শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

আম খেলে কি সত্যিই শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে?

আম খেলে কি সত্যিই শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে?

সংগৃহীত

আম হলো এমন একটি ফল যা আমরা সবাই খেতে ভালোবাসি, কিন্তু এর সম্পর্কে অনেক ধারণা আমরা করি যেগুলো আসলে সঠিক না কি ভুল, তা আমরা বেশিরভাগই জানি না। গ্রীষ্মের সঙ্গে সঙ্গে আম আসে এবং সেইসঙ্গে খাবারের থালা এবং আমাদের আলোচনার অংশ হয়ে যায়। সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে গভীর রাতের ভোজন পর্যন্ত, এর আকর্ষণ এড়ানো প্রায় অসম্ভব বলে মনে হয়। তবুও, প্রতি ঋতুতেই বড়দের কাছ থেকে একই সতর্কবাণী আসে- “বেশি আম খেও না, এতে শরীর গরম হয়।”

তাহলে, এর মধ্যে কি কোনো সত্যতা আছে? নাকি এটি কেবল আরেকটি ঋতুভিত্তিক লোককথা যা সহজে মিলিয়ে যেতে চায় না?

আম কি সত্যিই শরীরকে গরম করে?

“তাপ উৎপাদনকারী খাবার” ধারণাটি প্রচলিত খাদ্য জ্ঞানে বেশ সাধারণ। কিন্তু আধুনিক পুষ্টিবিদ্যা বিষয়টিকে একটু ভিন্নভাবে দেখে।
পুষ্টিবিদদের মতে , “আমকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি উষ্ণ ফল হিসাবে বর্ণনা করা হয়, যদিও বৈজ্ঞানিকভাবে বলতে গেলে, কোনো খাবারকে উষ্ণ বা শীতল হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করার চেয়ে তার রাসায়নিক গঠনের ভিত্তিতেই বেশি চিহ্নিত করা হয়।”

আমে প্রাকৃতিক শর্করা এবং ম্যাঙ্গিফেরিনের মতো উদ্ভিদ যৌগ থাকে। এগুলো হজমের সময় শরীরে তাপ উৎপাদন সামান্য বাড়িয়ে দিতে পারে। যদিও আম খাওয়ার ঠিক পরেই শরীরে তাপের পরিমাণ বাড়বে, তবে এটি জ্বরের মতো শরীরের মূল তাপমাত্রা বাড়াবে না।

সহজ কথায়, আম আসলে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ায় না। মানুষ যা অনুভব করে তা হলো বিপাকক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত এক ধরনের হালকা উষ্ণতা এবং এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়।

বেশি আম খেলে আসলে কী হয়

একবারে একটি আম উপভোগ করা আর তিন-চারটি আম খাওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার। শরীর শুধু ফলের প্রতিই নয়, বরং এর পরিমাণের প্রতিও প্রতিক্রিয়া দেখায়। বেশি আম খেলে আপনার স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে। যেমন পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া বা পেটে খিঁচুনি, কারণ এই ফলে উচ্চ মাত্রায় ফাইবার এবং ফ্রুক্টোজ থাকে।

অতিরিক্ত আম খাওয়ার ফলে যা হতে পারে

হজমের অস্বস্তি: অতিরিক্ত ফাইবার এবং ফলের চিনি অন্ত্রের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি: আম প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ত্বকের প্রতিক্রিয়া: কিছু লোক ব্রণ বা ঠোঁটের চারপাশে জ্বালাপোড়ার কথা জানান।

ওজন বৃদ্ধি: বেশি পরিমাণে খেলে আমে ক্যালোরির পরিমাণ বেশি থাকে।

এর একটি কম পরিচিত প্রভাবও রয়েছে। আমের খোসার কাছের আঠালো রসে ইউরুশিওল-এর মতো যৌগ থাকে, যা পয়জন আইভি-তেও পাওয়া যায়। এ কারণেই আম খেলে কারও কারও ঠোঁটে চুলকানি বা শিরশিরে অনুভূত হতে পারে।

গ্রীষ্মকালে আম খেলে কেন গরম লাগে?

এই গরমের অনুভূতি শুধু ফলের কারণে হয় না। এটি ঋতু এবং শরীরের প্রতিক্রিয়ার ওপরও নির্ভর করে। গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে হজম প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর হয়ে যায় এবং ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা বেশি দেখা দেয়। এর সঙ্গে বেশি পরিমাণে মিষ্টি ফল যোগ করলে, শরীর ভারী বা গরম অনুভূত হতে পারে। পুষ্টিবিদরা উচ্চ-চিনিযুক্ত ফল পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন, বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের সময়।

সুতরাং, মানুষ যে আম খেলে শরীর গরম হওয়ার অভিযোগ করে, তা প্রায়শই হজম, অতিরিক্ত চিনি এবং গ্রীষ্মকালীন পানিশূন্যতার মিশ্রণ, শুধুমাত্র ফলের কারণে নয়।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

০২ মে ২০২৬ || ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১২৯জন