• বৃহস্পতিবার   ০৬ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ২১ ১৪২৯

  • || ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

চরম মাছ সংকটে চলনবিলের শুটকি চাতালগুলো

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২  

শুটকি মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, উপজেলার হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের কোলঘেষা উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম মহিষলুটি মৎস আড়ৎ। আর এ মৎস্য আড়ৎকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে শুটকির চাতাল। শুধু তাই নয় প্রতিবছর চলনবিলের তাড়াশ উপজেলাসহ ৯টি উপজেলায় প্রায় তিনশতাধিক শুটকির চাতাল গড়ে উঠে। কিন্তু এ বছর মাছ সংকটে শুটকি চাতালগুলো অলস সময় পার করছে। উত্তরবঙ্গের মধ্যে দেশীয় প্রজাতির মাছের শুটকি তৈরি অসংখ্য চাতাল চলনবিলে মূলতঃ বৃষ্টিহীন আশ্বিন,কার্ত্তিক ও অগ্রহায়ন মাস পযর্ন্ত চালু থাকে।

এ সব চাতালে বিশেষ করে যে মাছ গুলির শুটকি করা হয় সেগুলো হলো টেংরা ,পুটি, খলসে, বাতাসী, চেলা, মলা, ঢ়েলা, টাকি,গুতম, চিংরী, টাকি ইত্যাদি মিঠা পানির সু-স্বাদু মাছ। চলনবিলের শুটকির কদর রয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে এর মধ্যে দেশীয় প্রজাতির চলনবিলের চাতালে তৈরি শুটকি সৈয়দপুর, রংপুর, দিনাজপুর, ঢাকা, নারায়নগঞ্জ এমনকি বন্দর নগরী চট্রগ্রামেও উচ্চ মূল্যে বিক্রি হয়ে থাকে। এক দশক আগেও চলনবিলে প্রচুর পরিমান ছোট মাছ পাওয়া যেত।

আর এ মাছ আশ্বিন থেকে কার্ত্তিক মাস পর্যন্ত এত বেশি পাওয়া যেত। এ অঞ্চলে কাচা মাছের চাহিদা পূরনের পর উদ্বত্ত মাছ স্বল্প মূল্যে কিনে শুটকি তৈরি করে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে অনেক শুটকি চাতালের মালিকরা লাখ লাখ টাকা উর্পাজন করতেন।

উপজেলার মহিষলুটি শুটকি চাতাল মালিক আহম্মেদ আলী জানান, প্রতি বছর আশ্বিন-কার্তিক মাসে পানি নামার সময় দেশীয় প্রজাতির মিঠা পানির মাছ টেংরা, পুটি, খলসে, বাতাসী, চেলা, মলা, টাকি, বাইম, শৈাল ,গুতম, বোয়াল, গজার, মাগুর, শিং, কৈ, সহ নানা প্রজাতির সু-স্বাদু মাছ প্রচুর নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এ সময় দামও কম থাকে। তখন এই সব মাছ দিয়ে চলে শুটকি তৈরির ধুম পড়ে। অথচ এ বছর বিলে মাছ নেই বললেই চলে। বেশ কিছুদিন যাবৎ শুটকি তৈরির জন্য পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে চাতাল বন্ধ হওয়ার আশংকা রয়েছে।

উল্লাপাড়ার শুটকি ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর ও হবি শেখ জানান, মাছ সংকটের কারণে এলাকার অনেক চাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যগুলো বন্ধ হওয়ার পথে। বেকার হওয়ার আশংঙ্কায় ভুগছে চলনবিলের প্রায় ৩ শতাধিক শুটকি চাতালের প্রায় ৫ সহস্রাধিক নারী ও পুরুষ শ্রমিক।

আরজিনা খাতুন, সাবিনা পারভীনসহ নারী শ্রমিকরা জানান, আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে আশ্বিন-কার্তিক মাস থেকে মাঘ ফাল্গুন পর্যন্ত চাতালে কার্যক্রম চলে। ৩মণ তাজা মাছ শুকালে ১ মণ শুটকি পাওয়া যায় বলে তারা জানান।

তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মসগুল আজাদ বলেন, এখনও দুই থেকে আড়াই মাস শুটকি মাছ উৎপাদিত হবে। গত বছরের তুলনায় এবারে বন্যার পানি কম সময় অবস্থান করার পরে ২য় দফা পানি আসছে চলনবিলে। আশা করা যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যাবে।

 

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ