সংগৃহীত
বলিউডের ইতিহাসে এমন অনেক সিনেমা আছে, যেগুলো মুক্তির সময় খুব একটা সাড়া ফেলতে পারেনি, কিন্তু সময়ের সঙ্গে হয়ে উঠেছে কাল্ট। ১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আন্দাজ আপনা আপনা’ ঠিক তেমনই একটি ছবি। আজও যার সংলাপ, চরিত্র আর দৃশ্য দর্শকদের মুখে মুখে ফেরে। কিন্তু এই হাস্যরসের আড়ালে লুকিয়ে ছিল তীব্র প্রতিযোগিতা, মনোমালিন্য—এমনকি নীরব এক ‘স্টাইল যুদ্ধ’ও।
সম্প্রতি এই ছবির কস্টিউম ডিজাইনার অ্যাশলে রেবেলো সেই অজানা গল্পই সামনে এনেছেন। তাঁর কথায়, সেটে দুই নায়িকা কারিশমা কাপুর ও রাভিনা ট্যান্ডনের সম্পর্ক এতটাই ঠান্ডা ছিল যে প্রতিযোগিতা ছড়িয়ে পড়েছিল পোশাকের ডিজাইন পর্যন্ত।
পর্দার আড়ালে নীরব লড়াই
ছবির জনপ্রিয় গান ‘ইয়ে রাত অউর ইয়ে দূরি’র শুটিংয়ের সময় দুই নায়িকার পোশাক ছিল আলোচনার কেন্দ্র। অ্যাশলে রেবেলো জানান, রাভিনার জন্য তিনি বিশেষভাবে ডিজাইন করেছিলেন একাধিক নাইটি—যেখানে ফার, ফেদার যোগ করে এনে দিয়েছিলেন নতুনত্ব। পরিচালকও তা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন।
কিন্তু এখানেই শুরু হয় অন্য গল্প। রেবেলোর দাবি, কারিশমা নাকি নিজের টিমের কাউকে পাঠাতেন রাভিনার কস্টিউম দেখতে—কী ডিজাইন হচ্ছে, কে বানাচ্ছে, কেমন দেখাচ্ছে। সেই তথ্য নিয়ে নিজের স্টাইলিস্টকে নির্দেশ দিতেন, যেন তার পোশাকও কম না হয়।

‘আন্দাজ আপনা আপনা’র দৃশ্য। আইএমডিবি
এ ঘটনাই প্রমাণ করে, বলিউডে প্রতিযোগিতা শুধু অভিনয়েই সীমাবদ্ধ থাকে না—পর্দার প্রতিটি ফ্রেমে ‘কে বেশি নজর কাড়বে’, সেই লড়াইও সমান তীব্র।
সম্পর্কের টানাপোড়েন: শুটিংয়ে বিশৃঙ্খলা
এই দ্বন্দ্ব শুধু পোশাকে থেমে থাকেনি। ছবির শুটিং চলাকালে দুই অভিনেত্রীর মধ্যে কথা বলা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। এমনকি সহ-অভিনেতা আমির খানও এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, শুটিং ছিল ‘বিশৃঙ্খল’। রাভিনা সেটে এলে কারিশমা চলে যেতেন, আবার কারিশমা এলে রাভিনা থাকতেন না। ফলে একসঙ্গে দৃশ্য ধারণ করাই হয়ে উঠেছিল কঠিন।
এই অস্থিরতার মধ্যেও পরিচালক রাজকুমার সন্তোষি ছবিটি শেষ করতে পেরেছিলেন—যা নিজেই এক বিস্ময়।
‘মিটমাট’-এর চেষ্টা: আমির-সালমানের উদ্যোগ
তবে পুরো পরিস্থিতি একেবারে অচল হয়ে যায়নি। সহ-অভিনেতা সালমান ও আমির খান চেষ্টা করেছিলেন দুই নায়িকার মধ্যে সম্পর্ক ঠিক করতে। একটি দৃশ্যে, যেখানে দুই অভিনেত্রীকে একসঙ্গে বাঁধা ছিল, তখনই নাকি মজা করে বলা হয়েছিল—‘তোমরা কথা না বললে ছাড়ব না!’ সেই মুহূর্তে কিছুটা হলেও বরফ গলেছিল।
রাভিনা ট্যান্ডন নিজেও পরে স্বীকার করেন, সেটে সবাই নিজেদের মতো ব্যস্ত ছিল, কারও সঙ্গে কারও খুব একটা কথা হতো না। তবু সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই তৈরি হয়েছিল এক অনবদ্য কমেডি।
সূত্র: প্রথম আলো

.webp)
.webp)










