সংগৃহীত
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আবারও সাপের কামড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সাপে কামড়ানোর পর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পথেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
সোমবার (১২ মে) মায়ের সঙ্গে পানি আনতে গিয়ে সাপের কামড়ে মো. আয়াত নামে আড়াই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের তৈয়্যবিয়াপাড়ায় সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আয়াত ওই এলাকার মো. রবিউল হোসেনের ছেলে।
নিহত শিশুর চাচা মুহাম্মদ শওকত বলেন, সাপে কামড় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা মোটরসাইকেলে করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। কিন্তু সেখানে রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা সময় নষ্ট করা হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এটি চিকিৎসকদের চরম অবহেলা। সময়মতো অ্যান্টিভেনম না দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।
সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল আলম বলেন, ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে চিকিৎসকদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামাঞ্চলে সাপে কাটার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়লেও উপজেলা পর্যায়ের অধিকাংশ হাসপাতালে এখনো পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত নেই। ফলে জরুরি মুহূর্তে রোগীদের জেলা সদর কিংবা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এতে সময় নষ্ট হয়, আর সেই সময়ই অনেকের জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা যেন থামছেই না। গত ২৮ এপ্রিল ঢাকা পোস্টে ‘সাপে কাটে গ্রামে, অ্যান্টিভেনম থাকে শহরে; মৃত্যু হয় পথেই’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে জেলার ১৫টি উপজেলার অ্যান্টিভেনম সংকটের কথা উল্লেখ করা হয়। এছাড়া গত এক বছরে শিক্ষক, শিশু, শিক্ষার্থী ও গৃহবধূসহ নানা বয়সী ২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সময়মতো অ্যান্টিভেনম দিতে না পারায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।
সচেতন মহল বলছে, শুধু আশ্বাস বা সভা-সেমিনারে সীমাবদ্ধ না থেকে উপজেলা পর্যায়ে জরুরি ভিত্তিতে অ্যান্টিভেনম সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাপে কাটার পর দ্রুত চিকিৎসা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগই রোগীকে বাঁচানোর প্রধান উপায়। কিন্তু উপজেলা হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম, প্রশিক্ষিত জনবল ও পর্যবেক্ষণ সুবিধা না থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, সাপে কাটার রোগীদের অনেকেই দেরিতে হাসপাতালে আসেন। আবার উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক সময় রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে যায়। দ্রুত অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করা গেলে অনেক প্রাণ রক্ষা সম্ভব।
এদিকে ঢাকা পোস্টে প্রতিবেদন প্রকাশ, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের নানা আশ্বাসের পরও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে এখনো পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম না থাকায় চিকিৎসা পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা। অনেক ক্ষেত্রেই জেলা শহরে নেওয়ার পথেই শরীরে বিষ ছড়িয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন সাপে কাটা রোগীরা।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, খুব শিগগিরই ঢাকা থেকে সরবরাহ আসবে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। তবে এই ভ্যাকসিন অত্যন্ত দামি হওয়ায় চাহিদা মতো জোগান নিশ্চিত করা একটি বড় সীমাবদ্ধতা। এক ডোজ ভ্যাকসিনের দাম প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। অনেক ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ে এটি কিনতেও পাওয়া যায় না। বর্তমানে ইনসেপটা কোম্পানিই এটি তৈরি ও বিপণন করছে। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে না পারায় সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।
এ ছাড়া উচ্চ মূল্যের কারণে ১ থেকে ২ ডোজের বেশি মজুত রাখার সক্ষমতাও অনেক হাসপাতালে নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উপজেলা পরিষদের কাছেও চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এরপরও সংকটকালীন সময়ে হাতে অ্যান্টিভেনম না থাকায় রোগীর মৃত্যু সত্যিই দুঃখজনক। আমাদের সবাইকেই এ ব্যাপারে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট
.webp)

.webp)







