রোববার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘বটগাছে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হোক সোহেলের’ দাবি সাধারণদের

‘বটগাছে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হোক সোহেলের’ দাবি সাধারণদের

সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচিত মামলার রায় শুনতে আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রায়কে ঘিরে সেখানে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের পাশাপাশি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তারা।

বিক্ষুব্ধ জনগণ রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দ্রুততম সময়ে রায় কার্যকর করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। উপস্থিত অনেকেই বলেন, একটি শিশুর সঙ্গে এমন বর্বরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানান, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন নির্মম ঘটনার শিকার হতে না হয়।

রোববার (৭ জুন) সকালে মহানগর দায়রা জজ কোর্টে রায় শুনতে আসা বিক্ষুব্ধ জনগণের সঙ্গে কথা বললে তারা এসব কথা বলেন

আদালত প্রাঙ্গণে রায় শুনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘জালিম সোহেলকে এই কোর্ট প্রাঙ্গণের বট গাছে ঝুলিয়ে পাথর নিক্ষেপ করে জনসম্মুখে তাকে হত্যা করা হোক। তাকে হত্যার এই চিত্র যেন বিশ্ববাসী দেখুক, যাতে করে আর এমন নির্মম ও পৈশাচিক কাজ না করতে পারে। আমরা চাই রাষ্ট্র এমন পদক্ষেপ নেক, যাতে করে আর কোনো মায়ের কোল খালি না হয়। আমি চাই এক সপ্তাহের মধ্যে যেন হত্যাকারীদের রায় কার্যকর করা হোক।’

‘সোহেলকে বাঘের খাঁচায় ছেড়ে দিন’

মিরপুর থেকে রায় শুনতে আসা মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘সোহেলের ফাঁসি হওয়া উচিত। আর রায় ঘোষণার পরপরই আজকে যেন রায় কার্যকর করা হয়। এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন হোক, কেউ যেন আর এমন বর্বর কাজ না করতে পারে।’

তবে তিনি এ সময় সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা সোহেলকে চিড়িয়াখানার বাঘের খাঁচায় ছেড়ে দিন। এতে করে আপনাদেরও লাভ হবে। ওকে যখন বাঘ ছিঁড়ে-কামড়ে কামড়ে খাবে দেখতে টাকা দিয়ে যাবে চিড়িয়াখানায়। এতে সরকারের লাখ লাখ টাকা আয় হবে।’

কোর্ট প্রাঙ্গণে রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় শুনতে আসা শামশাদ বেগম নামে এক নারী বলেন, ‘এমন ফুটফুটে একটি শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা গোটা দেশবাসীর হৃদয় নাড়া দিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মাথাবিহীন মরদেহটি দেখে আমিও স্থির থাকতে পারিনি। বীভৎস এ হত্যাকাণ্ডের জন্য অবশ্যই আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হোক। একইসঙ্গে দ্রুততম সময়ে কার্যকর করতে হবে। যেন এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আর কোনো নরপশু এমন সাহস না করেন।’

এর আগে রোববার (৭ জুন) সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচিত মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

এদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে একই মামলার অপর আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনই হাজতখানায় রয়েছেন। আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত।

এর আগে, ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত। মাত্র চার কার্যদিবসে মামলাটির বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা গেছে।

গত ১ জুন সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ২ জুন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। ওই দিন ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেন আদালত। পরে ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিরা।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। এ সময় তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

০৭ জুন ২০২৬ || ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১২৯জন

সর্বশেষ:

শিরোনাম: