সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে শাহ আলম নামে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে ভাইসহ স্বজনদের সম্পত্তি জোরপূর্বক ভোগদখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ দেওয়ার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও রোববার (২৪ মে) পর্যন্তও কোনো ব্যবস্থা নেননি ওসি।
জানা গেছে, শাহ আলমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পত্তি ভোগদখলের ঘটনায় তার ভাতিজা সোহেল সামাদ পুলিশের আইজিপি, পুলিশ হেডকোয়ার্টার ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জমা পড়লে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ রেজাউল হককে। উভয়পক্ষের বক্তব্য গ্রহণসহ তিনি ঘটনাটি গোপন ও প্রকাশ্যে অনুসন্ধান করেন এবং গত ২১ এপ্রিল জেলা পুলিশ সুপারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শাহ আলমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি অভিযোগকারীর বাবার ৮০ শতাংশ ওয়ারিশি বাগান, বাড়ি, পুকুর ও জমিসহ বিভিন্ন সম্পত্তির আয়-ব্যয় এবং মোল্লারহাট বাজারে ক্রয়কৃত দুটি দোকানের ভাড়া একাই ভোগদখল করছেন। এর প্রেক্ষিতে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী মামলা দায়েরের জন্য অভিযোগকারীকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী গত ১১ মে রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়াকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও রোববার পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগকারী সোহেল সামাদ রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের মোল্লারহাট এলাকার চরকাছিয়া গ্রামের মৃত একেএম শামছুল আলমের ছেলে। অভিযুক্ত এসআই শাহ আলম তার আপন চাচা এবং বর্তমানে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি থানায় কর্মরত রয়েছেন।
অভিযোগকারী সোহেল সামাদ বলেন, জেলা পুলিশ থেকে শাহ আলমের বিরুদ্ধে ওসিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও ওসি কোনো ব্যবস্থা নেননি। ২০২০ সালে আমার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে শাহ আলম ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাদের সম্পত্তি ভোগ করছেন।
এ বিষয়ে রায়পুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, চিঠি পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১০ জুন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে আবুল হাশেম ছয় দিন পর মারা যান। কিন্তু তথ্য গোপন রেখে ১৬ জুন শাহ আলম তার বাবাকে হত্যার ঘটনায় মামলা করেন। ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রায়পুরের হাজীমারা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই ফারুক আহাম্মদ ৫ আগস্ট জেলা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে মামলার আসামি সোহেল সামাদ রুবেল, শওকত আকবর পারভেজ, খোদেজা আক্তার সুমি, সেলিনা আক্তার ও ফয়েজ আহম্মদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বলে প্রমাণিত হয়।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট



.webp)







