মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩

মৃত স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা যায় যে টেলিফোন বুথে!

মৃত স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা যায় যে টেলিফোন বুথে!

সংগৃহীত

স্বজন হারানোর শোক মানুষ পুরো জীবন বয়ে বেড়ায়। অনেক সময় শোক কাটিয়ে উঠতে পারলেও তাদের স্মৃতি ভোলা যায় না। তবে জাপানে এমন একটি টেলিফোন বুথ আছে যেখান থেকে নাকি মৃত স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা যায়।

জাপানের টোকিও শহর থেকে দূরে এক পাহাড়ে এই বুথটি তৈরি করেন ইতারু সাসাকি নামে একজন ব্যক্তি। তিনি তার এক নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। তার শোক কাটিয়ে উঠতে দূরে এই পাহাড়ে এসে বসে থাকতেন। তিনি এই বুথটা তৈরি করেন এবং সেখান থেকে তার সেই আত্মীয়কে মিছেমিছি ফোন করেন, মনের কথা বলেন। এভাবে কিছুটা স্বস্তিবোধ করতেন তিনি।

২০১০ সালে প্রথম এমন সংযোগবিহীন টেলিফোন বুথ তৈরি করেন। যাকে ইতারু বলছেন ‘উইন্ড ফোন’। বাতাসে (উইন্ড) ভেসে না বলা কথা পৌঁছে যাবে প্রয়াত প্রিয়জনের কাছে, এমন ধারণা থেকেই এই নামকরণ। কাচের তৈরি টেলিফোন বুথে রয়েছে আদ্যিকালের কালো রঙের এক টেলিফোন। সামনে নোটবই। সোনালি রঙের ডায়ালে ব্যবহারের দাগ স্পষ্ট। এখানেই এপারের লোকেরা কথা বলেন ওপারের লোকেদের সঙ্গে।

২০১১ সালের ভূমিকম্প ও সুনামিতে জাপানের তোহোকু শহরে প্রাণ হারায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। মাত্র আধাঘণ্টার মধ্যে শহরটি পুরো ধবংসস্তূপে পরিণত হয়। শহরের প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ মারা যায় এতে। তখন থেকেই জনপ্রিয়তা পায় উইন্ড ফোন। হাজারো মানুষ প্রতিদিন উইন্ড ফোনের কাছে ভিড় করতে থাকে। প্রিয়জনকে না বলা কথা ভাসিয়ে দেন হাওয়ায়।

প্রিয়জনকে না বলা কথা বলেন এখানে এসে। মন হালকা করেন মনের কথা বলে। আসলে এই টেলিফোনে কিন্তু কোনো সংযোগ নেই। মৃতদের সঙ্গে কথা বলা, পুরোটাই মানুষের কল্পনা। মূলত স্বজন হারানোর ব্যথা মানুষকে সারাজীবন কষ্ট দেয়। নিজেকে সান্ত্বনা দিতেই এই কথোপকথনের অভিনয়টুকু করেন তারা।

এই বিস্ময়কর ফোন বুথ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে, ওয়েলিংটনের একজন নার্স ওহিরো বে সৈকতে অনুরূপ একটি বুথ স্থাপন করেন। যেন সেখানকার শোকাতুর মানুষরা যেন নিজেদের একটু সান্ত্বনা দিতে পারেন। অনেকেই এসেছেন এবং ধীরে ধীরে এই বুথটিও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

০৫ মে ২০২৬ || ২২ বৈশাখ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১২৯জন