সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা থামছেই না। র্যাব ও পুলিশের ওপর সাম্প্রতিক হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সদর উপজেলার কাশিপুরে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আটক পাঁচজনকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৬ মে) বিকেল চারটার দিকে সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের হাশেমবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
রাত ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য সোলায়মানের একটি টিনশেড বাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন ও জনি গ্রুপ বিভিন্ন সময় বাড়িটি বিক্রি করে এলাকা ছাড়তে সোলায়মানকে চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিল। বর্তমানে সোলায়মান বাড়িটিতে বসবাস না করলেও সেটি ভাড়া দেওয়া ছিল।
বুধবার বিকেলে কয়েকটি ভ্যানগাড়ি নিয়ে একদল লোক বাড়িটিতে এসে ভাড়াটেদের বের করে দেয়। পরে তারা ঘরে ভাঙচুর চালিয়ে আসবাবপত্র ও মালামাল ভ্যানে তুলে নিতে শুরু করে। এ সময় বাড়ির মালিক জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে ফতুল্লা মডেল থানার এএসআই আশিকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে জনির সহযোগী আবদুল্লাহসহ দুজনকে আটক করে এবং তাঁদের হাতকড়া পরানো হয়। একই সঙ্গে লুট হওয়া মালামাল বহনের কাজে জড়িত আরও তিন শ্রমিককেও আটক করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়ার প্রস্তুতির সময় জনির নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী চাপাতি, রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যদের মারধর করে এবং হাতকড়াসহ আটক পাঁচজনকেই ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার ও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু পরে একদল দুর্বৃত্ত সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেয় এবং আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ছিনিয়ে নেওয়া ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট












