সংগৃহীত
সৈয়দ আব্দুল্লাহ জাবির, নাসরিন আলম এবং মাহিয়া রহমান ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তিন মেধাবী শিক্ষার্থী। আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করা মুটার। তাদের টিম মুট কোর্ট প্রতিযোগিতার বিশ্বকাপ খ্যাত ফিলিপ সি জেসাপ আন্তর্জাতিক আইন মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ রাউন্ডে বিজয়ী হন। লাভ করেন ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ানশিপ অ্যাওয়ার্ড। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে তারা প্রথম এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। তারপর এই প্রতিযোগিতার ইন্টারন্যাশনাল রাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অংশ নেন তারা। সেখানে তাদের টিম বিশ্বের শতাধিক দেশের সামনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। আজারবাইজানকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে। ]
বর্তমানে এই তিন তরুণ পড়ালেখার পাশাপাশি সামাজিক, মানবাধিকার ও শিক্ষামূলক কাজের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত রেখেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাগত শিক্ষার্থীদের দিক নির্দেশনা ও উৎসাহিত করতে ফিয়াথ মেন্টর (ফাস্ট ইয়ার অ্যাডভাইজিং টিম) হিসেবে কাজ করছেন।
এই তিন তরুণের একজন সৈয়দ আব্দুল্লাহ জাবির আইনপেশায় অনেক দূর যেতে চান। নিজেকে বিখ্যাত আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। আরেক তরুণ নাসরিন আলম জাতীয় পর্যায়ে বাস্কেটবল খেলার পাশাপাশি ইউনিলিভারের স্পার্ক ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন। তিনি আইন নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি আইনপেশায় করপোরেট জগৎ নিয়ে কাজ করতে চান। মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অপর তরুণ মাহিয়া রহমান মানবাধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক হতে চান তারা তিনজন মুট কোর্ট প্রতিযোগিতার কথা, নিজেদের স্বপ্নের কথা, পরিকল্পনার কথা ঢাকা পোস্টের কাছে তুলে ধরেছেন।
ওয়াশিংটন ডিসিতে মুট কোর্ট প্রতিযোগিতার ইন্টারন্যাশনাল রাউন্ডের বিশেষ মুহূর্ত
পারিবারিক পরিচয়
নাসরিন আলম: আমার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। বাবা বশির আলম। তিনি একজন ব্যবসায়ী। আর মা তাহমিনা আক্তার। আমরা তিন ভাই-বোন। আমরা প্রথমে ওমানে ছিলাম। বাবা সেখানে ব্যবসা করেন। আমার বয়স যখন এক-দেড় বছর বয়স তখন ফ্যামিলিসহ আমরা মুভ করি মাস্কাটে। মাস্কাটে থাকতাম আমরা। ওখানে পড়েছি ফ্রম ক্লাস ওয়ান টু একেবারে ‘এ’ লেভেলস। বাংলাদেশে এসেছি ২০২১ সালের শেষের দিকে। কারণ তখন আমার ‘এ’ লেভেল শেষ হয়। তারপর ২০২২ সালে ব্র্যাকে এসে আইন বিভাগে ভর্তি হই।
সৈয়দ আবদুল্লাহ জাবির : বাবার নাম সৈয়দ এহসানুর রহিম, তিনি ব্যবসায়ী। মায়ের নাম নারগিস আক্তার। জন্ম ঢাকাতেই। আমাদের পরিবার মূলত ৪৭ সালের দেশভাগের সময়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে পূর্ববঙ্গে আসেন। তারপর থেকে ঢাকা শহরেই স্থায়ী বসবাস। আমার নানাবাড়ি হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে। আমি এসএসসি সম্পন্ন করেছি ২০১৯ সালে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে। আর একই বিভাগে এইচএসসি সম্পন্ন করেছি ২০২১ সালে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ থেকে। ২০২২ সাল থেকে আমি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগে পড়াশোনা করছি। এখন আমার ফাইনাল ইয়ার চলছে।
মাহিয়া রহমান : আমার বাবার নাম মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। মা ফরিদা রহমান। জন্ম, বেড়ে ওঠা, বাসস্থান সবই পুরান ঢাকার ওয়ারী। আমার হোম ডিস্ট্রিক্ট মুন্সিগঞ্জ। আমার স্কুল ছিল মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। কলেজও মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছিল, যেখান থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি দিয়েছি। ২০২২ সালে ব্র্যাকের আইন বিভাগে ভর্তি হই।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশের পতাকা হাতে তিন তরুণের উচ্ছ্বাস
আইনে কেন পড়ছেন
নাসরিন আলম : আমি যদি একেবারে সত্যি কথা বলি, আমার পরিবার চেয়েছিল আমি ডাক্তারি পড়ি। যদিও আমার মধ্যে সবসময় একটু রেবেলিয়াস নেচার ছিল না আমার কিছু ইউনিক করতে হবে, একটু ডিফারেন্ট কিছু করতে হবে। কারণ আমার আপন ফুফু হচ্ছেন একজন জাজ। উনার থেকে ছোটোবেলা থেকেই আইনপেশার গল্প শুনতাম। এভাবে ছোটোবেলা থেকে আইন পেশার সঙ্গে পরিচয়। আইনজীবী হিসেবে নিজেকে আদালতে উপস্থাপন করা, এগুলো আমাকে আকৃষ্ট করতো। দেশে আসার পর আমি ফার্স্ট মেডিকেল পরীক্ষা দিলাম। প্রাইভেট মেডিকেলে আমার চান্স হয়েছিল, বাট আমি ওটা চুজ করিনি। আমি আমার প্যারেন্টসকে একটু বোঝালাম, আমি আইনটা পড়ি। আমার ইন্টারেস্টিং লাগছে, আমি জানি এখানে আমি রিসার্চ করতে পারবো, অনেক কিছু নিয়ে জানতে পারবো, দেশ কীভাবে চলছে। পিওর কিউরিওসিটি থেকে আইন বিষয় বেছে নেওয়া।
সৈয়দ আবদুল্লাহ জাবির : প্রথমে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়তে চেয়েছিলাম। কিন্তু আলটিমেটলি আমার পরিবারের সাজেশন অনুযায়ী পরে আইন বিভাগে ভর্তি হই। ছোটোবেলা থেকেই বিশেষ করে আমার কলেজ জীবনে আমি হচ্ছে দর্শন নিয়ে, রাজনীতি নিয়ে প্রচুর বই-পুস্তক পড়া শুরু করি। কীভাবে একটা দেশে গণতান্ত্রিক উপায়ে আইন প্রণয়ন হচ্ছে এবং সেটা কীভাবে কোর্টের মাধ্যমে কার্যকর হচ্ছে এবং কেন ব্রিটিশরা আমাদের যে স্ট্রাকচারটা দিয়ে গেছে এখনো সেটা কেন চলছে এবং সেটার কী কী কারণ বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন পোস্ট-কলোনিয়াল দেশগুলোতে—এই ধরনের চিন্তাভাবনা ছোটোবেলা থেকেই আমার মাথায় ছিল। এটাই মূলত একটা খুব বড় একটা ড্রাইভিং ফোর্স আমার আইন পড়ার। এই প্রশ্নের উত্তর এখনো খুঁজে যাচ্ছি।
মাহিয়া রহমান : ছোটোবেলা থেকেই মাথায় ছিল যে আমি আইন পড়বো। কীভাবে? আমি যখন স্কুলে ভর্তি হইনি তখন আমার যে মামারা, মামারা বলতো যে ও হচ্ছে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হবে। আমার আব্বু বলতো, আমার মেয়েকে ব্যারিস্টার বানাবো। আমি স্কুলে ভর্তির আগেই যদি আমাকে কেউ জিজ্ঞেস করতো যে তুমি বড়ো হয়ে কী হবে? আমি তখন বলতাম, ব্যারিস্টার হবো। তখন থেকেই ব্যাক অব দ্য মাইন্ড আমার মধ্যে ছিল যে আইন নিয়ে পড়বো। আমি এসএসসিতে সায়েন্সে ছিলাম। বাট এইচএসসিতে সায়েন্স থেকে হিউম্যানিটিজে শিফট হয়েছি। যখন সায়েন্স থেকে হিউম্যানিটিজে শিফট হচ্ছিলাম, আমাকে সবাই বলছিল যে তুমি হিউম্যানিটিজে কেন যাচ্ছো। রিস্ক কেন নিচ্ছো বা ফিউচার তোমার ডাল হয়ে যাবে, নিও না। কিন্তু আমি জানি যে আমি ল’ পড়বো। যেহেতু আমি ছোটোবেলা থেকে ভেবেছি ল’ পড়বো, সো আমার কাছে মনে হয়েছে যে হিউম্যানিটিজ আমার জন্য বেস্ট চয়েজ। আই এম ভেরি হ্যাপি, কারণ ল’ পড়ার সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলাম।
মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় যুক্ত হওয়ার গল্প
নাসরিন আলম : তখন আমার আর জাবিরের সেকেন্ড ইয়ার চলে। মাহিয়ারও তখন সেকেন্ড ইয়ার, শুধু এক সেমিস্টারের ডিফারেন্স। তখন আমাদের স্কুল অব ল’ থেকে একটা ইন্ট্রা ডিপার্টমেন্ট, ইন্ট্রার মুট কোর্ট কম্পিটিশন চালু করা হয়। এটা প্রতিবছরই করা হয় যাতে যাদের স্কিলস আছে, তাদের ডেভেলপ করে ইন্টারন্যাশনাল কমপিটিশনে পাঠানো যায়। সেখানে আমরা তিনজনই পার্টিসিপেট করি, বাট পার্টিসিপেট আমরা তখন একসঙ্গে করিনি, তখন আমরা একটা টিম হইনি। আমি আর জাবির যেহেতু সেইম ব্যাচমেটস, আমরা একসঙ্গে পার্টিসিপেট করি। কারণ লাইক মি অ্যান্ড জাবির উই কাম ফ্রম ডিবেট ব্যাকগ্রাউন্ড, পাবলিক স্পিকিং ব্যাকগ্রাউন্ড। পরে নিজেরাই চিন্তা করে ডিসকাস করে উই ফর্ম দা টিম। মাহিয়া অন দি আদার হ্যান্ড তখন শি হ্যাড অ্যানাদার পার্টনার, বাট উই অল পার্টিসিপেটেড। ওই কমপিটিশনে আমি আর জাবির হয়েছিলাম চ্যাম্পিয়ান, আমি হয়েছিলাম বেস্ট মুটার। আর মাহিয়ার টিম পেয়েছিল বেস্ট মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড। এই প্রতিযোগিতার পরে আমাদের কোচ, মেন্টর প্রফেসর মোস্তফা হোসেন আমাদের তিনজনকে একসঙ্গে একটা টিম করে দেন। আমি এবং জাবির টিমের স্পিকার হিসেবে আরগুমেন্ট উপস্থাপন করি। আর মাহিয়ার দায়িত্ব ছিল টিমের রির্সাচার হিসেবে। এরপর আমরা জেসাপের জন্য প্রস্তুতিটা শুরু করি। অনেক আগে থেকেই আমাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, অল থ্রি অব আস ওয়ার্ক টুগেদার। আমরা তিনজন ৭ মাস ধরে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। তারপর জেসাপে পার্টিসিপেট করলাম ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, আমরা ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ান হলাম। অলসো দেন ইন্টারন্যাশনাল রাউন্ডে কোয়ালিফাই করে আমরা ওয়াশিংটন ডিসিতে ২০২৫-এ এপ্রিলে উই রিপ্রেজেন্টেড বাংলাদেশ। ভার্সিটির আল্যামনাই ফাহিম আবরার আবিদ ভাইয়া, মাহবুবা কামাল আপু আমাদের বুদ্ধি, পরামর্শ দিয়ে সব সময় সহযোগিতা করেছেন।
জেসাপ মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা সম্পর্কে জানতে চাই—মাহিয়া রহমান, নাসরিন আলম, আবদুল্লাহ আল জাবির
মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা হলো একটি মর্যাদাপূর্ণ, দলভিত্তিক একাডেমিক অনুশীলন, যেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শিক্ষার্থীরা একটি কাল্পনিক আইনি বিরোধের ভিত্তিতে আপিল আদালতের কার্যক্রমের অনুকরণ করে। আমরা যদি আমি বলি, ফিলিপ সি জেসাপ মুট কোর্ট কম্পিটিশন হচ্ছে মুট কোর্ট কমপিটিশনের ওয়ার্ল্ড কাপ। এটা হচ্ছে ওল্ডেস্ট মুট কোর্ট কম্পিটিশন ইন দা ওয়ার্ল্ড। এটাকে ওয়ার্ল্ড কাপ হিসেবে গণ্য করা হয়ই এবং এখানে ১০০টির বেশি দেশ ইন্টারন্যাশনাল স্টেজে গিয়ে পার্টিসিপেট করে। তার মানে প্রতিটা বছর ৮০০ থেকে ৯০০টা টিম পার্টিসিপেট করে থাকে এই কমপিটিশনে। তারপর সিলেকশন হয়ে, বাছাই হয়ে, রিজিওনাল রাউন্ডস হয়। আমরা একদিক দিয়ে লাকি আমাদের যে রিজিওনাল রাউন্ড যেটা বাংলাদেশের, ওটা হচ্ছে থার্ড লার্জেস্ট ইন দ্যা ওয়ার্ল্ড। ইউএসএ, চায়না তারপরে ইন্ডিয়া ওরা তো অনেক বড় বড় ইন্টারন্যাশনাল রাউন্ড করে।
যে বছর আমরা অংশগ্রহণ করেছিলাম ২০২৫-এ, আমাদের দেশেরই ৪৪ ইউনিভার্সিটি টিম পার্টিসিপেট করেছিল। বাছাই পর্বের পরে হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল রাউন্ড। আমাদের টাইমে আমরা ন্যাশনাল পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ান ছিলাম। এটা ছিল আমাদের ইউনিভার্সিটির ইতিহাসে প্রথম চ্যাম্পিয়ানশিপ। ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি রানার-আপ ছিল। আমরা দুইটা টিম কোয়ালিফাই করেছিলাম ফর দ্যা ইন্টারন্যাশনাল রাউন্ড। তারপর ইন্টারন্যাশনাল স্টেজে গিয়ে আমরা ওয়াশিংটন ডিসিতে কমপিটিশন করলাম। ইন্টারন্যাশনাল রাউন্ডে আমরা চ্যাম্পিয়ান হইনি। আমাদের টাইমে ছিল সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটি। আজারবাইজানের টিমটার সঙ্গে ফাইট করেছি। আমরা ওদের হারিয়েছিলাম। আমাদের র্যাংকিং বিশ্বের অনেক ভার্সিটির থেকে ভালো ছিল। তবে বাংলাদেশি কোনো টিম এভার বিকাম চ্যাম্পিয়ান হয়নি। সত্যি কথা বলতে আমাদের বাংলাদেশ থেকে শুধু তিনজন মিলে একটা টিম বানানো হয়। কিন্তু জেসাপে পাঁচজন পর্যন্ত টিম মেম্বার হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশের পতাকা হাতে তিন তরুণের উচ্ছ্বাস
বর্তমান ব্যস্ততা
নাসরিন আলম : ইউনিভার্সিটিতে আমাদের স্কুল অব ল’ ডিপার্টমেন্টে ফিয়াত মেন্টর হিসেবে কাজ করছি। ফার্স্ট ইয়ার যে ল’ স্টুডেন্টসরা ভর্তি হচ্ছে, ওদের অ্যাকাডেমিক রিলেটেড গাইডেন্স, ইউনিভার্সিটি প্রসিডিউর রিলেটেড গাইডেন্স, নতুনরা যখন কোনো প্রবলেম ফেস করে অ্যাকাডেমিক্যালি অথবা অন্য কোনো ব্যাপারে দে ক্যান রিচ আউট টু মি। আমাদের এরকম অ্যাসাইন করে থাকে। পাশাপাশি পার্সোনালি এখন ইউএসের একটা কোম্পানিতে আই অ্যাম অ্যা লিগ্যাল এক্সিকিউটিভ। ফুল টাইম জব এটা। এখানে আমি মেইনলি আমার কাজগুলো লিমিটেড টু দ্যা কন্ট্রাকচুয়াল অবলিগেশনস, ট্যাক্স রিলেটেড থিংস, যেগুলা ইউএসএ তারপরে ইউরোপিয়ান কান্ট্রিসের সঙ্গে যেগুলা অ্যাগ্রিমেন্টস অ্যান্ড এভরিথিং ওইসব রিলেটেড কমপ্লায়েন্স। এটার পাশাপাশি আমি ইউনিলিভারে স্পার্ক ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর। স্পার্ক ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর হিসেবে আমার কাজ হচ্ছে ইউনিলিভারের যত সোর্সিং, হায়ারিং করে প্রতিটা ক্যাম্পাস থেকে বেস্ট ক্যান্ডিডেটস সিলেক্ট করে। আমার ক্যাম্পাসে আই অ্যাম রেসপন্সিবল টু ডু দ্যাট ফর দেম। ওদের যখন কোনো রকম ভ্যাকেন্সি থাকে আমি আমার ক্যাম্পাসের যত চ্যানেলস ওইটার থ্রুতে বেস্ট ক্যান্ডিডেটদের ইনফরমেশনগুলো ওদের পাঠাই। তার পাশাপাশি ইউনিলিভারের যত ইভেন্টস হচ্ছে ওগুলা আমি ক্যাম্পাসে সব অর্গানাইজ করছি। ইন্ডিপেন্ডেন্টলি আমি হচ্ছে আমার নিজস্ব রিসার্চ করছি। এছাড়া আমি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ফিমেল বাস্কেট বল টিমের সদস্য হিসেবে জাতীয় পর্যায়ের ফেডারেশন কাপ টুর্নামেন্টগুলো একটিভলি পার্টিসিপেট করছি। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হাফিজুর রহমান খান স্যারের করপোরেট চেম্বারে ইন্টার্নশিফ করছি।
আবদুল্লাহ জাবির : বর্তমানে আমার মূলত পড়াশোনা নিয়েই চলছে। এর বাইরে শুধুমাত্র আমার পারিবারিক ব্যবসা-বাণিজ্যের লিগ্যাল কিছু মামলা-মোকদ্দমা ড্রাফটিং এইগুলার বাদে আমার আপাতত কোনো ব্যস্ততা নেই।
মাহিয়া রহমান : আমিও নাসরিনের মত ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ফিয়াত মেন্টর। ফিয়াত মেন্টর হিসেবে আমরা ফিয়াত স্টুডেন্ট ডিল করছি। ফার্স্ট ইয়ারের শিক্ষার্থীদের হেল্প করা, গাইড করা, ন্যাভিগেট করা আমাদের কাজ। এটা হচ্ছে ব্র্যাকে আমার আপাতত প্রাইমারি কাজ। এছাড়া আমি বাংলাদেশ সোসাইটি অব ইন্টারন্যাশনাল ল’ এটার কো-ফাউন্ডার। এটা হচ্ছে একটা অর্গানাইজেশন। এই অর্গানাইজেশনের মেইন মোটো জেনারেটিং নেক্সট জেনারেশন ইন্টারন্যাশনাল লইয়ার্স।
আমাদের ল’স্কুলেরই দুইজন অ্যালামনাই, ফাহিম আবরার আবিদ ভাইয়া, মাহবুবা কামাল আপু, আরেকজন নিসর্গ নির্জন ভাইয়া মিলে এই অর্গানাইজেশনটা শুরু করলাম। পাশাপাশি আমি গ্লোবাল হিউম্যান রাইটস ডিফেন্স, ওটা হচ্ছে নেদারল্যান্ডসের হেগে, ওখানে আমি ইন্টার্নশিপ করেছি। তারপর ব্লাস্টে রিসার্চ ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করেছি। আমি বর্তমানে বেসিক্যালি রিসার্চ ফোকাসড। আমি রিসার্চ আর্টিকেল, বুক চ্যাপ্টার এগুলো লিখছি।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে তিন তরুণের সঙ্গে ঢাকা পোস্টের বিশেষ প্রতিনিধি মেহেদী হাসান ডালিমের আড্ডা
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নাসরিন আলম : অনেক ভাস্ট এটা। মানে অনেক কিছুইতো করছি একসঙ্গে। আমি বাস্কেটবল প্লেয়ার। আমাদের ব্র্যাকের টিমেও খেলি। খেলাধুলাতেও এরকম যে খেলাটা খেলে আমার ভালো লাগবে, যেটা আমি পারব, ওটা আরও ভালো কীভাবে করব। এরকম একটা মাইন্ডসেট আমার। স্কুল অব ল’ -তে ভর্তি হই তখন আমি মনে করতাম যে আচ্ছা ল’ পড়লে হয়তো শুধু অ্যাডভোকেট অথবা জাজ। এতটুকুই রেস্ট্রিকটেড। বাট দ্যা মোর আই অ্যাম হিয়ার দ্যা মোর আই অ্যাম লার্নিং, যে এখানে অনেক অপরচুনিটিজ আর ভাস্ট। রিসার্চ, অ্যাডভোকেসি সব সুযোগ আছে। আমি চাই একটা ভালো কিছু করার, ফর দ্যা সোসাইটি ইন জেনারেল। আমার ফ্যামিলিতে ওরকম আমার ফুপি ছাড়া ল’ ব্যাকগ্রাউন্ডের আর কেউ নাই। আমার ফুপি তো বলে, তুমি জুডিশিয়ারিতে এক্সাম দিবা, তুমি ওইটা করবা। বাট আমার কথা সবসময় এটা না। যেটা আমার ভালো লাগবে, যেটা করে আমি বুঝতে পারব যে সোসাইটির একটা জায়গায় কন্ট্রিবিউট করছি নিজেকে। সেটা বাই হিউম্যান, হিউম্যান রাইটস প্র্যাকটিস হোক, সেটা বাই কর্পোরেট অথবা বাই এনি আদার এনভায়রনমেন্টাল ল’ রিলেটেড ফিল্ড, যেটাই হোক না কেন, সো ওটা করব।
সৈয়দ আবদুল্লাহ জাবির : আমি সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস করতে চাই, একটা ল’ ফার্ম করতে চাই নিজের। আমার ছোটোবেলা থেকে ডক্টর এম জহির (প্রয়াত প্রখ্যাত আইনজীবী) অনেক বড় একজন আইকন। আমার সৌভাগ্যবশত ডক্টর এম জহিরের সঙ্গে ছোটোবেলায় টেনিসও খেলেছি। তারপরে জাস্টিস হাবিবুর রহমান, সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, আমাদের ডিন স্যারের বাবা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব উদ্দিন, উনারা আমার আইকন অনেক আগে থেকে। প্র্যাকটিসের বাইরেও দেশের জন্য উনারা যে একদম নীরবে একটা অবদান রেখে গেছেন, আমাদের বিচার ব্যবস্থাকে আরও এক্সেসিবল করার জন্য। ওই রকমের যাতে আমি একটা কন্ট্রিবিউশন রেখে যেতে পারি সোসাইটিতে, এটাই আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
মাহিয়া রহমান : আগে তো ভাবতাম ব্যারিস্টার হবো, জাজ হবো। আমি যখন মুট করলাম, রিসার্চ করলাম, তখন আমি রিয়ালাইজ করলাম যে আমার ইন্টারন্যাশনাল ল’, মানে ল’ -তে তো অনেক ফিল্ড আছে। ধরেন, কেউ হচ্ছে পার্টিকুলারলি ইন্টারন্যাশনাল ল’ না দেশের কন্সটিটিউশন নিয়ে কাজ করবে। কেউ হচ্ছে অন্য কোনো কিছু নিয়ে কাজ করবে। ইন্টারন্যাশনাল ল’, ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটারিয়ান ল’, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ল’, এ দিকটায় হচ্ছে আমার ইন্টারেস্টটা বেশি। রিসার্চে আমি আগাতে চাই। রিসার্চটা কিন্তু আমার লাগে। আমি যদি অ্যাডভোকেসি করি, কোর্টে যাই, আমার যদি ওই স্কিলটা থাকে, আমি কিন্তু একজন ভালো অ্যাডভোকেট হবো। কারণ হচ্ছে, আমার তো ওই রিসার্চ স্কিলটা আছে। আমি ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশনগুলোতে কাজ করতে চাই। সহজ কথায় বলতে গেলে আমি ইন্টারন্যাশনাল কোর্টস অ্যান্ড ট্রাইব্যুনালের জাস্টিস, জাজ এগুলো হতে চাই। যদিও অনেক পথ, সুদূর পথ আগাতে হবে।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট
.webp)

.webp)







