বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় বাস্তবায়নে বগুড়া শহর এড়িয়ে নতুন রেলপথের প্রস্তাব

প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় বাস্তবায়নে বগুড়া শহর এড়িয়ে নতুন রেলপথের প্রস্তাব

সংগৃহীত

বগুড়া শহরকে বাইপাস করে নতুন রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথের রাণীরহাট জংশন থেকে বগুড়া শহরে প্রবেশের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে সরাসরি গাবতলী পর্যন্ত নতুন রেল সংযোগ স্থাপন করা হবে। মূলত বগুড়া শহরের দীর্ঘদিনের ভয়াবহ যানজট নিরসন, নিরাপদ রেল যোগাযোগ নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি গনমাধ্যমকে জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন দূরদর্শী মানুষ। সম্প্রতি বগুড়া সফরে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ প্রকল্পে যদি একটু সংশোধন করা হয় তাহলে বগুড়া শহরের দীর্ঘদিনের দূর্ভোগের রেললাইন সরিয়ে নেয়া সম্ভব। পরশুদিন এ নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেছেন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে।

এ বিষয়ে সচিবের কাছে দেয়া প্রতিমন্ত্রীর

পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী কাহালু থেকে বগুড়া শহর হয়ে গাবতলী পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথটি শহরের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকাগুলোর মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। এই রুটে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিং রয়েছে। প্রতিদিন ট্রেন চলাচলের সময় এসব ক্রসিং দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় শহরের প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত যান চলাচল ব্যাহত থাকে।

এর ফলে শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নগরায়নের বর্তমান বাস্তবতায় এই রেলপথকে বগুড়া শহরের অন্যতম বড় অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম রাণীরহাট জংশনকে কেন্দ্র করে রাণীরহাট-গাবতলী নতুন রেল সংযোগ স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে কাহালু থেকে বগুড়া শহর হয়ে গাবতলী পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথ অপসারণ করে কাহালু-রাণীরহাট-গাবতলী রুটে আধুনিক ও যুগোপযোগী রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

পত্রে তিনি উল্লেখ করেন, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বগুড়া শহরের অভ্যন্তরে রেলক্রসিংজনিত যানজটের স্থায়ী সমাধান হবে। একই সঙ্গে রেল যোগাযোগ আরও নিরাপদ, দ্রুত, নিরবচ্ছিন্ন ও জনবান্ধব হবে। ভবিষ্যৎ নগর সম্প্রসারণ এবং পরিকল্পিত উন্নয়নেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এছাড়াও বগুড়া শহরের মধ্যে থেকে অপসারিত রেল পথটি গাবতলী থেকে বগুড়া হয়ে কাহালু পর্যন্ত ফোর লেন রাস্তা হিসেবে উন্নতি করার পরিকল্পনা রয়েছে। বগুড়ার বিদ্যমান রেলস্টেশন কে সংস্কার করে দুর পাল্লার পরিবহন গুলির বাসস্ট্যান্ড করারও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিমন্ত্রীর ডিও পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে রেলপথ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এ বিষয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বগুড়া শহরকে রেলক্রসিংভিত্তিক যানজট থেকে মুক্ত করার পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বগুড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ওয়াসিকুর রহমান বেচান বলেন, রেল চলাচলে সারাদিন বেশ কয়েকবার বেরিয়ার দিয়ে রাস্তা বন্ধ থাকে। এতে যানজট আরো তীব্র হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বগুড়ার গর্ব, তিনি সবসময় বগুড়া নিয়ে চিন্তা করেন। প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে এটি হবে শহরের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত পরিবর্তন, যা কয়েক দশকের পুরোনো যানজট সমস্যার টেকসই সমাধান এনে দেবে।

বগুড়া চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাইরুল ইসলাম বলেন, যানজট বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যা। সেই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে শহরের বুক চিরে যাওয়া রেলপথের কারণে। দিনে রাতে রেল চলাচলে রাস্তা বন্ধ থাকে দীর্ঘ সময়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় বগুড়ার উন্নয়ন এগিয়ে নিতে কাজ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী অভিপ্রায় অনুযায়ী রেলপথ সরিয়ে নেয়া হলে শহরের যানজট অনেকাংশে নিরসন হবে। একই সাথে রেলপথ হবে আরো নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ।

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

০৪ জুন ২০২৬ || ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১২৯জন

সর্বশেষ:

শিরোনাম: