৩. ক্ষুধার ধরণ পরিবর্তিত হয়
দীর্ঘমেয়াদে পরিশোধিত ময়দা খুব একটা তৃপ্তিদায়ক নয়, যার ফলে প্রায়শই ঘন ঘন হালকা খাবার খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। দুই সপ্তাহ ময়দা ছাড়া থাকার পর, আপনি দীর্ঘ সময় ধরে পেট ভরা অনুভব করতে পারেন, বিশেষ করে যদি আপনি হোল গ্রেইন এবং প্রোটিন খান। এর ফলে ক্রমাগত খাওয়ার ইচ্ছা ছাড়াই খাবারের পরিকল্পনা করা সহজ হতে পারে।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
ময়দা খাওয়া ছেড়ে দিলেই যে ওজন আপনাআপনি কমে যাবে, এমনটা নয়। তবে এটি প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ কমাতে পারে। যেহেতু পরিশোধিত ময়দার তৈরি খাবারগুলোতে সাধারণত চিনি এবং চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে, তাই এগুলো বাদ দিলে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি কমে যায়। দুই সপ্তাহের মধ্যে আপনি শরীরে পানি জমা বা ফোলাভাব কিছুটা কমতে দেখতে পারেন। ওজন পরিবর্তন শুধুমাত্র একটি উপাদানের ওপর নয়, বরং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করে।
৫. ত্বক পরিষ্কার হয়
পরিশোধিত খাবার কমানোর পর কিছু মানুষ ত্বকের গঠনে সামান্য উন্নতি লক্ষ্য করেন। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার শরীরে হালকা প্রদাহের কারণ হয়, যা ত্বকে অনুজ্জ্বলতা বা ব্রণের মতো প্রকাশ পেতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, ময়দার মতো পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, যা ফলস্বরূপ প্রদাহ এবং তেল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারে।
৬. তীব্র আকাঙ্ক্ষা দেখা দিতে পারে, যা পরে কমেও যায়
ময়দা ছাড়া প্রথম কয়েক দিন বেশ কঠিন মনে হতে পারে, বিশেষ করে যদি রুটি বা বেকারি জাতীয় খাবার আপনার দৈনন্দিন খাবারের অংশ হয়ে থাকে। তীব্র আকাঙ্ক্ষা একটি সাধারণ ব্যাপার এবং এটি সাধারণত সত্যিকারের ক্ষুধার চেয়ে অভ্যাসের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। শরীর মানিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই তাগিদগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়ে যায়। দুই সপ্তাহ শেষে অনেকেই পরিশোধিত খাবারের প্রতি তাদের আসক্তি কমে গেছে বলে জানান।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট



.webp)

.webp)








