বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

২০ ম্যাচ হারা দল চমকে দিলো লিভারপুলকে

২০ ম্যাচ হারা দল চমকে দিলো লিভারপুলকে

সংগৃহীত

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের একেবারে শেষ দল উলভস। ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর লিগে কখনো টানা দ্বিতীয় জয় পায়নি। সেই খরা ঘুচাল তারা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলকে হারিয়ে। শেষ মুহূর্তে তাদের একটি শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে জালে জড়ায়। লিগে নবম হার দেখল লিভারপুল। ৩০ ম্যাচে ২০টি হারা উলভস ২-১ ব্যবধানে তৃতীয় জয় পেয়েছে।

প্রিমিয়ার লিগের তলানিতে থাকা উলভস আগের ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে জিতেছিল। এদিন ব্রাজিলিয়ান আন্দ্রে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে মৌসুমের প্রথম গোল করে তিন পয়েন্ট এনে দেন।

আর্সেনালের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে ড্র ও ভিলার বিপক্ষে জয়ের পর ঘরের দর্শকদের সামনে স্বাচ্ছন্দে ম্যাচ খেলেছে উলভস। ম্যাচে তাদের নেওয়া প্রথম শটে রদ্রিগো গোমেস জাল খুঁজে পান। মোহাম্মদ সালাহ ১০ লিগ ম্যাচে প্রথমবার গোল করেন। তার ১২২ দিনের গোলখরার অবসানে লিভারপুল সমতায় ফেরে। কিন্তু আর্নে স্লটের দলের চতুর্থ স্থানে ওঠার জন্য সেটা যথেষ্ট ছিল না।

টানা তিন জয়ের পর রেডরা হারল। তাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার স্বপ্ন কিছুটা ফিঁকে হয়ে গেল। চতুর্থ স্থানে থাকা অ্যাস্টন ভিলার (৫১) চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলে ৩ পয়েন্ট পেছনে লিভারপুল (৪৮)। ম্যাচের পরিসংখ্যানে লিভারপুলের একচেটিয়া দাপট ছিল। বল দখলে রেখেছিল ৬৫ শতাংশের বেশি সময়। ১৯টি শটের মধ্যে লক্ষ্যে রেখেছিল সাতটি। বিপরীতে উলভস চার শট নিয়ে একটি লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।

প্রত্যাশিতভাবেই সফরকারীরা আক্রমণাত্মকভাবে খেলা শুরু করেছিল। জোয়াও গোমেস বল হারিয়ে ফেললে কোডি গাকপো গোলের লক্ষ্যে শট নেওয়ার সুযোগ পান। তবে বলটি সরাসরি হোসে সা-এর হাতে চলে যায়। 

এদিন স্মরণ করা হয় প্রয়াত ডিওগো জোতাকে। দুই ক্লাবেই খেলেছিলেন এই পর্তুগিজ। গ্যালারির চারটি স্ট্যান্ডের সবাই দাঁড়িয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানায়— প্রথমবার ১৮তম মিনিটে, মলিনাক্সে তার পরা জার্সির নম্বরটি স্মরণ করতে। এরপর ২০তম মিনিটে লিভারপুল সমর্থকরা তার নাম ধরে গান গায়।

খেলা রেডদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তারা রেলিগেশনের আশঙ্কায় থাকা স্বাগতিকদের খুব একটা সমস্যায় ফেলতে পারছিল না। তাদের কঠোর রক্ষণাত্মক কাঠামোতে ভুগছিল লিভারপুল। তাদেরকে দূরপাল্লার শটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। ডোমিনিক সোবোসলাইয়ের ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া শটটি সা সহজেই রুখে দেন।

বিরতির পর অ্যাওয়ে দল স্বাগতিকদের তাদের নিজেদের অর্ধে আরও চেপে ধরতে শুরু করে। হুগো একিতিকের দূরের পোস্টে পাঠানো ফ্লিকের পর বদলি খেলোয়াড় কুর্টিস জোন্স এক গজ দূর থেকে বলটি বুকে লাগিয়ে বারে মারেন।

সালাহ বক্সের বাইরে থেকে একটি শট অনেক ওপর দিয়ে মারেন। সেটি গোলপোস্টের পেছনে থাকা উলভস সমর্থকদের মাঝে গিয়ে পড়ে। চাপে থেকেও উলভস লিভারপুলকে স্তব্ধ করে দেয়। খেলার ১২ মিনিট বাকি থাকতে এগিয়ে যায় তারা।

টোলু আরোকাডারে মাঠের অনেক দূর থেকে আসা বল দখলে নিয়ে ভার্জিল ফন ডাইককে পরাস্ত করেন। তারপর রদ্রিগো গোমেসের পথে বল বাড়িয়ে দেন। এগিয়ে এসে তিনি আলিসনের ওপর দিয়ে নিপুণভাবে বলটি চিপ করে জালে পাঠান।

লিভারপুল তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজতে থাকে। রিও এনগুমোহা বেঞ্চ থেকে উঠে এসে সমতা ফেরানোর কাছে ছিলেন। কিন্তু তার শটটি সা আঙুলের ডগা দিয়ে ঠেকিয়ে পোস্টে লাগিয়ে দেন। রেডরা তাদের সমতাসূচক গোলটি পায় জ্যঁ-রিকনার বেলেগার্ডের একটি ভুল পাসে। সালাহ বল কেড়ে নেন এবং গোল করে তার গোলখরার অবসান ঘটান।

লিভারপুল জয়সূচক গোলের খোঁজে মরিয়া ছিল। কিন্তু উলভস একেবারে শেষ মুহূর্তে অভাবনীয়ভাবে তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয়। আলিসনের একটি লম্বা বল সরাসরি ইয়ারসন মস্কোয়েরার কাছে চলে যায়। তিনি আন্দ্রেকে আক্রমণের সুযোগ করে দেন। তার শটটি জো গোমেজের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে অ্যালিসনকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়। এই জয়ে লিগ টেবিলে টিকে থাকার কঠিন সম্ভাবনা থেকে এখনো ১১ পয়েন্ট দূরে উলভস।

এফএইচএম/

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ: