• মঙ্গলবার   ২৬ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৭

  • || ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

৫০৬

পিরামিডের যেসব অজানা রহস্য শুনলে চমকে উঠবেন!

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯  

এই পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন ও একমাত্র মনুষ্য সৃষ্ট রচনা হলো পিরামিড। যার রহস্য শতাব্দী থেকে চুনাপাথর এবং গ্রানাইটের দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ রয়েছে। কুড়ি বছর ধরে প্রায় ২৬০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত ফারাও খুফুর সমাধি নির্মিত হয়েছিল। যেটি ৪৮১ ফুট লম্বা এবং সমস্ত পিরামিড এর মধ্যে সর্ববৃহৎ এবং মধ্যযুগ পর্যন্ত এটি মনুষ্য নির্মিত সবচেয়ে উঁচু নির্মাণ ছিল।

পিরামিড নিয়ে গবেষণা পিরামিডলজি নামে পরিচিত। বলা হয় যে, পিরামিড এর মধ্যে এমন শক্তি নিহিত আছে যা খাবার সতেজ ও সংরক্ষিত রাখে, স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং অন্যান্য অপার্থিব প্রভাব সৃষ্টি করে। এটাও বলা হয় যে, পিরামিডের গঠন এর মধ্যেই এর রহস্য লুকিয়ে আছে। কারণ প্রতিটি পিরামিড চারিদিকে একটি নির্দিষ্ট কোণ তৈরি। যার মান ৫১ ডিগ্রি। পিরামিড কসমিক এনার্জি বা মহাজাগতিক রশ্মি শোষণ করার ক্ষমতা রাখে। আজ আপনারা জানতে পারবেন পিরামিডের রহস্য সম্পর্কে।

একটি পিরামিড এর মধ্যে রাখা খাদ্য বাইরের পরিবেশের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ বেশি সতেজ থাকে এবং এ খাদ্যের স্বাদ ও গুণমান বৃদ্ধি পায়। স্পেক্ট্রোগ্রফ ক্রিটিং এর মাধ্যমে দেখা গেছে যে খাদ্যদ্রব্যের আণবিক গঠন এর কোন পরিবর্তন হয় না। কোন ব্যক্তি যদি একটি পিরামিডের ভেতর বা একটি পিরামিড স্ট্রাকচার এর মধ্যে ধ্যান বা কোন কাজ করে বা ঘুমোও তাহলে অবিলম্বে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া অনুভূত হয়। বিল কেরেল নামের এক গবেষক পিরামিড এর উপর ১৭ বছর ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তিনি পিরামিডের মধ্যে এক ধরনের সামুদ্রিক চিংড়ি এর উপর বিভিন্ন পরীক্ষা করেন। সাধারণত এই ধরনের সামুদ্রিক চিংড়ি ছয় থেকে সাত সপ্তাহ বাঁচে। কিন্তু তিনি দেখেন যে পিরামিড এর মধ্যে এই চিংড়িগুলো এক বছরেরও বেশি সময় বেঁচে থাকছে। এছাড়াও তিনি লক্ষ্য করেন যে এই চিংড়িগুলো তাদের স্বাভাবিক আকার এর চেয়ে তিনগুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তিনি মানুষের উপরও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন তিনি।

তিনি এবং তার সহকারীরা আবিষ্কার করেন যে, উচ্চ রক্তচাপজনিত ব্যাক্তিরা পিরামিড এর মধ্যে কিছুদিন থাকার পর তাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে। একটি কানাডিয়ান হসপিটালে একটি পিরামিডের প্রতিলিপি তৈরি করা হয় এবং তার মধ্যে রোগীদের রাখা হয়। তারা লক্ষ্য করলেন যে রোগীরা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠছে এবং ব্যথার নিরাময় অনেক তাড়াতাড়ি হচ্ছে। নেগেটিভ আয়ন আমাদের শরীরের কোষের পুনরুৎপাদন ও মেরামতিতে সাহায্য করে। এটি বায়ুর মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে এবং রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং এইভাবে নেগেটিভ আয়ন আমাদের শরীরের উপর উপকারী প্রভাব বিস্তার করে।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, পিরামিড এর মধ্যে এ নেগেটিভ আয়ন তৈরি হয়। অনেক মানুষ দেখেছেন যে পিরামিড এর মধ্যে ঘুমানোর পর তাদের কম ঘুমের প্রয়োজন হচ্ছে এবং তারা অনেকখানি হালকা ও শান্তি অনুভব করছেন। পিরামিড আমাদের মস্তিষ্কের পিনিয়াল এবং পিটুইটারি গ্রন্থি সক্রিয় তা বাড়িয়ে দেয়। পিরামিড এর মধ্যে থাকাকালীন লোকজনেরা শারীরিক ভারসাম্য শান্তি এবং বিভিন্ন রকম উপকারিতা অনুভব করে থাকেন। এছাড়াও অল্প সময়ের জন্য হলেও যদি পিরামিড এর মধ্যে থাকা হয় তাহলে এটি মানুষের মাথা ব্যথা হ্রাস করে।

মিশরের হাজার হাজার বছর পুরানো সমাধির মধ্যে শস্যের বীজ খুঁজে পাওয়া গেছে। সেগুলো সম্পূর্ণভাবে অক্ষুন্ন ছিল। অথচ আধুনিক বীজ সংরক্ষণের পদ্ধতি শস্যের বীজ সাধারনত চার বছর পর্যন্ত ঠিক থাকে। পিরামিডের জৈব পদার্থ সংরক্ষণের অসাধারণ ক্ষমতা বিভিন্ন বইতে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ১৯৩০ এর দশকে এন্টোনি বভিস নামের একজন ফরাসি বিজ্ঞানী লক্ষ্য করেন যে, পিরামিডের মধ্যে কোনো মৃতদেহ পচে যায় না। মিশরের সাতকারা এলাকায় মিশরিয়রা এক আদিবাসী মহিলার কবর খনন করে, তারা সেখানে মাটির পাত্রে কিছু খাদ্য খুঁজে পান। যেমন মাছ-মাংস, রুটি ফলমূল ইত্যাদি।

৫০০০ বছর পুরনো হওয়া সত্ত্বেও এগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা এতটাই চমৎকার ছিল যে আজকের উন্নত খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থাকেও হার মানায়। বিভিন্ন গবেষণায় পিরামিডের বিভিন্ন উপকারী গুণাবলী প্রকাশ পেয়েছে। পিরামিড মেডিটেশন বা ধ্যান হলো তার মধ্যে অন্যতম। পিরামিডের মধ্যে মেডিটেশন বা ধ্যান করলে তার ফলাফল অনেক বেশি পাওয়া যায়। অনেক মানুষ বিশ্বাস করেন যে, পিরামিড ব্যবহার করে মনস্তাত্ত্বিক ক্ষমতাগুলোকে বৃদ্ধি করা সম্ভব। বেশির ভাগ লোকেরা এ দাবি করেন যে, পিরামিড এর মধ্যে মেডিটেশন করার ফলে তারা পুরনো স্মৃতি ফিরে পেয়েছেন। এমন কিছু মানুষের আগের জন্মের কিছু স্মৃতি ও মনে পড়ে গেছে। মনস্তাত্ত্বিক যোগাযোগ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর