Warning: file_get_contents(http://ipwho.is/216.73.216.233): failed to open stream: HTTP request failed! HTTP/1.1 429 Too Many Requests in /home/u483705982/domains/alokitosirajgonj.com/public_html/details.php on line 129

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

যক্ষ্মা হলে কেন রক্ষা নেই?

যক্ষ্মা হলে কেন রক্ষা নেই?

প্রত্নতাত্ত্বিকরা ২০০৮ সালে খুঁজে পায় ৯ হাজার বছর আগের দু’টি মানব কঙ্কাল। ঠিক কি কারণে মানবসভ্যতার প্রাচীন যুগের ওই দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল, তা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিকরা তাজ্জব বনে গেলেন! তাদের হাড়ের নমুনায় পাওয়া গেল যক্ষ্মা রোগের জীবাণু! 

যক্ষ্মাকে প্রাচীন গ্রিসের মানুষরা জানতেন ‘ফাইসিস’ নামে, ইনকা সভ্যতার লোকেরা এ রোগকে বলতেন ‘চাকি অনকে’, ইংরেজরা বলেন ‘টিউবারক্যুলেসিস’। আজকের দিনেও টিউবারক্যুলেসিস কিংবা ‘টিবি’ বিশ্বের অন্যতম প্রধান সংক্রামক রোগ হিসেবে টিকে আছে। এমনকি ম্যালেরিয়া ও জটিল রোগ এইডসের তুলনায়ও যক্ষ্মা রোগে প্রতি বছর অপেক্ষাকৃত বেশি মানুষ মারা যায়! কিন্তু কি এই যক্ষ্মা কেনই বা অন্য অনেক রোগকে পৃথিবী থেকে হটানো গেলেও হাজার হাজার বছর যাবত টিকে আছে যক্ষ্মার জীবাণু 

সাধারণত টিউবারক্যুলেসিস কিংবা টিবি জীবাণুর বৈজ্ঞানিক নাম মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারক্যুলেসিস। এটি একটি বায়ুবাহিত জীবাণু। যেসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে শরীরে বাতাস প্রবেশ করে, সেসব অঙ্গ ব্যবহার করেই ফুসফুসে যক্ষ্মার জীবাণু আশ্রয় নেয় ও ফুসফুসকে সংক্রমিত করে। সেইসঙ্গে ম্যাক্রোফেজ নামক দেহের এক প্রকার প্রতিরক্ষা কোষ সেই সংক্রমণস্থলে পৌঁছায়। আক্রমণকারী ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ম্যাক্রোফেজ ভক্ষণ করা শুরু করে এবং যক্ষ্মার আক্রমণ থেকে যথাসম্ভব দেহকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। 

অনেক ক্ষেত্রেই দেহের ম্যাক্রোফেজ যক্ষ্মার জীবাণুর সাথে লড়াই করে জয়ী হয় এবং যক্ষ্মারোগ প্রতিরোধ করতে পারে। কিন্তু শারীরিকভাবে একটু পিছিয়ে থাকা মানুষ অর্থ্যাৎ যারা অপুষ্টির শিকার, ডায়বেটিস কিংবা এইডসের মতো রোগে আক্রান্ত অথবা গর্ভবতী, এসব মানুষের দেহের দুর্বল প্রতিরক্ষাতন্ত্র অনেক সময়ই যক্ষ্মার জীবাণুকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়না।  

এমনটি হলে ম্যাক্রোফেজ মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারক্যুলেসিস জীবাণুকে ভক্ষণ করে হজম করতে পারে না। আর এ কারণে ম্যাক্রোফেজের ভেতরেই ব্যাকটেরিয়াগুলো বংশ বিস্তার করা শুরু করে। এভাবেই ফুসফুসের টিস্যুগুলোতে টিউবারক্যুলেসিসের সাম্রাজ্য তৈরি হতে থাকে। এরপর ব্যাকটেরিয়াগুলো বিশেষ ধরণের সেল ডিগ্রেডিং এনজাইম ক্ষরণ করা শুরু করে এবং আক্রান্ত টিস্যুগুলো ধ্বংস করতে থাকে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে রোগী বুকে ব্যথা অনুভব করে ও কাশির সাথে রক্ত যায়। 

ফুসফুসের এই সংক্রমণ ও ক্ষয় যত বাড়ে, রোগীর শরীরে ততই অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দেয়। অক্সিজেনের অভাবে শরীরে হরমোন উৎপাদন ও প্রবাহে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যায়। খাবারের রুচি নষ্ট হয়ে যায় ও শরীরে লৌহ উৎপাদন কমে যায়। এই পর্যায়ে জীবাণু রোগীর দেহের অস্থিতন্ত্রে প্রবেশ করে ও হাড়কে আক্রমণ করে। এর ফলে রোগী ব্যাক পেইন অনুভব করে ও আস্তে আস্তে নড়াচড়ায়  অক্ষম হতে থাকে। অস্থির সাথে সাথে যক্ষ্মার জীবাণু রোগীর দেহের কিডনি ও অন্ত্রে আক্রমণ করে। এ পর্যায়ে রোগী তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে। 

যক্ষ্মার লক্ষণ

যক্ষ্মার জীবাণু রোগীর মস্তিষ্কে পৌঁছালে প্রচণ্ড মাথাব্যথা অনুভূত হয় ও চেতনা দুর্বল হয়ে পড়ে। ওজন হারানো, একটানা কাশি ও কাশির সাথে রক্ত যাওয়া, ত্বক ধূসর হয়ে যাওয়া - এই লক্ষণগুলো কোনো রোগীর মধ্যে দেখা গেলেই নিশ্চিত হওয়া যায় যে তার যক্ষ্মা হয়েছে। এসব লক্ষণের কারণেই যক্ষ্মাকে ভিক্টোরিয়ান যুগে ইংল্যান্ডে ‘সাদা প্লেগ’ নামে অভিহিত করা হতো। ইংল্যান্ডে ওই সময়টাতে যক্ষ্মাকে ‘রোমান্টিক রোগ’ নামেও ডাকা হতো। কারণ সে সময়ের ইংল্যান্ডের দারিদ্রপীড়িত ও রুগ্ন শরীরের কবি ও শিল্পীরা খুব বেশি এ রোগে আক্রান্ত হতেন। এছাড়া যক্ষ্মার লক্ষণগুলোর সুবিধা নিয়ে অনেকে একে ভ্যাম্পায়ারের কাণ্ড বলেও গুজব ছড়ানো শুরু করলেন

যক্ষ্মার প্রতিষেধক আবিষ্কার

এতসব অবৈজ্ঞানিক তত্ত্বের ছড়াছড়ি সত্ত্বেও ওই সময়েই সর্বপ্রথম যক্ষ্মার প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়। ১৮৮২ সালে রবার্ট কক নামের একজন জার্মান চিকিৎসক সর্বপ্রথম চিহ্নিত করেন, একটি ব্যাক্টেরিয়াজনিত রোগ। তার ঠিক ১৩ বছর পরে বিজ্ঞানী উলহেলম রন্টগেন এক্স-রে আবিষ্কার করলেন। এক্স-রে আবিষ্কারের পর চিকিৎসকদের জন্য ফুসফুসে যক্ষ্মার আক্রমণ ও সংক্রমণের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা অনেকটা সহজ হয়ে যায়। মূলত এই প্রক্রিয়াতেই জটিল সব রোগের কার্যকরী টিকা উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়। এডওয়ার্ড জেনারের গুটি বসন্তের টিকা আবিষ্কার যার একটি উদাহরণ। 

১৯২১ সালে যক্ষ্মার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন ‘বিসিজি টিকা’। এই আবিষ্কার যক্ষ্মা রোগের জন্য আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিক তৈরির পথে এগিয়ে দেয় চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের। কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার যক্ষ্মা নির্মূলের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ে কার্যকর হয় না। কারণ ৯০ শতাংশ সময়েই টিবি ব্যাক্টেরিয়া দেহে প্রবেশ করে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। ঠিক যখন প্রতিরক্ষাতন্ত্র কোনো কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে, তখনই তারা সুযোগ পেয়ে আক্রমণ করে। এর ফলে যক্ষ্মা নির্মূল করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। 

শেষ পর্যন্ত যক্ষ্মা শনাক্ত করা গেলেও প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি অনুযায়ী রোগীকে দীর্ঘ ৯ মাস যাবত ওষুধ গ্রহণ করতে হয় ও বিভিন্ন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হয়। দীর্ঘ এই ওষুধ সেবনকাল ও নানা জটিল পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার কারণে অনেক রোগীই আর ওষুধ চালিয়ে যেতে আগ্রহ পান না। তখন ঘটে আরো ভয়ানক ঘটনা। ওষুধের পুরো কোর্স সম্পন্ন না করলে সব টিবি ব্যাক্টেরিয়া নিধন হয় না, এর ফলে বেঁচে থাকা ব্যাক্টেরিয়াগুলো নিজস্ব মেমোরি ব্যবহার করে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে পড়ে।

আজো পৃথিবীর অন্তত ৩০টি দেশে যক্ষ্মা রোগ একটি চূড়ান্ত আতঙ্কের নাম। সেসব দেশে যক্ষ্মা এখনো মহামারী হয়ে দেখা দেয়। পাশাপাশি এই দেশগুলোর সামগ্রিক স্বাস্থ্যাবস্থাও খুব একটা সুবিধের নয়। যথাযথ চিকিৎসা সেবা পাওয়াও সেসব অঞ্চলে বেশ দুষ্কর। এখনো চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা মনে করেন, যক্ষ্মা নির্মূলে আরো কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করা সময়ের দাবী। সেই সাথে দরকার উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টিকাও। এরই মধ্যে বিজ্ঞানীরা বিশেষ ধরণের মূত্র পরীক্ষা আবিষ্কার করেছেন, যার মাধ্যমে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই যক্ষ্মা শনাক্ত করা সম্ভব। এছাড়াও বিশেষ ধরণের ওরাল ট্রিটমেন্টও আবিষ্কার হয়েছে যার মাধ্যমে যক্ষ্মা প্রতিরোধের সময় ৭৫ শতাংশ কমিয়ে আনা যায়। 

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য যক্ষ্মাকে একটি অভিশাপই বলা চলে। এর করাল গ্রাস থেকে এখনো মুক্তি পায়নি পৃথিবী। তাই অদূর ভবিষ্যতেই এই রোগের একটি সহজ চিকিৎসা চালু হবে সেই প্রত্যাশাই থাকবে আমাদের। 

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

২৫ জুলাই ২০২৬ || ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১২৯জন

সর্বশেষ:

শিরোনাম: