বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

শুধু ফুসফুসে নয়, ক্যানসারের ঝুঁকি এখন শরীরের প্রতিটি অঙ্গে

শুধু ফুসফুসে নয়, ক্যানসারের ঝুঁকি এখন শরীরের প্রতিটি অঙ্গে

সংগৃহীত

শুধু ধূমপায়ী নয়, প্যাসিভ স্মোকিংও (পরোক্ষ ধূমপান) অত্যন্ত ক্ষতিকর। ধূমপায়ী ব্যক্তির জ্বলন্ত সিগারেট, বিড়ি বা তামাকের ধোঁয়া অনিচ্ছাকৃতভাবে পরিবারের অন্য সদস্য, শিশু বা বয়স্করা যদি নিয়মিত গ্রহণ করেন, তাহলে তারাও ধূমপায়ী ব্যক্তির মতো ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। এতে তাদেরও ক্যানসার, হৃদরোগ, ফুসফুসের, স্ট্রোকের মতো রোগের ঝুঁকির মাত্রা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে এটি শিশু, গর্ভবতী নারী এবং শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

ধূমপান মানেই যে শুধু ফুসফুসের ক্ষতি বা ফুসফুসের ক্যানসার তা নয়। চিকিৎসকরা বলেন, তামাকের বিষ মানব শরীরের প্রায় প্রতিটি অঙ্গকেই ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং অন্তত ১৫ ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি আশঙ্কা বাড়ায়। ভয়ংকর তথ্য হলো, এই ক্ষতি বহু বছর নীরবে চলতে থাকে, অথচ বেশিরভাগ মানুষ তা টেরই পান না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিগারেটের ধোঁয়ায় ৭০টিরও বেশি ক্যানসার-সৃষ্টিকারী রাসায়নিক পদার্থ থাকে। এই ধোঁয়া মানব শরীরে প্রবেশের পর সেই বিষাক্ত উপাদান শুধু ফুসফুসে জমে থাকে না বরং তা রক্তের মাধ্যমে পুরো শরীরে জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে একের পর এক অঙ্গ আক্রান্ত হতে শুরু করে।

ধূমপানের ক্ষতি শুধু মানব শরীরের কোষ নষ্ট করাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি শরীরের স্বাভাবিক কোষ গঠন প্রক্রিয়ার ক্ষমতাও দুর্বল করে দেয়। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ সৃষ্টি করে, যা ক্যানসারের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয়।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয়গুলোর একটি হলো, ব্লাডার বা মূত্রথলির ক্যানসার। অনেকেই মনে করেন, ধূমপানের সঙ্গে এটির সম্পর্ক কী? কিন্তু সিগারেটের বিষাক্ত রাসায়নিক কিডনির মাধ্যমে ছেঁকে প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। ফলে দিনের পর দিন এসব রাসায়নিক মূত্রথলির ভেতরের অংশে আঘাত করতে থাকে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

বাংলাদেশে মুখ ও গলার ক্যানসারের ঝুঁকি আরও বেশি। তার কারণ, ধূমপানের পাশাপাশি গুটখা, জর্দা বা অন্যান্য ধোঁয়াবিহীন তামাকও সমান বিপজ্জনক। এই ধরনের ক্যানসারে আক্রান্তদের অনেক সময় কথা বলা, খাওয়া, গিলতে সমস্যা, এমনকি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতেও অসুবিধা পড়তে হয়। অনেক রোগীকেই দীর্ঘ চিকিৎসা, রেডিয়েশন বা বড়ো অস্ত্রোপচারের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।

এ বিষয়ে চিকিৎসকরা সতর্কবার্তা দেন, শুধুমাত্র ধূমপায়ী নয়, প্যাসিভ স্মোকিংও (পরোক্ষ ধূমপান) অত্যন্ত বিপজ্জনক। পরিবারের অন্য সদস্য, শিশু বা বয়স্করা যদি নিয়মিত সিগারেটের ধোঁয়ার মধ্যে থাকেন, তাহলে তাদেরও ক্যানসার, হৃদরোগ ও ফুসফুসের অসুখসহ বিভিন্ন শারীরিক ঝুঁকির সম্ভাবনা বাড়ে।

তবে স্বস্তির খবর হচ্ছে, ধূমপান ছাড়ার পর থেকেই শরীর সময়ের সঙ্গে নিজেকে সারিয়ে তুলতে কাজ শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হতে থাকে। সময়ের সঙ্গে ফুসফুসের কাজ করার ক্ষমতা বাড়ে, রক্তসঞ্চালন ভালো হয়, সংক্রমণ কমে এবং ক্যানসারের ঝুঁকিও সময়ের সঙ্গে কমতে থাকে।

যদিও ধূমপান ছাড়া সহজ নয়। নিকোটিন শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কেও প্রবল আসক্তি তৈরি করে। তাই কাউন্সেলিং, নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি, ওষুধ ইত্যাদি সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

তাদের মতে, ধূমপান এখন আর শুধু ফুসফুসের সমস্যা নয় বরং এটি পুরো শরীরের বিরুদ্ধে এক আক্রমণ। আর তাই যত তাড়াতাড়ি তামাক ছাড়া যায়, ততই ভবিষ্যতের প্রাণঘাতী ঝুঁকি কমবে।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

১৪ মে ২০২৬ || ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১২৯জন