শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর ডিসেম্বর থেকে, বাড়তি বেতন জানুয়ারিতে

পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর ডিসেম্বর থেকে, বাড়তি বেতন জানুয়ারিতে

সংগৃহীত

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান বোর্ডে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার। বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানীর সভাপতিত্বে বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে সভা শুরু হয়।

বাবুল আখতার বলেন, আজকের সভায় আমরা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব ও আলোচনা করেছি। মালিকপক্ষের প্রতিনিধিও একমত হয়েছেন, নতুন মজুরি ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে কার্যকর হবে। জানুয়ারিতে ডিসেম্বর মাসের বেতন দেওয়ার সময় শ্রমিকরা নতুন মজুরি অনুযায়ী বর্ধিত বেতন পাবেন। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই।

তিনি বলেন, মজুরি নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারের নিম্নতম মজুরি বোর্ড ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের। কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রেখে আন্দোলন করলেই কোনো একক মালিকের পক্ষে নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাই শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন

গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে প্রথম সভা চলছে

এক মাসের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামোর আশা

সাভারে শ্রমিকদের তাণ্ডব, সাংবাদিক-পুলিশসহ আহত ১০

বাবুল আখতার বলেন, শ্রমিকদের মজুরি ছাড়াও নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। শ্রম আইন বাস্তবায়ন না হওয়া, ট্রেড ইউনিয়ন করতে না পারা, ছুটি না পাওয়া এবং শ্রমিকদের বিভিন্ন অভিযোগ ও বঞ্চনা দীর্ঘদিনের। এসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হবে।

শ্রমিকদের মজুরির দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন বিভিন্ন অঙ্কের মজুরির প্রস্তাব দিয়েছে। কেউ ৩০ হাজার টাকা, কেউ ২৭ হাজার টাকা, আবার কেউ ডলারের হিসাবে মজুরি দাবি করেছে। তবে সব শ্রমিক ফেডারেশন একসঙ্গে বসে একটি সমন্বিত দাবি তৈরি করে পরবর্তী সভায় বোর্ডের কাছে উপস্থাপনের চেষ্টা করবে।

বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্যের কাছেও শ্রমিকদের জন্য একটি যৌক্তিক মজুরির প্রস্তাব দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান বাবুল আখতার। তিনি বলেন, মালিক, শ্রমিক ও নিরপেক্ষ সদস্যের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বোর্ড সুপারিশ তৈরি করবে। পরে তা শ্রম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সরকার সেই সুপারিশ বিবেচনা করে গেজেট প্রকাশ করবে।

আন্দোলনে সহিংসতা না করার আহ্বান

চলমান শ্রমিক আন্দোলনে সহিংসতার বিষয়ে বাবুল আখতার বলেন, আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষ বা রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে আলোচনা হচ্ছে।

তিনি শ্রমিকদের এ ধরনের কোনো ইন্ধনের শিকার না হওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ একটাই শিল্প টিকে থাকতে হবে, কাজ করতে হবে এবং ন্যায্য পাওনা বুঝে পেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকরা সাধারণত সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। তবে তাদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা হলে ক্ষোভ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। শ্রমিকনেতা ও সাধারণ শ্রমিকদের গ্রেপ্তার না করা, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রিমান্ডে নির্যাতন না করা এবং যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

মালিকপক্ষও একমত

সভা শেষে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এবিএম সামছুদ্দিন বলেন, মালিক ও শ্রমিকপক্ষ অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা করেছেন। ডিসেম্বরের মধ্যে মজুরি নির্ধারণের কার্যক্রম শেষ করতে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

তিনি বলেন, শ্রমিকরা যাতে ডিসেম্বর মাসের বেতন জানুয়ারিতে পাওয়ার সময় নতুন মজুরি অনুযায়ী বাড়তি টাকা পান, সে বিষয়ে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই। আমরা সবাই এ বিষয়ে একমত হয়েছি।

শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই মজুরি বোর্ড কাজ করছে। ডিসেম্বরের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করার বিষয়ে তারা আশাবাদী।

সভায় বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি আনোয়ার হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

এমএম/আরএফ

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

০৬ নভেম্বর ২০২৬ || ২১ কার্তিক ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১২৯জন

সর্বশেষ:

শিরোনাম: