সংগৃহীত
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের পর জলাতঙ্কের টিকা (র্যাভিস ভ্যাকসিন) সরবরাহ শুরু হয়েছে। এর আগে, প্রায় চার মাসের বেশি সময় ধরে টিকা সরবরাহ বন্ধ থাকায় রোগীদের উচ্চমূল্যে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছিল।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল থেকেই রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে বিনামূল্যে রোগীদের মাঝে দেওয়া শুরু হয়েছে র্যাবিস ভ্যাকসিন ও জলাতঙ্কের টিকা।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের সংকটের পর অবশেষে সরকারিভাবে এই টিকা সরবরাহ শুরু হয়েছে। মূলত টেন্ডার ও প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়ায় জটিলতার কারণে গত কয়েক মাস ধরে অনেক সরকারি হাসপাতালে এই টিকার অভাব ছিল।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২২০ জন মানুষকে বিনামূল্যে জলাতঙ্কের টিকা 'র্যাবিস ভ্যাকসিন' দেওয়া হয়। এ ছাড়া, প্রত্যেক মাসে গড়ে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মানুষ সদর হাসপাতাল থেকে জলাতঙ্কের টিকা 'র্যাবিস ভ্যাকসিন' নিয়ে থাকে। কিন্তু ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর থেকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে বিনামূল্যে জলাতঙ্কের টিকা 'র্যাবিস ভ্যাকসিন' সরবরাহ বন্ধ ছিল। এ সময় কুকুর ও বিড়ালে কামড় দেওয়া রোগীদের বাইরে থেকে বেশি দামে ভ্যাকসিন কিনে তাদের নিতে হতো।
বিড়ালের ভ্যাকসিন নিতে আসা সজ্জনকান্দা গ্রামের আমিনুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে কুকুর ও বিড়ালের ভ্যাকসিন দেওয়া বন্ধ ছিল। আমি কয়েকদিন আগেও বিড়ালের ভ্যাকসিন নিতে এসে ঘুরে গেছি। পরে বাইরে থেকে বেশি দাম দিয়ে কিনে নিতে হয়েছে। আজ শেষ ডোজ নিতে এসেছিলাম। হাসপাতালে সরবরাহ থাকায় বিনামূল্যে ভ্যাকসিন পেলাম।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর থেকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া বন্ধ ছিল। ৪ মাস ১২ দিন পর আবার আজ থেকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে।
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ বলেন, আমাদের প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালগুলোতে র্যাবিস ভ্যাকসিন কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা বা র্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।
টিকা না থাকায় গত কয়েক মাস ধরে সদর হাসপাতালসহ জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে কুকুর ও বিড়াল কামড়ের শিকার রোগীরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা পাচ্ছিলেন না। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পথে রয়েছে।










