সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২

ঈদে সাইয়্যেদা একাই বাড়ি মাতিয়ে রাখত, এবার এলো লাশ!

ঈদে সাইয়্যেদা একাই বাড়ি মাতিয়ে রাখত, এবার এলো লাশ!

সংগৃহীত

মাহজাবিন মোশাররাদ সাইয়্যেদা (৯) প্রতিবছর বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ করতে লক্ষ্মীপুরের বাড়িতে আসত। যতদিন থাকত, একাই সে বাড়ি মাতিয়ে রাখত। সবার সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসে তার সময় কাটত। এবারও বাবা-মা ও বোনের সঙ্গে লক্ষ্মীপুর আসার পথে কুমিল্লার দুর্ঘটনায় সে প্রাণ হারিয়েছে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ থেকে রোববার (২২ মার্চ) রাতে সাইয়্যেদার মরদেহ বাড়িতে আনা হয়েছে। এবার আর আনন্দ-উল্লাস নয়, সাইয়্যেদার শোকে স্বজনদের মাঝে চলছে মাতম। তার হাসিমুখ আর কেউ কখনো দেখবে না।

সাইয়্যেদার ফুফা আব্দুর রব ও চাচি শাহিনুর সুলতানা জানান, সাইয়্যেদার বাবা সিরাজ উদদৌলা দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুরের একটি জামে মসজিদের খতিব। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে তিনি সেখানেই থাকেন। প্রতি ঈদে ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে আসেন। এবার বাড়িতে ফিরে নতুন ঘরে উঠে আনন্দ করার কথা ছিল সবার। কিন্তু স্বজনরা এখন শোকে পাথর হয়ে আছেন। যে সাইয়্যেদা একাই বাড়ি মাতিয়ে রাখত, এবার তার লাশ এল বাড়িতে। বাড়ির উঠানে সে আর কখনো আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠবে না। 

জানা গেছে, দুই বছর আগে সিরাজ উদদৌলার একমাত্র ছেলে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। এবার কুমিল্লায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তার ছোট মেয়েটিও চলে গেল। তার বড় মেয়ে তাসনুবা তাবাসসুম আফনান (২২) বর্তমানে আইসিইউতে। সিরাজ উদদৌলা ও তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার ফরিদপুর থেকে মামুন পরিবহনের একটি বাসে সিরাজ তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে লক্ষ্মীপুরে আসছিলেন। রাত প্রায় ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় ট্রেনের ধাক্কায় বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে তার মেয়ে সাইয়্যেদাসহ ১২ জন নিহত হন। দুর্ঘটনায় সিরাজ উদদৌলা, তার স্ত্রী রাজিয়া ও বড় মেয়ে আফনান গুরুতর আহত হন।
তারা ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরমধ্যে আফনান আইসিইউতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাফেজ সিরাজ উদদৌলা লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। কিন্তু নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে তিনি সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামে নতুন বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। চাকরির কারণে সপরিবারে ফরিদপুরে থাকলেও ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসতেন। সেই নির্মাণাধীন ঘরেই এবার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ওঠার কথা ছিল তার।

সিরাজ উদদৌলার শ্যালক আবি আবদুল্লাহ বলেন, আমার ভাগনি আফনানের অবস্থা আশঙ্কাজনক, সে আইসিইউতে আছে। বোন রাজিয়ার শরীরের হাড় ভেঙে গেছে, সে এখন পঙ্গু হাসপাতালে। সিরাজ উদদৌলা মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন।

সিরাজ উদদৌলার ভায়রা লিটন মিয়া বলেন, সাইয়্যেদার লাশ বাড়িতে আনা হয়েছে। এখনো জানাজার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তার বাবার আসার কথা রয়েছে; সকালে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

হাসান মাহমুদ শাকিল/এমএসএ 

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট