সংগৃহীত
রাজধানীর উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সায়েন্স কার্নিভাল। এতে রাজধানীর ৪১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬ শতাধিক ক্ষুদে শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
বৃহস্পতিবার ওই কার্নিভালের সমাপনী দিনে পুরস্কার বিতরণীর মধ্যে ৪৩তম আসরের পর্দা নামে।
সমাপনী দিনে কার্নিভালে ছিল উপচেপড়া ভিড়। ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের প্রজেক্ট দেখতে ভিড় জমায় রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা, পিছিয়ে ছিলেন না অভিভাবকরাও। কার্নিভালে আনা ‘মার্স রোভার’ প্রজেক্ট নিয়ে কথা হয় ৩ সদস্যের ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের একটি দলের। উদ্ভাবক ওই শিক্ষার্থীদের দাবি, মার্স রোভারের মাধ্যমে তারা মঙ্গল জয় করতে চান। প্রজেক্টটির প্রতিনিধি দলের শিক্ষার্থীরা হলেন উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্ঘ্য ওঝা, হিমাদ্রি বাড়ৈ রুহান ও শোভন দে শুভ্র।
অর্ঘ্য ওঝা বলেন, ‘আমি বিজ্ঞানী হতে চাই। জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ থেকেই এই প্রজেক্টটি আমরা তিনজন তৈরি করেছি। এই প্রজেক্টের মধ্য দিয়ে, আমরা মঙ্গল গ্রহকে আবিষ্কার করতে চাই। ইলন মাস্কের স্পেস এক্স যদি মঙ্গলাভিযান করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে থাকবে। সেই ভাবনা থেকে মঙ্গলকে আরও ভালো করে আবিষ্কার করতে চাই, সেই থেকেই আমাদের এই প্রজেক্ট তৈরি করা।’
কার্নিভালে ‘ফেস রিকগনিশন এটেন্ডেন্স সিস্টেম’ নামে একটি প্রজেক্ট তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মুঠোফোন ব্যবহার করে মুখ শনাক্তকরণের সাহায্যে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি দিতে পারে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হয়ে যায়। ফলে আলাদা করে হাজিরা-খাতা ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। প্রজেক্টটি তৈরি করেছেন উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহাত খান ও তারেক বিন জিহাদ। তারা তাদের নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই প্রযুক্তি চালু করতে চান।
৪৩তম সায়েন্স কার্নিভালে অলিম্পিয়াডে ৬শ প্রতিযোগী এবং ১৭২টি জমাকৃত বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রজেক্ট জমা পড়ে। এদিকে উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এবারের সায়েন্স কার্নিভাল ছিল অন্যবারের তুলনায় বড়। এতে সর্বোচ্চ প্রতিযোগী অংশ নেন বলে জানিয়ে অলিম্পিয়াডের সভাপতি মো. ইয়ামিন আবদুল্লাহ ধ্রুব বলেন, ‘এবারের আয়োজন অত্যন্ত উৎসবমুখর ছিল। আশা করি, আগামী এমন আয়োজন আরো বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে।’
উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা চাই শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানচর্চার অনুপ্রেরণা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটুক। কেননা একজন শিক্ষার্থী শুধু বাংলাদেশে প্রতিযোগিতা করে না, সে এখন বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকে। যার ফলে এই ধরনের বিজ্ঞান মেলাসহ এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিস শিক্ষার্থীদের এগিয়ে রাখতে সাহায্য করে।’
সমাপনী দিনে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া। অন্যদের মধ্যে ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ মিরানসহ আরও অনেক। ৩ দিন ব্যাপী ৪৩তম সায়েন্স কার্নিভালে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল অনলাইন পোর্টাল ঢাকা পোস্ট, দৈনিক খবরের কাগজ, ডেইলী সান ও যমুনা টেলিভিশন।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট













