Warning: file_get_contents(http://ipwho.is/216.73.217.178): failed to open stream: HTTP request failed! HTTP/1.1 429 Too Many Requests in /home/u483705982/domains/alokitosirajgonj.com/public_html/details.php on line 129

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

সিরাজগঞ্জে পথশিশুদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে লার্নিং কর্ম ব্যাগ

সিরাজগঞ্জে পথশিশুদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে লার্নিং কর্ম ব্যাগ

সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার চর মালসাপাড়া বস্তির জয়ফুল লার্নিং স্কুলের শিক্ষামূলক কর্ম ব্যাগ টোকাই ও পথশিশুদের পড়ালেখায় আলো ছড়াচ্ছে। বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত এসব শিশুরা তাদের কাজের ফাঁকে ফাঁকে স্কুলে না গিয়েও কর্ম ব্যাগ দেখে দেখে পড়ালেখা শিখছে। ফলে চর মালসাপাড়া বস্তির জয়ফুল লার্নিং স্কুলের কর্ম ব্যাগ এসব ঝড়ে পড়া টোকাই ও পথশিশুদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

গ্লোবাল ফান্ড ফর চিল্ড্রেন এর সহযোগিতায় ডেভেলপমেন্ট ফর ডিজএ্যাডভান্টেজড পিপল (ডিডিপি) পরিচালিত এ স্কুল এখন এ এলাকার টোকাই ও পথশিশুদের মডেলে পরিণত হয়েছে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে ওই স্কুলের শিক্ষিকা মাহমুদা খাতুন বলেন, তার স্কুলে মোট ২৫জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের মধ্যে ১১জন টোকাই ও পথশিশু। এরা বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। এ কাজ না করলে তাদের পেটে ভাত জোটে না। ফলে তারা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না। সপ্তাহে দুই দিন এরা স্কুলে এলেও পড়া মনে রাখতে পারে না। ফলে এদের পড়া মনে রাখার সুবিধার্থে ও স্কুলে না এসেও যাতে পড়া মনে রাখতে পারে সে জন্য এদের লার্নিং কর্ম ব্যাগ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তারা কাজের ফাঁকে ফাঁকে কর্ম ব্যাগের গায়ে লাগানো অক্ষর দেখে পড়া মুখস্থ করে। ফলে তারা এখন আর পড়া ভুলে যায় না। এদিকে এসব শিশুর পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় প্রতিদিন তাদের কাজে পাঠিয়ে থাকে। ফলে তাদের পক্ষে নিয়মিত স্কুলে যাওয়াও সম্ভব নয়। তাই এই শিশুদের কীভাবে স্কুলের বাইরে পড়ালেখা শেখানো যায় সেই ভাবনা থেকে এই বিশেষ কর্ম ব্যাগ তৈরি করা হয়। ফলে এসব শিশুরা যখন বিভিন্ন পণ্য রাস্তা থেকে কুড়াতে যায় তখন তারা এই বর্ণমালা যুক্ত বিশেষ ব্যাগের সাহায্যে ক্লাসে শেখানো বর্ণমালা গুলো দেখে দেখে পড়া মুখস্থ করে থাকে।

এ বিষয়ে ওই স্কুলের শিক্ষার্থী সোহান মোল্লা বলেন, স্কুল করলে টাকা আয় করা সম্ভব হয় না। ফলে টাকার অভাবে বাবা মা আমাদের মারধর করে। খেতে দেবে না। এ পরিস্থিতিতে আমাদের কাজে যেতেই হয়। তাই এ স্কুলে আমরা সপ্তাহে দুই দিন ক্লাস করি। বাকি দিনগুলোতে জিনিসপত্র কুড়ানোর সময় ওই ব্যাগের গায়ের বর্ণমালা দেখে দেখে পড়া মুখস্থ করি। ফলে আর আমরা পড়া ভুলে যাই না। ফলে ম্যাডাম আমাদের খুব আদর করে। আবার বাড়িতেও বকুনি খেতে হয় না।

এ বিষয়ে অভিভাবক আমিনা খাতুন ও রোখসানা খাতনি বলেন, আমরা অত্যন্ত গরিব মানুষ। তাই ছেলের টোকানো জিনিস বিক্রির টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হয়। একদিন কাজে না গেলে আমাদের পেট চলে না। তাই ছেলেকে স্কুলে না পাঠিয়ে কাজে পাঠাই। ফলে তাদের পড়ালেখা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। জয়ফুল লার্নিং স্কুল অভিনব পড়ার কৌশল চালু করায় আমাদের শিশুরা কাজের ফাঁকে পড়ালেখা শিখছে। এতে আমরা খুবই খুশি।

এ বিষয়ে ডিডিপির নির্বাহী পরিচালক কাজী সোহেল রানা বলেন, কর্মজীবি শিশুদের জন্য আমরা একটি মডেল তৈরি করেছি যাতে অন্যরা এটিকে অনুসরণ করে ঝড়ে পড়া পথশিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে পারে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

১৩ আগস্ট ২০২৬ || ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১২৯জন

সর্বশেষ:

শিরোনাম: