সংগৃহীত
ওয়ানডেতে জয়ের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও শুভসূচনা করেছিল বাংলাদেশ। মাঝে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় সিরিজ হারের আর কোনো শঙ্কা ছিল। তবে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে জিতে সিরিজের দখল নিতে পারত লিটন দাসের দল। কিন্তু শেষ ম্যাচে গতকাল (শনিবার) ২০ বল এবং ৬ উইকেট হাতে রেখে হেসেখেলে জিতেছে কিউইরা। পরে স্বাগতিক দর্শকদের উন্মাদনায় ব্যাঘাত ঘটানোয় খেলা শেষে দুঃখপ্রকাশ করেন কিউই অধিনায়ক।
ম্যাচ শেষে নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে আসেন টম ল্যাথামের ইনজুরিতে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া নিক কেলি। প্রতিপক্ষ বাংলাদেশকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘(বাংলাদেশের) দুইটি ভিন্ন বোলিং আক্রমণ। দুই দলেই ক্লাস ছিল। দুই সিরিজের (বাংলাদেশ দলে) একদম ভিন্ন ধাঁচের বোলাররা ছিল। একটি সিরিজে একটি বোলিং ইউনিটের বিপক্ষে খেলে অভ্যস্ত হয়ে তিন ম্যাচ পর পুরো বোলিং আক্রমণ পরিবর্তন হলে কাজটা কঠিন হয়ে যায়। এখানে বাড়তি অভিজ্ঞতা হয়েছে আমাদের। তবে সবাই বেশ ভালো বোলার এবং তারা নিজেদের ক্লাস দেখিয়েছে।’
বাংলাদেশি দর্শকদের আবেগ-উন্মাদনায় মুগ্ধ হলেও, ম্যাচের ফলাফলের জন্য তাদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করলেন কেলি, ‘দারুণ পরিবেশ ছিল এখানে। অনেক শোরগোল, তারা (সমর্থক) অনেক প্যাশনেট। বৃষ্টির পরেও তারা ফিরে এসেছিল। বাংলাদেশের লোকজন দারুণ। আমাদের সময়টাও এখানে দারুণ কেটেছে। প্রায় হাউজফুল ছিল। তাদের পার্টি নষ্ট করার জন্য দুঃখিত, আমরা ম্যাচ জিতে নিয়েছি। যদিও তারা ক্রিকেটকে ভালোবাসে, আশা করি তাদের আনন্দ দিতে পেরেছি।’
বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় রেখেই নিউজিল্যান্ড তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিল। তাদের ভাবনা অনুযায়ীই কাজে লেগেছে সেই সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ আগে ব্যাট করতে নেমে দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে। এরপর পাওয়ার প্লে শেষ হতেই মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে হানা দেয় বৃষ্টি। এরপর লিটন-হৃদয়রা যখন ফের ব্যাটিংয়ে নামলেন, ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ১৫ ওভারে। একে তো বৃষ্টির প্রভাবে উইকেটে ভেজা ভাব, তার ওপর হঠাৎ কমিয়ে আসা ম্যাচের দৈর্ঘ্য মিলিয়ে চাপ সামলাতে পারেনি বাংলাদেশ।
১৪.২ ওভারেই ১০২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। যার জবাবে ব্যাট করতে নেমে কিউইরা ২০ বল এবং ৬ উইকেট হাতে রেখে জিতেছে। বৃষ্টি ম্যাচের ফলাফলে কেমন ভূমিকা রেখেছে সেই প্রশ্নে কেলির জবাব, ‘অনেক জরুরি ছিল। টসের আগে আমরা কথা বলেছিলাম, বৃষ্টির আগে ভেবেছিলাম প্রথমে ব্যাট করব, পরে ভাবলাম না আগে বোলিং করা দরকার। বৃষ্টিটা পরে আসায় এই ব্যাপারটা কাজে লেগেছে, আমাদের সাহায্য করেছে। মাঠে নামার পর ১৫ ওভারে ম্যাচ চলে আসলে কাজটা আসলে বেশ কঠিন হয়ে যায়। শুরু থেকেই ১৫ ওভারের ম্যাচ জানলে হয়ত আগে থেকেই কিছুটা চড়াও হয়ে ব্যাট চালাতেন। এই কারণেই টসের সিদ্ধান্তটা এবং সেটি আমাদের পক্ষেই এসেছে।’
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট












.webp)