রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

চরে হলুদ চাষে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে!

চরে হলুদ চাষে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে!

সম্প্রতি সময়ে কিছু উদ্যোগী কৃষকের মাধ্যমে গোমতী নদীর চরে হলুদ চাষ হচ্ছে। কৃষকরা হলুদ চাষ করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে হলুদ বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন।

জানা যায়, কুমিল্লার গোমতী নদীর তীরের চর দীর্ঘ দিন যাবত পতিত পড়ে ছিল। এই চরে কোনো ফসল বা সবজির আবাদ করা হতো না। বর্তমানে কৃষকরা হলুদ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। কৃষকরা চরের জমিতে হলুদ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর কুমিল্লায় ১৪০ হেক্টর জমিতে হলুদ চাষ হয়েছে। গোমতীর চরের পাশাপাশি কুমিল্লা জেলা সদর, সদর দক্ষিণের লালমাই পাহাড়, সীমান্তবর্তী বুড়িচংয়ের টিলাগুলোতে হলুদ চাষ বেড়েছে।

চরের হলুদ চাষি ইউনুস মিয়া বলেন, কটকবাজার সীমান্তে গোমতীর চরের জমি পতিত পড়ে থাকতো। এবছর আমি ৩৬ শতক জমিতে হলুদের চাষ করেছি। আগে এই জমিতে বড় বড় ঘাস জন্মে ঝোপেড় সৃষ্টি হয়েছিল। এবছর এই ঝোপ পরিষ্কার করে হলুদ চাষ করছি।

তিনি আরো বলেন, হলুদ চাষে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কাঁচা হলুদ প্রতি কেজি ৩০ টাকা ও শুকনো হলুদ মেশিনে ভাঙিয়ে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। আশা করছি সব খরচ বাদ দিয়ে ৪৫ হাজার টাকা আয় করতে পারবো।

গোমতীর টিক্কারচর ব্রিজের পাশে পরিত্যক্ত জমিতে হলুদ চাষ করা আবাদ হোসেন বলেন, চরে আমার ১৫ শতক জমি খালি পড়ে থাকতো। এবছরই প্রথম হলুদ চাষ করেছি। ৯ মাস আগে লাগানো হলুদ এখন জমি থেকে সংগ্রহ করছি। হলুদের ভালো ফলন হয়েছে। আগামীতে আরো বেশি জমিতে হলুদের চাষ করবো।

করা বুড়িচং উপজেলার হোসেন মিয়া বলেন, আমি আমার ১০ শতক জমিতে হলুদের চাষ করেছি। হলুদ চাষে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। হলুদ শুকানোর পর ২৫০ টাকা কেজি বিক্রি করতে পারবো। আশা করছি দ্বিগুণ লাভবান হতে পারবো।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, পরিত্যক্ত জমিতে হলুদ ও আদা চাষ খুবই লাভজনক। গোমতী চরের জমি আগে খালি পড়ে থাকতো। বর্তমানে কৃষকরা সেখানে হলুদ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। তবে যেসব জমি পরিত্যক্ত থাকে, ঘন ঝোপজঙ্গল আছে, সেসব জমিতে হলুদ চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। আমরা কৃষকদের হলুদ চাষে সব ধরনের সহযোগীতা করবো।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ