সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

এমবিবিএস ছাড়াই আল্ট্রাসনো রিপোর্ট, কুষ্টিয়ায় ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা

এমবিবিএস ছাড়াই আল্ট্রাসনো রিপোর্ট, কুষ্টিয়ায় ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা

সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় এমবিবিএস না হয়েও আল্ট্রাসনো রিপোর্ট করার দায়ে শহরের কোর্টপাড়াস্থ ‘তুলসান ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামে একটি প্রাইভেট ক্লিনিক সিলগালা করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের মালিক মহেন্দ্র কুমার আগরওয়ালকে ১ মাসের কারাদণ্ড একইসঙ্গে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে ওই ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা আকতার। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা আকতার তার আদেশে উল্লেখ করেন, মহেন্দ্র কুমার আগরওয়াল কুষ্টিয়া সদর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৫২ ধারায় অপরাধ করেন এবং সাক্ষীদের উপস্থিতিতে দোষ স্বীকার করায় তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও  অনাদায়ে আরও ৭ দিনের কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, আমি নিজেই সোর্সিং করে যাচাই করেছি। উনি এমবিবিএস ডাক্তার না হয়েই আল্ট্রাসনো করে রিপোর্ট দিচ্ছেন। একজন এমবিবিএস ডাক্তার ছাড়া কোনোভাবেই আল্ট্রাসনোগ্রাম করা বা রিপোর্ট তৈরি করার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া উনার রিপোর্টে যে এমবিবিএস ডাক্তারের নাম ব্যবহার করা হয়েছে- আমরা উনার সাথে তাৎক্ষণিক মোবাইল কলে কথা বলে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানিয়েছেন, ওই আল্ট্রাসনো করার সময় আমি সেখানে ছিলাম না। তুলসান ডায়াগস্টিক সেন্টারের মালিক মহেন্দ্র আগরওয়াল এভাবে দীর্ঘদিন ধরে জাল জালিয়াতি করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছেন বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

তবে, এ বিষয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত মহেন্দ্র কুমার আগরওয়ালের ছোট ভাই কুষ্টিয়া শিশু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. কৈলাশ কুমার তুলসানের অভিযোগ, আমার বড় ভাই প্রকৃত অর্থে একজন দক্ষ আল্ট্রাসনো টেকনিশিয়ান। তার আল্ট্রাসনো রিপোর্টকে মানসম্মত হিসেবেই জানেন চিকিৎসরা। উনি কার্যত খুব সামান্য অর্থের বিনিময়ে সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আল্ট্রাসনো করে দেওয়ার কারণে শহরের শীর্ষস্থানীয় প্রাইভেট ক্লিনিক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের স্বার্থহানি হওয়ায় তারাই সিভিল সার্জনকে ইনফ্লুয়েন্স করে এই হয়রানিটা করালেন’।

বড় ভাই মহেন্দ্র যে কাজটি করছেন, এই একই কাজ জেলার সবগুলো প্রাইভেট ক্লিনিকেও হচ্ছে এবং আরও অধিক নিম্নমানের টেকনিশিয়ানদের দিয়ে করানো হচ্ছে’। আইন প্রয়োগ হলে সবার জন্যই হওয়া উচিত’।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

১৫ জুন ২০২৬ || ১ আষাঢ় ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১২৯জন

সর্বশেষ:

শিরোনাম: