বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদ্দেশে ইরানি প্রেসিডেন্টের খোলা চিঠি

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদ্দেশে ইরানি প্রেসিডেন্টের খোলা চিঠি

সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। খোলা চিঠিতে তিনি বলেছেন, ইরান কোনো আগ্রাসী দেশ নয় এবং অন্য কোনো দেশের ওপর আগ বাড়িয়ে আক্রমণ করেছে— এমন ইতিহাস ইরানের নেই।

সেই সঙ্গে সাধারণ মার্কিনিদের প্রেসিডেন্ট প্রশ্ন করেছেন যে কেন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালচ্ছে এবং এর মাধ্যমে মার্কিন জনগণের কোন স্বার্থ চরিতার্থ হবে?

আজ বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্টের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে সেই চিঠি। সেখানে তিনি বলেছেন, “ইরানের বিদ্যুৎ-জ্বালানি-শিল্প অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অবকাঠামো এবং ইরানের সাধারণ জনগণের ওপর আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে যুদ্ধাপরাধ এবং শুধু তা-ই নয়; এ ধরনের কর্মকান্ডের পরিণতি ইরান কিংবা মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে আরও বহুদূর বিস্তৃত হবে।

এছাড়াও যে যুদ্ধের কারণে যে অস্থিতিশলীতা, প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি উসকে উঠেছে,, সেসবের প্রতিক্রিয়া ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বহুদূর পর্যন্ত এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য বিস্তৃত হবে বলেও সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান।

চিঠিতে পেজেশকিয়ান লিখেছেন,“আমি আপনাদের (সাধারণ মার্কিনি) কাছে জানতে চাই, এই যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কোন জাতীয় স্বার্থ জড়িত? আর এটাও কি সত্য নয় যে যুক্তষরাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রভাবে এবং প্রলোভনে পড়ে ইসরায়েলের সহায়ক শক্তি হিসেবে সংঘাতে অংশ নিয়েছে?”

 “ইরান আগ্রাসনকারী দেশ নয়। আমাদের সভ্যতা ৫ হাজার বছরের পুরোনো। নিকট বা দূর অতীতে কখনও কোনো দেশের ওপর ইরান হামলা চালিয়েছে— এমন কোনো ইতিহাস নেই। এমনকি যে যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার ইরানে হামলা করেছে, তা সত্ত্বেও আমরা কখনও সাধারণ মার্কিনিদের শত্রু বলে বিবেচনা করিনি, এখনও করছি না; আমি শুধু জানতে চাই, যুক্তরাষ্ট্র কি এখনও ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করছে? এই যুদ্ধের সঙ্গে এ নীতি কি সঙ্গতিপূর্ণ?”

ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে পশ্চিমা বিশ্বের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানের প্রথম দিনই নিহত হন খামেনিসহ ইরানের সামরিক ও সরকারি প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।

সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ইরানে নিহত হয়েছেন মোট ১ হাজার ৩৪০ জন।

এদিকে ইরানে আগ্রাসনের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রেও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে চলছে বিক্ষোভ। এমন পরিস্থিতিতেই এই খোলা চিঠি লিখলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

সূত্র : এএফপি, টাইমস অব ইসরায়েল

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট