Warning: file_get_contents(http://ipwho.is/216.73.216.136): failed to open stream: HTTP request failed! HTTP/1.1 429 Too Many Requests in /home/u483705982/domains/alokitosirajgonj.com/public_html/details.php on line 129

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশ- জাপান দ্বিপক্ষীয় সফর স্মার্ট কৃষি , খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি - প্রযক্তির নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশ- জাপান দ্বিপক্ষীয় সফর স্মার্ট কৃষি , খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি - প্রযক্তির নতুন দিগন্ত

সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের মতো কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির জন্য বিশ্বমানের কৃষি-প্রযুক্তি, প্রক্রিয়াজাতকরণ কৌশল এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। জাপানের মতো প্রযুক্তিগতভাবে শীর্ষস্থানীয় দেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন গতিশীলতা আমাদের দেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে।

কৃষি খাতের একজন পেশাজীবী হিসেবে এই সফর থেকে বাংলাদেশ যে সব সুনির্দিষ্ট ও টেকসই সুফল পেতে পারে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:

১. স্মার্ট কৃষি ও নির্ভুল চাষাবাদ (Precision Farming) প্রযুক্তির সহজলভ্যতা

জাপান বর্তমানে 'স্মার্ট এগ্রিকালচার' ও আইওটি (IoT) নির্ভর কৃষি প্রযুক্তিতে বিশ্বের অন্যতম পথিকৃৎ। সফরকালে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও সমঝোতার ফলে জাপানের আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি, ড্রোন প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় সেচ ব্যবস্থা এবং সেন্সরভিত্তিক মাটি পরীক্ষার মতো উন্নত প্রযুক্তি বাংলাদেশে আসার সুযোগ তৈরি হবে। এতে করে আমাদের কৃষকরা কম খরচে ও কম জমিতে বহুগুণ বেশি ফসল উৎপাদন করতে পারবেন।

২. কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও আধুনিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ (Food Processing)

বাংলাদেশে প্রচুর খাদ্যশস্য, শাকসবজি ও ফলমূল উৎপাদিত হলেও উপযুক্ত সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে প্রতি বছর প্রায় ২৫-৩০% ফসল নষ্ট হয়। জাপানের জেট্রো (JETRO) ও শীর্ষ বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোর সাথে আলোচনার ফলে বাংলাদেশে আধুনিক এগ্রো-প্রসেসিং জোন ও 'কোল্ড চেইন সলিউশন' প্রতিষ্ঠায় জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে। এটি ফসলের অপচয় কমিয়ে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করবে।

৩. মৎস্য ও সমুদ্রসম্পদ (Blue Economy) খাতের বিকাশ

সংবাদসূত্রে উল্লেখিত ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে 'মৎস্য খাত' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাপানের বিশ্বখ্যাত সামুদ্রিক মৎস্য প্রযুক্তি, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার আধুনিক সরঞ্জাম এবং সুনীল অর্থনীতি বা 'ব্লু ইকোনমি' পরিচালনার অভিজ্ঞতা আমাদের দেশের মৎস্য খাতের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর কেন্দ্রিক সুবিধা ব্যবহার করে ব্লু-ইকোনমি থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম হবে।

৪. জাপানি বাজারে বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের প্রবেশাধিকার ও 'ইপিএ' সুবিধা

২০২৬ সালে কার্যকর হতে যাওয়া বাংলাদেশ-জাপান 'অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি' (EPA)-এর আওতায় কড়াকড়ি ফাইটোস্যানিটারি (Phytosanitary) বা মাননিয়ন্ত্রণ শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জাপানের উচ্চমূল্যের বাজারে আমাদের আম, কাঁঠাল, সুগন্ধি চাল, চা, সামুদ্রিক মাছ ও চিংড়ি রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হবে। সফরের সময় এ নিয়ে যৌথ উদ্যোগের সিদ্ধান্ত হলে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার সুযোগ পাবে।

৫. কৃষি গবেষণা, জলবায়ু সহনশীল জাত উদ্ভাবন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি

জাপান তাদের শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা ব্যবস্থার জন্য পরিচিত। সফরের অংশ হিসেবে দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তার আওতায় আমাদের কৃষি বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও তরুণ কৃষিবিদরা জাপানের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও যৌথ গবেষণার (Joint Research) সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহনশীল ফসলের নতুন জাত উদ্ভাবন ত্বরান্বিত হবে।

৬. স্থানীয় সরকার ও গ্রামীণ কৃষি-অবকাঠামোর আধুনিকায়ন

কৃষি খাতের সার্বিক অগ্রগতির জন্য গ্রামীণ যোগাযোগ ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন অপরিহার্য। সফরে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে জাপানি সহযোগিতার যে ইঙ্গিত রয়েছে, তা গ্রামীণ কৃষি হাবগুলোকে শহরের সাথে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সংযুক্ত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সংক্ষেপে বলা যায়, এই সফর কেবল একটি কূটনৈতিক সফর নয়, বরং এটি বাংলাদেশের কৃষি খাতকে 'কৃষি ৩.০' থেকে প্রযুক্তি নির্ভর 'কৃষি ৪.০'-তে উন্নীত করার ক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। জাপানের উন্নত প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও গবেষণা সক্ষমতাকে আমাদের উর্বর মাটি ও পরিশ্রমী কৃষক সমাজের সাথে সঠিকভাবে মেলাতে পারলে বাংলাদেশ কেবল খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণই থাকবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে একটি প্রধান কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

#Bangladesh #japan #TariqueRahman

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

২৭ অক্টোবর ২০২৬ || ১২ কার্তিক ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১২৯জন

সর্বশেষ:

শিরোনাম: