Warning: file_get_contents(http://ipwho.is/216.73.217.88): failed to open stream: HTTP request failed! HTTP/1.1 429 Too Many Requests in /home/u483705982/domains/alokitosirajgonj.com/public_html/details.php on line 129

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

১৬১ বছর আগে বগুড়ায় বাঘ ও চিতাবাঘ শিকার, ২৫৭টি খুলি, পুরস্কার মিলেছিল ৭০০ টাকা

১৬১ বছর আগে বগুড়ায় বাঘ ও চিতাবাঘ শিকার, ২৫৭টি খুলি, পুরস্কার মিলেছিল ৭০০ টাকা

সংগৃহীত

একসময় বগুড়া জেলায় বড় শিকারযোগ্য প্রাণীদের মধ্যে বাঘ প্রচুর পরিমাণে ছিল। অথচ ১৯১০ সালের দিকে এসে তা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত। এখন বিশ্বাস করা কঠিন যে ১৮৬৪ সালের ডিসেম্বর মাসে শিকারিদের একটি দল ২৫৭টি বাঘ ও চিতাবাঘের খুলি কালেক্টরের কাছে জমা দিয়ে পুরস্কার হিসেবে প্রায় ৭০০ টাকা পেয়েছিল।

এখনো (১৯১০ সালের কথা) বগুড়ার পাঁচবিবি ও শেরপুরে প্রচুর পরিমাণে চিতাবাঘ দেখা যায়। আর জেলার প্রায় সব এলাকাতেই মাঝে মাঝে তাদের দেখা মেলে। একসময় পাঁচবিবি এলাকায় বুনো শুয়োর মারাত্মক উপদ্রব হিসেবে পরিচিত ছিল, কিন্তু এখন ক্রমেই তা বিরল হয়ে যাচ্ছে। বুনো মহিষ এবং হরিণ পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। খরগোশ, সজারু ও বনবিড়াল মাঝে মাঝে দেখা যায়।

১৯১০ সালের দিকে এসেও প্রায় প্রতিটি গ্রামেই শেয়াল ও খেঁকশিয়ালের দেখা মেলে। বিষধর সাপের জন্য বগুড়া কুখ্যাত। এর মধ্যে গোখরা ও ক্রেট সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। অন্যান্য জেলায় ফলের ব্যাপক ক্ষতি করা কাঠবিড়ালি ও বানরেরা এই জেলায় তুলনামূলকভাবে অনুপস্থিত।

শত বছর আগে বৃহত্তর বগুড়ায় কী কী পাখি দেখা যেত

শিকারযোগ্য পাখিদের মধ্যে এখন (১৯১০ সালের দিকের কথা) স্থানীয় নাটাবটের ও কালা-তিতির পাঁচবিবি থানার ঝোপঝাড় ও ঘাসের জঙ্গলে পাওয়া যায়। জেলার বিল ও নির্জন পুকুরগুলোতে অল্প সংখ্যায় দেশি সরালি ও বালিহাঁসও দেখা যায়। পরিযায়ী বটেরা খুব কমই এই জেলায় আসে, যদিও প্রায় সংলগ্ন মালদা জেলায় (বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের একটি জেলা) তাদের অনেক বেশি দেখা যায়।

পরিযায়ী হাঁসেরা, বিশেষ করে ভুতিহাঁস, খুন্তেহাঁস, ল্যাঞ্জাহাঁস এবং নানা ধরনের তিলিহাঁস এই জেলায় ছোট ছোট দলে বড়বিল ও ব্রহ্মপুত্রের চরে আসে। রাজহাঁস এবং খয়রা-চখাচখি ব্রহ্মপুত্রের চরে অনেক দেখা যায়। তাদের শিকার করা প্রায় অসম্ভব।

কোনো কোনো মৌসুমে কাদাখোঁচা পাখিদের অনেক বেশি দেখা যায়। সাধারণত তারা ধানক্ষেতের মধ্যে থাকে। যদিও জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে, মৌসুমের শেষের দিকে তারা বিলের ঘাস এবং পদ্মপাতার ভেতর থাকতে পছন্দ করে। শীতকালেজুড়েই নানা ধরনের চটক পাখিদের দেখা যায়।

শত বছর আগে বৃহত্তর বগুড়ায় কী কী মাছ পাওয়া যেত

বৃহত্তর বগুড়া অঞ্চলের মোট মাছের সরবরাহের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই আসে দাওকোপা (যমুনা), বাঙালি, হলহলিয়া, ইছামতি এবং মানাস (মানস) নদী থেকে। সারিয়াকান্দি অঞ্চল মাছের জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত। সেখানের পুরো এলাকাই প্রতি বছর বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। ফলে দাওকোবা ও বাঙালি নদী থেকে মাছ বিল ও অগভীর জলাভূমিতে প্রবেশ করে। শীতকালে সেগুলো ধরা হয়।

নাগর ও তুলসীগঙ্গায় ছোট আকারের মাছ পাওয়া যায়। চলন বিল থেকে নাগরে মাছ চলে আসে। এই মাছ বিপুল পরিমাণে ধরাও পড়ে। এই অঞ্চলে অসংখ্য পুকুর রয়েছে, সেখানে পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ করা হয়।

১৮৯০ সালের পর থেকে মাছের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ১৯১১ সালে এসে একটি বড় আকারের রুই মাছের দাম পাঁচ বা ছয় টাকা, অথচ ১০ বছর আগেও এর দাম ছিল এর অর্ধেক।

এই অঞ্চলে মাছ ধরার জন্য নানা ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত হলো—

১) জাল ফেলা,

২) ফাঁদ পাতা,

৩) বর্শা বা বল্লম দিয়ে মাছ মারা,

৪) ছিপ দিয়ে মাছ ধরা।

১৯১০ সালের দিকে এসে বগুড়া জেলার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি মাছের বাজার হলো ফতেহ আলী বাজার (বগুড়া), কালীতলা হাট, নুনগোলা হাট, সুলতানগঞ্জ হাট, মহিষাবন হাট, ধূপচাঁচিয়া হাট, ধাপ হাট, জয়পুর হাট, হিলি হাট, এলেঙ্গী হাট, গোসাইবাড়ি হাট, মোকামতলা হাট এবং বিহার হাট।

বগুড়ার নদী এবং পুকুরগুলোতে ৩৭ ধরনের মাছ ধরার রেকর্ড আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিতগুলো হচ্ছে কই, খলিশা, রুই মৃগেল, পুঁটি, সরপুঁটি, পাবদা, শিং, মাগুর, চিতল, টেংরা, আইড়, ইলিশ, পাঙাশ। কচ্ছপ, কাঁকড়া ও চিংড়ি সবখানেই দেখা যায়।

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

০২ জুলাই ২০২৬ || ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১২৯জন

সর্বশেষ:

শিরোনাম: