সংগৃহীত
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় এইচবিবি (ইটের সলিং) সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহার ও দায়সারাভাবে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের শুরু থেকেই অনিয়মের বিষয়টি নজরে আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত এই অনিয়ম বন্ধ করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নের তারাউজিয়াল ও গয়েশপুর ইউনিয়নের বড়তলা গ্রামে গিয়ে নির্মাণকাজে এসব অনিয়মের চিত্র দেখা যায়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, তারাউজিয়াল গ্রামে ১ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা এইচবিবি নির্মাণে ৬০ লাখ টাকা এবং বড়তলা গ্রামে একই দৈর্ঘ্যের আরেকটি রাস্তার জন্য আরও ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে ‘মেসার্স আলী মটরস’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে কাজ করা হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তারাউজিয়াল গ্রামের বাসিন্দা সমাজসেবক শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘সরকারি রাস্তা সঠিকভাবে নির্মাণ করা খুব জরুরি। নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করলে রাস্তা টেকসই হবে না। দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’
বড়তলা গ্রামের বাসিন্দা করিম মিয়া বলেন, ‘গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য এই রাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কাজের মান নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। সঠিকভাবে তদারকি করা দরকার।’
স্থানীয়রা জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ইট ব্যবহার করে সমানভাবে বিছিয়ে পানি দিয়ে রোলারের মাধ্যমে ড্রেসিং করার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। কোথাও কোথাও দূরত্ব রেখে ভাঙা ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে, যা সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। তাদের আশঙ্কা, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ শেষ হলে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয় হবে এবং ভবিষ্যতে এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সুমন বলেন, ‘কিছু নিম্নমানের ইট ছিল, সেগুলো ইতোমধ্যে পরিবর্তন করা হয়েছে। কাজের মান ঠিক রেখেই নির্মাণকাজ চলছে।’
এদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুহুল আমিন পাপন বলেন, ‘অনিয়মের বিষয়টি ঠিকাদারকে জানানো হয়েছে। নিম্নমানের কিছু ইট ফেরত পাঠানো হয়েছে। আমরা কাজের মান ভালো করার চেষ্টা করছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। আমি নিজেই দ্রুত রাস্তাটি পরিদর্শনে যাব।’
স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে মানসম্মতভাবে সড়ক নির্মাণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
.webp)









