মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১

শীতের আগাম সবজিতে ভরপুর বাজার

শীতের আগাম সবজিতে ভরপুর বাজার

বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন আগাম সবজির সমারোহ ঘটেছে জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে। আর স্থানীয়দের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এসব সবজি যাচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। আর ভোক্তারা পাচ্ছেন শীতের বিভিন্ন ধরনের আগাম সবজি।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, মাঠে-ঘাটে আগাম জাতের শীতকালীন সবজির ব্যাপক চাষ হয়েছে। আগাম সবজির মধ্যে বাজারজাত করা হচ্ছে, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, বেগুন, লাউ, করল্লা, পেঁপে, বরবটি, শিমসহ বিভিন্ন জাতের শাকসবজি। জানা যায়, এসব সবজির মান ভালো হওয়ায় পাইকারি দরে কিনে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এবার আগাম সবজির চাষ ও ফলন বেশি হওয়ায় দৈনিক ৭-৮টা করে সবজির গাড়ি লোড করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় পাঠাচ্ছেন তারা। এতে যেমন লাভবান হচ্ছেন কৃষক তেমনি তারাও বেশ লাভবান হচ্ছেন বলে জানান সবজি ব্যবসায়ী কালাম, বাহাদুরসহ অন্যন্যা ব্যবসায়ীরা ।

বর্তমান সবজির যে বাজার দর, এমন দাম থাকলে লাভবান হবেন বলে আশা করেন কৃষক সোহেল। তিনি বলেন, আমি দেড় বিঘা জমিতে লাউ আবাদ করেছি। এতে প্রতি সপ্তাহে ১০-১৫ হাজার টাকার লাউ বিক্রয় করছি। আশা করছি মৌসুম শেষে দেড় বিঘার লাউ প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভ হবে। সদর উপজেলার নারগুন কহরপাড়া গ্রামের ক্ষুদ্র সবজি চাষি হানিফ  চাষ করেছেন বিভিন্ন প্রকার সবজি। এর মধ্যে পালং শাক তুলে বাজারজাত করছেন তিনি। তিনি বলেন, পালং শাক শুধু ৭ কাঠা জমিতে করেছি। খরচ হয়েছে ৩ হাজার টাকা। ৩ কাঠা জমির শাক কেটে বিক্রি করেছি সাড়ে ৬ হাজার টাকা। আরও বাকি যেটা শাক আছে সেটা বর্তমান বাজার অনুযায়ী প্রায় ১৫ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারব। আর যদি এর থেকে দাম বেশি হয় তাহলে আশা করছি ২০-২৫ হাজার টাকা বিক্রয় হবে।

কৃষকদের কাছে পাইকারি দরে ভালো মানের ফুলকপি ৩৫ টাকা, করল্লা ৪০, বেগুন ২২-২৫, লাউ প্রতি পিচ ২০, মুলা ৭-৮ টাকা কেজি দরে কিনছেন বলেন সবজি ব্যবসায়ী মনির হোসেন। তবে এবার ধুন্দল চাষ করে খরচের তুলনায় দাম না পেয়ে হতাশ ধুন্দল চাষিরা। ধুন্দল চাষি বাতেন বলেন, এবার ফুলকপি, লাউসহ অন্যান্য সবজির দাম অনেক হলেও ধুন্দের দাম নেই। খুচরা বাজারে সবজির অনেক দাম সেই তুলনায় কৃষক পর্যায়ে তারা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করে কৃষক হাবিব বলেন, এবার আমাদের এই দিকে প্রচুর সবজির আবাদ হয়েছে। ফলনও ভালো কিন্তু আমরা চাষীরা সেরকম দাম পাচ্ছিনা। এদিকে সার কীটনাশক ও মজুরির দাম অনেক বেড়ে গেছে। এছাড়াও টাকা দিয়ে আমরা সার পাচ্ছি না। সেই তুলনায় কৃষরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না। বর্তমান সবজির বাজার অনুযায়ী খরচ ও ফলনের দাম সমান সমান হয়ে যাচ্ছে। তাই দামটা যদি আরও একটু বেশি পেতাম তাহলে কৃষকরা লাভবান হতে পারতাম। জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সবজি চাষে সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আগাম সবজি চাষে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন বলে আগাম সবজি চাষে ঝুঁকছেন অনেক কৃষক। আশা করি আবহাওয়া ভালো থাকায় সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

সর্বশেষ: