সংগৃহীত
মানসিক স্বাস্থ্য মানুষের দৈনন্দিন জীবনের একটি মৌলিক উপাদান। কাজ করা, সম্পর্ক গড়ে তোলা, নতুন কিছু শেখা এবং জীবনের নানা চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা অনেকাংশেই মানসিক সুস্থতার ওপর নির্ভর করে। তবে বাস্তবতা হলো, শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে আলোচনার তুলনায় মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি এখনও পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায় না।
অথচ বাংলাদেশে বর্তমানে কয়েক কোটি মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বসবাস করছেন, যা মোট জনসংখ্যার আনুমানিক ১৬-১৮ শতাংশের সমান। বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ বিষণ্নতা, উদ্বেগ, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কিংবা মনোদৈহিক উপসর্গের অভিজ্ঞতা লাভ করেন।
যদিও কমিউনিটি-ভিত্তিক নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো সীমিত, তবুও দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরামর্শ, চিকিৎসা এবং ফলো-আপের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা এই সমস্যার ব্যাপকতা নির্দেশ করে।
এই বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও চিকিৎসাসেবার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এখনো ব্যাপক ভুল বোঝাবুঝি ও নিরুৎসাহিত মনোভাব বিদ্যমান, যার ফলে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে পিছিয়ে যান। সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং আত্মহত্যা বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগজনক মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালের মতো বড় শহরে কিছু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও মানসিক স্বাস্থ্য ক্লিনিক রয়েছে, তবুও এই সেবার বিস্তার সীমিত এবং অসমান। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রবেশাধিকার অত্যন্ত কম। স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষজ্ঞের অভাবে অনেক রোগীকে দূরবর্তী শহরে যেতে হয়, যার ফলে চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং অনেকে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসা গ্রহণ থেকেই বঞ্চিত হন।
বিষণ্নতা: একটি নীরব ঘাতক
চিকিৎসা সেবার এই অপ্রতুলতার পথ ধরেই বাংলাদেশে বিষণ্নতা একটি নীরব কিন্তু গভীর প্রভাব বিস্তারকারী মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এটি দীর্ঘস্থায়ী মনখারাপ, আগ্রহ ও আনন্দহীনতা, আত্মমূল্যবোধের অবনতি এবং দৈনন্দিন কার্যক্ষমতা হ্রাসের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
গবেষণা-ভিত্তিক অনুমান অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো সময় ক্লিনিক্যাল পর্যায়ের বিষণ্নতার উপসর্গে ভোগেন। এর অর্থ হলো, বিপুল সংখ্যক মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে এই সমস্যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
তরুণ প্রজন্ম ও নারীদের ঝুঁকি
বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায় যে তরুণ প্রজন্ম ও নারীরা এই ঝুঁকির ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি সংবেদনশীল। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার বিষণ্নতার উপসর্গ অনুভব করেন। পড়াশোনা, জীবনের লক্ষ্য, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা, পারিবারিক প্রত্যাশা এবং সামাজিক তুলনা এই ঝুঁকি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, আত্মহত্যার একটি বড় অংশ ঘটে কিশোর ও তরুণ বয়সে। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবনের শুরুতে থাকা তরুণদের মধ্যে এই ঝুঁকি বেশি দেখা যায়।
একই সঙ্গে নারীদের মধ্যে বিষণ্নতার উচ্চ হার সামাজিক বৈষম্য, পারিবারিক দায়িত্বের চাপ এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হয়। বিষণ্নতা কেবল ব্যক্তিগত মানসিক কষ্টেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি কর্মক্ষমতা ও শিক্ষাগত অর্জন কমিয়ে দেয়, পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক দুর্বল করে এবং দীর্ঘমেয়াদে আত্মহত্যার ঝুঁকিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তোলে।
আত্মহত্যা: একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা
আত্মহত্যা বাংলাদেশে একটি নীরব কিন্তু গভীর সামাজিক ও জনস্বাস্থ্য সমস্যা। এটি কোনো একক মানসিক রোগ নয়; বরং প্রায়শই দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, বিষণ্নতা, হতাশা এবং সামাজিক সহায়তার অভাবের সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তথ্যসূত্রের অনুমান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর ১০,০০০-এর বেশি মানুষ আত্মহত্যার মাধ্যমে প্রাণ হারায়। প্রতি এক লাখ জনসংখ্যায় আত্মহত্যার হার তুলনামূলকভাবে মাঝারি হলেও সংখ্যাগত দিক থেকে এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, আত্মহত্যার একটি বড় অংশ ঘটে কিশোর ও তরুণ বয়সে। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবনের শুরুতে থাকা তরুণদের মধ্যে এই ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, ব্যর্থতার ভয়, সম্পর্কজনিত সমস্যা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার এই ঝুঁকি বাড়ায়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, আত্মহত্যায় মৃত্যুর বাইরেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ জীবনের কোনো পর্যায়ে আত্মহত্যা-সম্পর্কিত চিন্তার অভিজ্ঞতা লাভ করে, যা ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত।
মানসিক স্বাস্থ্য, কুসংস্কার ও সেবার সীমাবদ্ধতার সম্পর্ক
বাংলাদেশে মানসিক রোগ নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও সামাজিক কুসংস্কার আজও বিদ্যমান। এই কুসংস্কার ও নেতিবাচক মনোভাবের জন্য অনেক মানুষ মানসিক সমস্যাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখে এবং পেশাদার সহায়তা নেওয়ার পরিবর্তে সমস্যাটি গোপন রাখে। অনেক মানুষ মনে করেন যে মানসিক রোগ মানে ‘লৌকিক পাগলামি’ বা ‘মানসিক শক্তির অভাব’।
এর ফলে যারা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন তারা নিজেদের সমস্যা নিয়ে লজ্জিত হন এবং কাউকে জানাতে চাই না। পরিবার, বন্ধুবান্ধব বা সহকর্মীদের কাছেও তারা সমস্যার কথা বলতে দ্বিধা বোধ করেন। এই সংস্কৃতি ও ধ্যানধারণা রোগীর জন্য চিকিৎসা পাওয়া কঠিন করে তোলে এবং মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে তোলে।
আরও পড়ুন
মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে আর্ট ও মিউজিক থেরাপির গুরুত্ব কতখানি?
ডুমস্ক্রলিং কী, আচরণগত পরিবর্তন কীভাবে সম্ভব?
অনেক মানুষ মনে করেন যে, মানসিক সমস্যার চিকিৎসা করা যায় না বা শুধুই সময়ের সাথে ঠিক হয়ে যায়। এই ভুল ধারণা মানুষের মধ্যে চিকিৎসা গ্রহণে অনীহা তৈরি করে। অনেকে মেন্টাল হেলথ প্রফেশনালের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে এই সমস্যার সমাধান খোঁজেন অনলাইন ডায়াগনোসিস বা বন্ধু-পরিবারের পরামর্শে, যা অনেক সময় ভুল বা অসম্পূর্ণ হয়।
সমাজে মানসিক রোগীদের প্রতি ভয়, অসম্মান বা পারিবারিক লুকিয়ে রাখার আচরণ তরুণ ও বেড়ে ওঠা শিশুদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও তা এখনো অপর্যাপ্ত। কিছু বড় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় মনোরোগ বিভাগের পাশাপাশি সাইকোলজিস্ট ও কাউন্সেলিং পরিষেবা চালু আছে। কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি ও কাউন্সিলিং সেবা চালু করার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে, কিন্তু তা অনেক ক্ষেত্রে সীমিত।
চিকিৎসা খরচ ও প্রফেশনাল সাহায্য পাওয়া সব মানুষের জন্য সমান সহজ নয়। বিশেষ করে কম আয়ের পরিবার, গ্রামাঞ্চলের মানুষ বা যারা সচেতন নয় তারা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত থাকে। মানসিক স্বাস্থ্য সেবা পেতে অনেক লোক দামী চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা নিয়মিত কাউন্সিলিং খরচের কারণে টানাপড়েন অনুভব করেন। সরকার ও বিভিন্ন এনজিওদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য কাজ চলছে, কিন্তু আর্থিক ও মানবসম্পদ উভয়ের অভাবেই পরিষেবা অনেকের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য সরকার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সব স্তরের মানুষের একযোগে কাজ করা দরকার। দেশে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর ও সুদূরপ্রসারী নীতিমালা গ্রহণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা জরুরি:
১. জাতীয় নীতি ও আইন বাস্তবায়ন: মানসিক স্বাস্থ্যকে জাতীয় স্বাস্থ্য নীতির অগ্রাধিকারমূলক অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
২. প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংযুক্তি: প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে গ্রামের প্রতিটি হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা। উপজেলা, ইউনিয়ন ও কমিউনিটি ক্লিনিকে মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং, পরামর্শ ও প্রাথমিক চিকিৎসা সহজলভ্য করা।
৩. মানবসম্পদ উন্নয়ন: মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, প্রশিক্ষিত কাউন্সিলর এবং মানসিক স্বাস্থ্য কর্মীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা। মেডিকেল ও নার্সিং শিক্ষাক্রমে মানসিক স্বাস্থ্য অন্তর্ভুক্ত করা।
৪. তরুণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি: স্কুল ও কলেজে মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা, কাউন্সিলিং কর্নার এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবক প্রশিক্ষণ চালু করা।
৫. পরিবার ও শিক্ষকদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি: পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা বৃদ্ধির জন্য ক্যাম্পেইন ও কর্মশালা পরিচালনা করা। যাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক ও ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং একই সঙ্গে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, সহায়ক ও দায়িত্বশীল অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অননুমোদিত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিদ্যমান। সামাজিক অবহেলা, ভুল ধারণা ও চিকিৎসা সেবা-সম্ভাবনার সীমাবদ্ধতা এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।
৬. আত্মহত্যা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা: জাতীয় আত্মহত্যা নজরদারি ব্যবস্থা, ২৪/৭ হেল্পলাইন, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য কমিউনিটি-ভিত্তিক সহায়তা সম্প্রসারণ।
৭. গবেষণা ও তথ্য ব্যবস্থা: মানসিক স্বাস্থ্য গবেষণায় কেবল রোগ নির্ণয় নয় বরং সামাজিক সহায়তা, শিক্ষা, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং সেবার প্রবেশাধিকারকে সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। এজন্য নিয়মিত কমিউনিটি-ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ, তথ্যভিত্তিক নীতি নির্ধারণ এবং এনজিও ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন।
৮. সচেতনতা বৃদ্ধি ও কুসংস্কার হ্রাস: সামাজিক ও ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে মানসিক রোগ সম্পর্কে ভুল ধারণা ঠিক করার উদ্যোগ নেয়া। গণমাধ্যম, সামাজিক প্রচার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি কার্যক্রমের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কুসংস্কার হ্রাস করা।
বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অননুমোদিত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিদ্যমান। সামাজিক অবহেলা, ভুল ধারণা ও চিকিৎসা সেবা-সম্ভাবনার সীমাবদ্ধতা এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। কিন্তু সচেতনতা বৃদ্ধি, সেবা সম্প্রসারণ ও সামাজিক সহায়তা দ্বারা আমরা একটি কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারি।
বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলা, প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং শিক্ষা ক্ষেত্রের সহায়তা শিশু ও তরুণদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য। এই সংকট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ, প্রমাণভিত্তিক গবেষণা এবং সহজলভ্য সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
সরকারি নীতিমালার আধুনিকায়ন, বাজেট বরাদ্দ, প্রমাণভিত্তিক পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন খাতের মধ্যে আন্তঃসমন্বয় এই লক্ষ্য অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। এই ধরনের পদক্ষেপ শুধুমাত্র রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রদানেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং মানসিক স্বাস্থ্যকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে গড়ে তোলা, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী শনাক্তকরণ এবং সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা সমানভাবে জরুরি। সুচিন্তিত পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার প্রকোপ হ্রাস, জীবনমান বৃদ্ধি এবং একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
ড. জেসান আরা : সহযোগী অধ্যাপক ও চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট











