শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১

অপরাধী সনাক্তে ‘নিষিদ্ধ ক্যামেরা’

অপরাধী সনাক্তে ‘নিষিদ্ধ ক্যামেরা’

আসামি ও অপরাধী শনাক্তে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সিলেট নগরীতে বসানো হয়েছে ১১০টি ক্যামেরা। এদের মধ্যে ১০টি অপরাধী সনাক্তে কাজ করছে।  গত ২৭ জুলাই ‘ডিজিটাল সিলেট সিটি’ প্রকল্পের আওতায় সিলেট নগরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এই নতুন প্রযুক্তি আইপি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। 

কিন্তু চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে থেকে আনা এসব এসব ক্যামেরা, ট্র্যাকিং সিস্টেম ও আনুষঙ্গিক ডিভাইসগুলো নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। পরীক্ষামূলক প্রস্তুতির সময় ফলস পজেটিভ (ভুল ব্যক্তি শনাক্ত) ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো, অকল্যান্ডসহ চারটি শহরের ‘ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন দেশটির আদালত। 

সিলেট মহানগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) জেদান আল মুসা জানান, ‘ডিজিটাল সিলেট সিটি’ নামে ৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে সিলেটকে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আনার কাজ চলছে। বর্তমানে ৫০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয় ‘ইজি অটোমেশন লিমিটেড’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। ১১০টি ক্যামেরা, ফুটেজ যাচাই-বাছাই-সংক্রান্ত সফটওয়্যারসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি মিলে প্রায় তিন কোটি ৮০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিটি সিসিটিভি ক্যামেরার সেটআপসহ দাম দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা।  প্রকল্পটির কাজ এখনো শেষ হয়নি। প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কাজ শেষ হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছে হস্তান্তর করবে। 

তিনি বলেন, প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে যেকোনো আসামি, অপরাধে জড়িত কোনো ব্যক্তি অথবা কালো তালিকাভুক্ত যানবাহনের নম্বর যদি আইপি ক্যামেরার আওতাভুক্ত কোনো এলাকায় ধরা পড়ে, তবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ম বেজে উঠবে। কন্ট্রোল রুম থেকে দেখে শনাক্ত ব্যক্তি বা গাড়িটি ধরতে সরাসরি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হবে।

ডিজিটাল সিলেট সিটি প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ মহিদুর রহমান খান বলেন, এ প্রযুক্তির ভেতরে এলগোরিদম (নির্দেশাবলি) ব্যবহার করা হয়। আমাদের ক্যামেরাগুলোর সঙ্গে অপরাধীর চেহারা যদি ৮০ শতাংশ মিলে যায় তাহলে তাকে অপরাধী হিসেবে শনাক্ত করে কন্ট্রোল রুমে অ্যালার্ম দেবে। আমরা এগুলো স্থাপনের আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছি। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় হুয়াওয়ের এ ক্যামেরাগুলোতে কিছু ফলস পজেটিভ (ভুল ব্যক্তি শনাক্ত) এসেছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, সব ধরনের শর্ত মেনে ‘ইজি অটোমেশন লিমিটেড’-কে কাজটি দেয়া হয়েছে। ক্যামেরার ব্র্যান্ড নির্ধারণের পছন্দটাও তাদের ছিল। তবে তারা আমাদের সব শর্ত মেনেই কাজ পেয়েছে এবং সম্পন্ন করেছ।

চলতি বছরের ২৭ জুলাই ‘ডিজিটাল সিলেট সিটি’ প্রকল্পের অধীনে ক্যামেরাগুলো নগরীর জিন্দাবাজার পয়েন্ট, সুরমা মার্কেট পয়েন্ট, লামাবাজার পয়েন্ট, আম্বরখানা পয়েন্ট, মাজারগেট, জেলখানা পয়েন্ট, সুবিদ বাজার পয়েন্ট, শাহী ঈদগাহ এলাকাসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়। এসব আইপি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণের জন্য সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় মনিটরিং রুম স্থাপন করা হয়েছে। এ সিস্টেম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকবে সিলেট মহানগর পুলিশ।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

সর্বশেষ: